প্রধান মেনু খুলুন

কলকাতা শ্রেণী ডেস্ট্রয়ার

ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধ জাহাজের একটি শ্রেণি

কলকাতা শ্রেনি (প্রকল্প ১৫এ) হ'ল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত ডেস্ট্রয়ার শ্রেনির স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ, যা ভারতীয় নৌবাহিনীতে নিযুক্ত রয়েছে। এই শ্রেনিতে মোট তিনটি জাহাজ রয়েছে, যথা- আইএনএস কলকাতা, আইএনএস কোচি এবং আইএনএস চেন্নাই, যার সবগুলি মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (এমডিএল) দ্বারা নির্মিত হয় এবং জাহাজগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত বৃহত্তম ডেস্ট্রয়ার জাহাজ। নির্মাণের বিলম্বের কারণে এবং সমুদ্রে পরীক্ষামূলক ভ্রমণে কিছু সমস্যার কারণে কলকাতা-শ্রেনির প্রথম জাহাজের প্রাথমিক নিযুক্তিকরণ ২০১০ সাল থেকে পিছিয়ে ১৬ অগাস্ট ২০১৪ সালে সম্পূর্ণ হয়।[১২][১৩] সব শেষে আইএনএস চেন্নাই জাহাজের নিযুক্তিকরণ ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে সম্পূর্ণ হয়।[১৩]

INS Kolkata entering Mombasa, Kenya.jpg
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে আইএনএস কলকাতার প্রবেশর দৃশ্য
শ্রেণি'র সারাংশ
নাম: কলকাতা শ্রেনি
নির্মাতা: মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড
ব্যবহারকারী:  ভারতীয় নৌবাহিনী
পূর্বসূরী: দিল্লি শ্রেণী
উত্তরসূরী অনুযায়ী: বিশাখাপত্তনাম শ্রেণী
খরচ: ₹১১,৬৬২ কোটি টাকা ($১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)
নির্মিত: ২০০৩ - ২০১৫
পরিষেবাতে: ২০১৪ - বর্তমান
অনুমোদন লাভ: ২০১৪ - বর্তমান
নির্মাণ:
সম্পন্ন:
সক্রিয়:
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
প্রকার: নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত ডেস্ট্রয়ার শ্রেনির স্টেলথ জাহাজ
ওজন: ৭,৪০০ টন (৭,৩০০ লং টন; ৮,২০০ শর্ট টন) সম্পূর্ণ ভার[১]
দৈর্ঘ্য: ১৬৩ মিটার (৫৩৫ ফুট)
প্রস্থ: ১৭.৪ মিটার (৫৭ ফুট)
ড্রাফট: ৬.৫ মিটার (২১ ফুট)
প্রচালনশক্তি: সম্মিলিত গ্যাস ও গ্যাস ব্যবস্থা: ৪ × জোর্য়া-মাস্প্রেক্ট ডিটি-৫৯ বিপরীত গ্যাস টারবাইন[২][৩]
গতিবেগ: ৩০ নট (৫৬ কিমি/ঘ)
সীমা: ১৮ নট (৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা) গতিবেগে ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল (১৫,০০০ কিলোমিটার)
লোকবল: ৪০ জন কর্মকর্তা এবং ৩৫০ জন নাবিক[৪][৫]
সেন্সর এবং
কার্যপদ্ধতি:
যান্ত্রিক যুদ্ধাস্ত্র
ও ফাঁদ:
রণসজ্জা:
বিমান বহন: ২ × সি কিং বা এইচএল ধ্রুব হেলিকপ্টার
বিমানচালানর সুবিধাসমূহ: দ্বৈত সংযুক্ত হ্যাঙ্গার

এই ডেস্ট্রয়ারগুলি নির্মাম করা হয় দিল্লি-শ্রেনির ডেস্ট্রয়ারগুলিকে অনুসরণ করে, কিন্তু নকশায় বড় ধরনের উন্নতি, উল্লেখযোগ্য ভাবে স্থলে আক্রমণের ক্ষমতার বৃদ্ধি, আধুনিক সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার আবশ্যক যোগান এবং সমবায় প্রবৃত্তির সামর্থ্যের মতো নেট-কেন্দ্রিক সক্ষমতার প্রসারিত ব্যবহারের কারণে কলকাতা-শ্রেনির ডেস্ট্রয়ারগুলি যুদ্ধ ক্ষেত্রে দিল্লি-শ্রেনির ডেস্ট্রয়ারগুলির থেকে অনেক বেশি সক্ষম।[১৪][১৫][১৬][১৭][১৮]

