কৃষ্ণপক্ষ (চলচ্চিত্র)

আফরোজ শাওন পরিচালিত ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা চলচ্চিত্র

কৃষ্ণপক্ষ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদেরকৃষ্ণপক্ষ’ উপন্যাস অবলম্বনে মেহের আফরোজ শাওন পরিচালিত একটি প্রণয়ধর্মী নাটকীয় চলচ্চিত্র।[২] এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মেহের আফরোজ শাওন চলচ্চিত্র পরিচালনায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন।[৩] এতে অভিনয় করেন রিয়াজ, তানিয়া আহমেদ, ফেরদৌস আহমেদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, লাবণ্য চৌধুরী, ফারুক আহমেদসহ আরও অনেকে। ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ২০১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, তবে সারা দেশে মুক্তি পায় ২৬ ফেব্রুয়ারি।[৪][৫][৬][৭][৮]

কৃষ্ণপক্ষ
কৃষ্ণপক্ষ চলচ্চিত্রের পোস্টার
পরিচালকমেহের আফরোজ শাওন
প্রযোজকইমপ্রেস টেলিফিল্ম
রচয়িতাহুমায়ুন আহমেদ
চিত্রনাট্যকারমেহের আফরোজ শাওন
কাহিনিকারহুমায়ূন আহমেদ
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারসংগীত:
এস আই টুটুল
আবহ সংগীত:
ইমন সাহা
চিত্রগ্রাহকরায়হান খান[১]
সম্পাদকছ‌লিম উল্লাহ্ ছ‌লি[১]
প্রযোজনা
কোম্পানি
পরিবেশকজাজ মাল্টিমিডিয়া
মুক্তি
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ (2016-02-13) (প্রথম প্রদর্শনী)
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ (2016-02-26) (বাংলাদেশ)
স্থিতিকাল১৪১ মিনিট
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা

কাহিনি

সম্পাদনা

অরু তার পরিবারের কারও সম্মতি ছাড়াই মুহিবকে বিয়ে করে। বিয়ের পরে তারা মুহিবের বন্ধুর বাসায় যায়। মুহিব তার নিজের জন্য একটি চাকরি জোগাড় করার চেষ্টা করতে থাকে, তবে অরুর পরিবার অন্য কথা ভেবে নেয় এবং গল্পটি নতুন দিকে মোড় নেয়।

চলচ্চিত্রটি মুহিব এবং অরুর প্রেমের গল্প নিয়ে আবর্তিত হয় যেখানে দুজনে একসাথে থেকে একসাথ নয়। ছোট বেলায় মুহিব তার বাবা মাকে হারায়। তাঁর একমাত্র বোন জেবা একজন অভিজাত বুর্জোয়া পুরুষকে বিয়ে করে, যিনি কঠোর এবং রোবোটিক ধরনের। বোনের বিয়ের পর তার সাথে থাকতে এসে দুলাভাইয়ের কঠিন অনুশাসনের মুখোমুখি হয় মুহিবকে। তারপরও এই দুঃখী ভাইবোনের জীবন চলতে থাকে পরস্পরের প্রতি পরম মমতায়। তার বোন এবং দুলাভাইয়ের এক মেয়ে রয়েছে, নাম সারা। পরিবারটি দেখতে সুন্দর হলেও, পরিবারে ভালবাসা এবং স্নেহের অভাব রয়েছে। মুহিব সর্বদা তার দুলাভাইকে ভয় পায়, যিনি মুহিবের পিতৃতুল্য তবে স্নেহ মমতা ছাড়াই মুহিবকে শাসন করেন। মুহিব অরুর প্রেমে পড়ে, অরুর হাত ধরে মুহিবের জীবনে ভালোবাসা স্পর্শ করে। অরুকে সঙ্গে নিয়ে মুহিব দেখতে শুরু করে এক নতুন জীবনের স্বপ্ন। অরুর প্রেমে পড়ে মুহিব হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে তাকে বিয়ে করেন। অরুর পরিবারও এটি জানত না। তাদের বিয়ের ঠিক পরে মুহিবের দুলাভাই মুহিকে শহরের বাইরে একটি চাকরিতে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেয়। মুহিব চাকরিতে যাবার পথে এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে ও কোমায় চলে যায়, যা পরিবারের সকলের জন্য বিপর্যয় নিয়ে আসে। মুহিবের বোন, হতবিম্ভ হয়ে, জীবনে প্রথমবারের মত স্বামীর বিরুদ্ধে কথা করে এবং সারা জীবন তাঁর রোবট ধরনের আচরণের জন্য তাঁকে অপমান করে। অন্যদিকে অরুর পরিবার ইতিমধ্যে অরুর জন্য এক বর নির্ধারণ করে রেখেছিল এবং মুহিবের সাথে অরুর বিবাহ তাঁদের অজানা ছিল। শেষদিকে, যখন অরু দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে পারে, অরু তখন তাদের গোপন বিবাহের কথা প্রকাশ করে। অরু হাসপাতালে ছুটে যায় এবং মুহিবের স্ত্রী হিসেবে কোমা থেকে মুহিবের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে।

