কাইপাড় ক্ষেত্রগুলি হল ভারতের কেরল রাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে লবণপ্রবণ প্রাকৃতিক জৈব ধান চাষের ক্ষেত। ধান চাষের ঐতিহ্যবাহী কাইপাড় ব্যবস্থা হল একীভূত জৈব কৃষিকাজ পদ্ধতি, যেখানে উপকূলীয় জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ঈষৎলোনা জলাভূমিতে ধান চাষ এবং মৎস্য চাষ একসাথে হয়। এটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা বৌদ্ধিক সম্পত্তি সরকারের অংশ।[১][২]এজোম রাইস বিশেষত এই পরিবেশের জন্য বিকাশ করা হয়েছে।[৩]

কাইপাড় চালের স্বতন্ত্রতাসম্পাদনা

  • প্রাকৃতিকভাবে জৈব উৎপাদিত ধানের গাঢ় সরিষা হলুদ বর্ণ।
  • শস্যদানার ভিতরের অংশটি লাল।
  • আঠালো নয়।
  • সুস্বাদু।
  • উচ্চ মাত্রায় লৌহ এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ।
  • অন্য চাল থেকে স্বতন্ত্র এবং প্রাকৃতিকভাবে ঘটা বৈশিষ্ট্য।[২]

আকর্ষণীয় তথ্যসম্পাদনা

❖ কেরালায় অনন্য বাস্তুতন্ত্রের সাথে প্রায় ২১৭ জলাভূমি রয়েছে।

❖ কাইপাড় চাষের আনুমানিক এলাকা প্রায় ৪১০০ হেক্টর।

❖ কেরালায় চাল উৎপাদনের ৩৭% আসে নিম্নভূমি বাস্তুতন্ত্র থেকে।

❖ ধানক্ষেত্রগুলি কেরালার পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রগত ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এগুলি বন্যার জলের জন্য প্রাকৃতিক নিকাশী পথ সরবরাহ করে।

❖ অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানের কারণে কাইপাড় ধানের তুষ থেকে ৪০% বেশি দাম পাওয়া যায়।

পুনরুজ্জীবনসম্পাদনা

লবনাক্ত জলে ধান চাষের এক পদ্ধতি, কাইপাড়কে শ্রমিকের ঘাটতি এবং অন্যান্য কারণে কৃষকরা প্রায় পরিত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এই ধানের বিরাট চাহিদার জন্য এই চাষ পদ্ধতি পুনরুজ্জীবিত হতে চলেছে।

২০১৪ সালে কাইপাড় চাল ভৌগোলিক নির্দেশকক চিহ্ন অর্জন করেছিল।

এজোম, চেরুক্কুন্নু, পাতুভাম, চেরুথাজম এবং রামন্থালী পঞ্চায়েতে কাইপাড় চাষ করা হয়।[৪]

প্রকল্পসম্পাদনা

কাসারাদোদ জেলার, পিলিকোডের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক জমা দেওয়া, "যান্ত্রিক চাষ, ধান সংরক্ষণ এবং জীব বৈচিত্রের মাধ্যমে জৈব জলাভূমিতে কাইপাড়ের বিকাশ" শিরোনামের একটি প্রকল্প, সরকারের প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল উত্তর কেরালার জলাভূমির ব্যাপক বিকাশের জন্য একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, মালবার কাইপাড় ফারমার্স সোসাইটির (এমকেএফএস) জিআই-চিহ্নযুক্ত "কাইপাড় ধান" এর উৎপাদন ও বিপণনের উন্নতি, কাইপাড় জলাশয়ের যান্ত্রিকীকরণ, এমকেএফএসের পৃষ্ঠপোষকতায় মহিলা, এসসি / এসটি কৃষক এবং শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "GI tag for Kaipad rice to boost cultivation"The Hindu। ৫ আগস্ট ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৮ – www.thehindu.com-এর মাধ্যমে। 
  2. "KAIPAD RICE"। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২১ 
  3. Sudhi, K.S. (১৯ জানুয়ারি ২০১০)। "Crops cleared for farming" (HTML)The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৮The two salinity-resistant varieties, ‘Ezhome 1 and 2,’ were developed for Kaippad area of Kannur. 
  4. "Kaipad farming on revival path"। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২১ 
  5. "Kaipad farming project gets nod"। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২১