নকশা এবং বিবরণসম্পাদনা

কলকাতা-শ্রেণি পূর্ববর্তী দিল্লি-শ্রেণির অনুরূপ আকারের, তবে কলকাতা-শ্রেণির মধ্যে ২,৩৬৩ টি পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে অস্ত্র, সেন্সর এবং হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারের আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত।[১৯] এই শ্রেণির জাহাজগুলির আদর্শ স্থানচ্যুতি ৬,৮০০ টন (৬,৭০০ লং টন; ৭,৫০০ শর্ট টন) ও পূর্ণ-ভার স্থানচ্যুতি ৭,৪০০ টন (৭,৩০০ লং টন; ৮,২০০ শর্ট টন) এবং এই জাহাজগুলি এখনও পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত সবচেয়ে বড় ডেস্ট্রয়ার জাহাজ। কিছু গণমাধ্যমে বলা হয় এই শ্রেণির জাহাজের পূর্ণ-ভার স্থানচ্যুতি হল ৭,৫০০ টন (৭,৪০০ লং টন; ৮,৩০০ শর্ট টন)।[২০] এই শ্রেণির জাহাজগুলিকে ভারত দ্বারা নির্মিত প্রথম স্টেলথ ডেস্ট্রয়ার এবং ভারতে জাহাজনির্মাণ প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। জাহাজগুলিতে আধুনিক অস্ত্র এবং সেন্সর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং একটি উন্নত তথ্য ওয়ারফেয়ার স্যুট, একটি অত্যাধুনিক শক্তি বিতরণ পরিকাঠাম সাথে একটি সহায়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং মডুলার ক্রু কোয়ার্টার রয়েছে।[২১]

এই শ্রেনির জাহাজগুলির দৈর্ঘ্য ১৬৩ মিটার (৫৩৫ ফুট), প্রস্ত  ১৭.৪ মিটার (৫৭ ফুট) এবং গভীরতা ৬.৫ মিটার (২১ ফুট)। জাহাজগুলি বিদ্যুৎ প্রক্রিয়াকরণের জন্য যৌথ গ্যাস এবং গ্যাস ব্যবস্থায় চারটি ডিটি-৫৯ প্রতিবর্তনযোগ্য গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করে। এই বৈশিষ্টটি জাহাজকে ৩০ নট (৫৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা; ৩৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা)-এর বেশী গতিতে পৌছতে সাহায্য করে।[২২] জাহাজে বিমানচালনার সুবিধা হিসাবে একটি বড় আবতরণ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে দিল্লি-শ্রেণীর তুলনায় বড় হেলিকপ্টারগুলি আবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারে এবং দুটি সামুদ্রিক হেলিকপ্টারের জন্য একটি আচ্ছাদিত হ্যাঙ্গার পুনর্নির্মাণ করা হয়।[১৯]

 
এল/এম-২২৪৮ এমএফ-স্টার আইইএসএ হল কলকাতা-শ্রেনির প্রাথমিক রাডার।

এই শ্রেনির প্রাথমিক রাডার সেন্সর হল বহুমুখী-অভিযানে উপযুক্ত এইএসএ এল/এম-২২৪৮ এম এফ-স্টার[৬] এটি দূরবর্তী অনুসন্ধান রাডার থ্যালস এলডব্লিউ-৮ দ্বারা সজ্জিত।