অভিনয়

সম্পাদনা
অতিথি উপস্থিতি

নির্মাণ

সম্পাদনা

কৃষ্ণপক্ষ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মেহের আফরোজ শাওন চলচ্চিত্র পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। ৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখ থেকে ছবিটির শ্যুটিং শুরু হয় ও ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে শুটিং শেষ হয়।[৯]

মুক্তি

সম্পাদনা

কৃষ্ণপক্ষ চলচ্চিত্রটি ১৬টি সিনেমা হলে মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রের পরিবেশকের দায়িত্বে ছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া। তবে মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পরিবেশনার দায়িত্ব নিজের হাতেই নিয়ে নিয়েছিলো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে ঢাকার বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রিমিয়ার হয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি আমন্ত্রণ-শুধুমাত্র প্রিমিয়ার হয়। ২৩ মার্চ, ২০১৬ সালে ছবিটি সিঙ্গাপুরে মুক্তি পায়। ১৭ এপ্রিল ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ডের ১১তম জেনেভা আন্তর্জাতিক প্রাচ্য চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটি দেখানো হয়। ২২ এপ্রিল ২০১৬ সালে, ফ্রান্সে লে সম্ব্রে কুইনজাইন শিরোনামে এবং ২১ মে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্রটি দেখানো হয়।

সঙ্গীত

সম্পাদনা
কৃষ্ণপক্ষ
কর্তৃক সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবাম
মুক্তির তারিখ২০১৬
ঘরানাচলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক
নং.শিরোনামগায়ক/গায়িকাদৈর্ঘ্য
১."তিন নম্বর ভূতের গলি"এস আই টুটুল 
২."চলোনা বৃষ্টিতে ভিজি"এস আই টুটুল, জারিন তাসনিম নাওমি 
৩."ঠিকানা আমার"এস আই টুটুল 
৪."যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো"মেহের আফরোজ শাওন 

পুরস্কার

সম্পাদনা
৪১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. "Team – KrishnoPokkho"। ১০ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  2. "শুরু হচ্ছে রিয়াজ-মাহির 'কৃষ্ণপক্ষ'" 
  3. "'কৃষ্ণপক্ষ' ছবির আনন্দঘন প্রিমিয়ার"jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩ 
  4. "কৃষ্ণপক্ষের জ্যোৎস্নায়..." 
  5. হাসান, ইমতিয়াজ। "'কৃষ্ণপক্ষ'-এর সেটে একদিন"bangla.bdnews24.com। ২০১৯-০৭-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩ 
  6. "'বেপরোয়া'র দাপটে কোণঠাসা 'কৃষ্ণপক্ষ'!"বাংলা ট্রিবিউন। ২০১৯-০৭-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩ 
  7. "হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করে তারা শুরু করলেন 'কৃষ্ণপক্ষ'"ভোরের কাগজ। ২০১৫-১০-০৩। ২০১৯-০৭-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩ 
  8. "ফেব্রুয়ারিতে প্রেক্ষাগৃহে কৃষ্ণপক্ষ"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৩ 
  9. "অবশেষে শেষ হলো 'কৃষ্ণপক্ষ'"www.bhorerkagoj.com। ২৮ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২০ 

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা