কেতকী দত্ত(১৩ জুলাই ১৯৩৪ - ৭ জুলাই ২০০৩) [১] ছিলেন বাংলার পেশাদার রঙ্গমঞ্চের খ্যাতনামা অভিনেত্রী ও গায়িকা। [২][৩][৪]

কেতকী দত্ত
জন্ম(১৯৩৪-০৭-১৩)১৩ জুলাই ১৯৩৪
মৃত্যু৭ জুলাই ২০০৩
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
জাতীয়তাভারতীয়
পুরস্কারসংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার(১৯৯৯-২০০০)

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

কেতকী দত্তের জন্ম ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই জুলাই বৃটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। পিতা তারাকুমার ভাদুড়ী এবং মাতা ছিলেন মঞ্চপ্রভা প্রভা দেবী। কেতকীরা ছিলেন দুইবোন এবং তিন ভাই। বড় ভাই চপল ভাদুড়ী থিয়েটারে মহিলা ছদ্মবেশে অভিনয় করতেন। কেতকী শিশির কুমার ভাদুড়ীর কাছে প্রথম অভিনয় শিক্ষা নেন। নাচ শেখেন অভিনেত্রী ছোটো রাজলক্ষ্মীর কাছে আর গান শেখেন মায়ের কাছে। নাচ, গান, অভিনয়- সবমিলিয়ে সেযুগের বাংলা থিয়েটারে যে 'কমপ্লিট অভিনেত্রী' - তারা সুন্দরী, প্রভা দেবী ঘরানার শেষ স্মারক চিহ্ন তিনি। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মোহন দত্তকে বিবাহ করেন।

পেশাসম্পাদনা

শৈশব থেকেই কেতকী দত্ত পেশাদার অভিনেত্রী ছিলেন। [৫] শ্রীরঙ্গম, স্টার, রঙমহলে অভিনয়ের পাশাপাশি ঋত্বিক ঘটকের নাগরিক,কোমল গান্ধার ছবিতে অভিনয় করেছেন। চতুর্মুখ নাট্যদলের ব্যানারে ১৯৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতাপমঞ্চে বারবধূ নাটকে তার অভিনয় বিশেষ উল্লেখযোগ্য। যদিও থিয়েটার পণ্ডিতরা সেসময় "অশ্লীল অশ্লীল" বলে বিতর্ক সৃষ্টি করে নাটকটি শেষপর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। পরে অবশ্য সবিতাব্রত দত্তের রূপকার প্রযোজনায় অ্যান্টনী কবিয়াল-এর 'সৌদামিনী' এবং 'নটী বিনোদিনী'-র 'বিনোদিনী' ভূমিকায় অভিনয় করে স্বমহিমায় মঞ্চে ফিরে আসেন। অন্যদিকে ঊষা গাঙ্গুলির প্রথম বাংলা নাটক মুক্তি-তে সহায়সম্বলহীন এক দুঃস্থ বিধবার চরিত্রে অভিনয় করে সকলকে চমকে দেন। এর কয়েক বছর আগে ঈশিতা মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় 'কমলে কামিনী' নাটকে তার অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম গ্রুপ থিয়েটারে যোগদান। ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে "এক্ষণ" নামের এক দলে বারমাইস্যানাটকে অভিনয় করেছিলেন,সেখানে চোদ্দটি গান তিনিই গেয়েছিলেন। "কমলে কামিনী" নাটকে অভিনয়ের জন্য ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে মঞ্চপ্রভা নাম দিয়ে দল গঠন করে 'নিজ ভূমে' নাটকে একক অভিনয়ও করেছেন। থিয়েটারের গানের অনুষ্ঠান করেছেন তিনি। তিনি একনাগাড়ে ১৩০ খানা গান স্মৃতি থেকে গাইতে পারতেন।[১]

চলচ্চিত্রের তালিকাসম্পাদনা

বছর খেতাব ভূমিকা পরিচালক টীকা
১৯৫০ কঙ্কাল অনিমা নরেশ মিত্র
১৯৫৩ নাগরিক ঋত্বিক ঘটক ১৯৭৭ খ্রিঃ মুক্তিপ্রাপ্ত[৬]
১৯৭২ পদিপিসির বর্মিবাক্স [৭]
১৯৮৯ সতী [৭]

গ্রন্থ-পঞ্জীসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা- ৯৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. Gupta, Arundhati (৭ এপ্রিল ২০০০)। "Interesting interaction"TheHindu। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৮-০৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "Children of sex workers pay tribute to performers"TOI। The Times of India। ১২ আগস্ট ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৮-০৮ 
  4. Sen, Zinia (২০ নভেম্বর ২০১৭)। "One of Rita Koiral's most significant works remains unacknowledged"TOI। The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-৩০ 
  5. Bagchi, Jasodhara (২০০৫)। The Changing Status of Women in West Bengal, 1970–2000: The Challenge Ahead। SAGE Publications India, 2005। পৃষ্ঠা 99। আইএসবিএন 9788132101789 
  6. Directory of World Cinema: INDIA। Intellect books, 2015। জুলাই ২০১৫। পৃষ্ঠা 41। আইএসবিএন 978-1-84150-622-7 
  7. Encyclopedia of Indian Cinema। Routledge, 2014। ২০১৪। পৃষ্ঠা 492। আইএসবিএন 978-1-135-94318-9