জাহাজটির প্রধান বায়ু-প্রতিরক্ষা অস্ত্র হল চারটি ৮-প্রকোষ্ঠ যুক্ত উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (ভিএলএস), যা বিমান প্রতিরক্ষার জন্য ৩২ টি বারাক-৮/এমআরএসএএম ক্ষেপণাস্ত্রকে অনুমোদন করে। উপরন্তু, চারটি একে-৬৩০ সিআইডব্লুউএস নিকটবর্তী প্রতিরক্ষা জন্য ব্যবহার করা হয়।[৯] শ্রেণীটি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের জন্য নকশা করা হয়েছে, যেমন সমবায় প্রবৃত্তির সামর্থ্য, যেখানে তারা বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে বায়ু-প্রতিরক্ষা পরিচালনা করে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং অবস্থানের উপর সম্পদ বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং একক বায়ু-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতে একাধিক সেন্সর এবং প্রভাবককে কাজে লাগানো হয়। মে ২০১৯ সালে, শ্রেণীটির ২ টি জাহাজ বর্ধিত পরিসরে দুটি জটিল পরিস্থিতিতে জড়িত বেশ কয়েকটি যুগপত আকাশ লক্ষ্যকে বাধা দেওয়ার জন্য যৌথ টাস্কফোর্স সমন্বয় (জেটিসি) প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বারাক ৮/এমআরএসএএম-এর প্রথম সমবায় প্রবৃত্তির গুলিবর্ষণ পরিচালনা করে। এটির সাহায্যে, ভারতীয় নৌবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় নৌ পরিষেবা হয়ে ওঠে এবং এশিয়াতে ভারতীয় নৌবাহিনী এটি প্রথম বিকশিত ও মোতায়েন করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সমস্ত ভবিষ্যৎ-এর প্রধান যুদ্ধজাহাজে প্রযুক্তিটি স্থাপন করা হবে।[১৫]

নতুন প্রবৃত্তি সামর্থ্য বারাক ৮ ব্যবস্থা এবং এর এমএফ-স্টার ৩৬০º রাডার ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক নির্মাণকৌশল থেকে আহরিত। প্রতিটি বাধা একটি তথ্য-সংযোগ স্থাপন করে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি কোনও নেটওয়ার্ক সদস্য দ্বারা উৎক্ষেপণ করার পরে তথ্য-সংযোগের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র দিক পরিবর্তন করা যেতে পারে। এই দক্ষতার সাথে, বারাক-৮ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মাঝপথে লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে লক্ষ্য পরিবর্তনের তথ্য সহ, উচ্চতর অগ্রাধিকারের লক্ষ্যটিকে পুনরায় পর্যবেক্ষণ করে, যতক্ষণ না ক্ষেপণাস্ত্রটি যাত্রা পথের প্রন্তিক স্থানে প্রবেশ না করে। এই ক্ষমতা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং যুদ্ধের অর্থনীতিকে সর্বাধিক করে তোলে। এটি কোনও একক জাহাজকে বিমান প্রতিরক্ষা মিশনকে সুসংবদ্ধ করতে বা প্রয়োজনে অন্যান্য জাহাজে মিশন বরাদ্দ করতে সক্ষম করে।[১৬]

 
আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা-২০১৬ এর পটভূমিতে আইএনএস কলকাতা এবং ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ডিফেন্ডার

জাহাজ-বিধ্বংসী এবং স্থলগত-আক্রমণকারী সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র হ'ল কলকাতা-শ্রেণীর প্রাথমিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র।।[২৩] ১৬ টি প্রকোষ্ঠের সার্বজনীন উল্লম্ব উৎক্ষেপণ মডিউল (ইউভিএলএম)-এর প্রতি প্রকোষ্ঠে একটি করে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা হয় এবং ১৬ টি ক্ষেপণাস্ত্রকে একই সঙ্গে ছোড়া যায়।[২৪]

সম্ভবত কলকাতা-শ্রেনির সবচেয়ে সুস্পষ্ট এবং উল্লেখযোগ্য অস্ত্রটি হল সম্মুখ সেতুতে অবস্থিত ৭৬ মিলিমিটার (৩.০ ইঞ্চি) নৌ-বন্দুক। ৭৬ মিমি নৌ বন্দুকটি স্থল ভিত্তিক অভিযানে জন্য তার গুলি ছোড়ার সহযোগি ভূমিকা ছাড়াও সীমিত জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং বায়ু-বিধ্বংসী ক্ষমতা প্রদান করে।

ডুবোজাহাজ প্রতিরোধক ব্যবস্থার জন্য কলকাতা-শ্রেণীর জাহাজগুলি চারটি টর্পেডো টিউব এবং দুটি ডুবোজাহাজ প্রতিরোধক আরবিইউ-৬০০০ রকেট লঞ্চার দ্বারা টর্পেডো নিক্ষেপ ব্যবস্থায় সজ্জিত।[২৫]

বিইএল-এর ইলেকট্রনিক মডুলার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাপ্লিকেশন (ইএমসিএসিএ) এমকে৪ যুদ্ধ পরিচালনার ব্যবস্থাপনা প্রদান করে।[৬]

আইএনএস কোচিতে উন্নত যুদ্ধ পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য চার মিলিয়ন লাইন কোড লেখা হয়েছে। এই ব্যবস্থার নকশা এমন ভাবে করা হয়েছে, যাতে পার্শ্ববর্তী বিপদ বা হুমকির ধরন সম্পর্কে বিশ্লেষণ'সহ সমস্ত তথ্য এক জায়গায় আসে। ব্যবস্থাটি হুমকি মোকাবেলায় কোন ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার করা উচিত সেই সম্পর্কে কমান্ডিং কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেয়। স্পষ্টতই, এই সমস্ত কিছু বাস্তব সময়ে বা বাস্তব পরিস্থিতিতে ঘটে।[২৬] জাহাজটি অ্যাসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার মোড ভিত্তিক ইন্টিগ্রেটেড শিপ ডেটা নেটওয়ার্ক (এআইএসডিএন), যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থা (সিএমএস), স্বয়ংক্রিয় শক্তি পরিচালনা ব্যবস্থা (এপিএমএস) এবং সহায়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা'র (এসিএস) মতো পরিশীলিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কগুলিতে সজ্জিত। এআইসডিএন (এআইএসডিএন) হল তথ্য মহাসড়ক, যেখনে সমস্ত সেন্সর এবং অস্ত্র পরিচালনার তথ্য আসে। সিএমএস অন্য প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে তথ্য-সংযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে মেরিটাইম ডোমেন সচেতনতা প্রদানের জন্য তথ্য সংহত করতে ব্যবহৃত হয়। জটিল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার জন্য এপিএমএস ব্যবহার করা হয় এবং এসিএস ব্যবহার করে রিমোট কন্ট্রোল এবং যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।[২৭]

উন্নয়নসম্পাদনা

আরও দেখুন: দিল্লি-শ্রেণীর ডেস্ট্রয়ার

১৯৮৬ সালে রাজনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা পরিষদ (সিসিপিএ) দিল্লি-শ্রেনির ডেস্ট্রয়ারকে অনুসরণ করে একটি নতুন  শ্রেনির ডেস্ট্রয়ারের নির্মাণের অনুমোদন করে। লক্ষ্য ছিল অনুসরণ করে নির্মিত শ্রেনিতে পূর্বের শ্রেণির চেয়ে উচ্চতর বায়ু প্রতিরক্ষা, ভূমি আক্রমণ, এন্টি-সাবমেরিন এবং অ্যান্টি-জাহাজ (অ্যান্টি-শিপ) ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত হবে। যাইহোক, ভারতীয় নৌবাহিনী প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পটি গ্রহণে সময় নষ্ট করেনি।[১১] ২০০০ সাল নাগাদ ভারতীয় নৌবাহিনী আরও উচ্চতর প্রযুক্তি (আধুনিক স্টেলথ বৈশিষ্ট্য সহ) অন্তর্ভুক্ত করতে অনুসরণ করে নির্মিত কলকাতা-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলির জন্য নতুন করে নকশা তৈরি করে এবং সেই বছরের মে মাসে নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্প ১৫এ-এর জন্য ধারণা এবং কার্যকরণ নৌবাহিনীর নৌ-নকশা অধিদপ্তর দ্বারা তৈরি করা হয়, তবে মাজাগাঁও ডক লিমিটেড (এমডিএল) বিস্তারিত নকশাটি তৈরি কর।[২৮][২৯][৩০]

প্রাথমিকভাবে ২০০৮ সালে, দীর্ঘমেয়াদী খুচর যন্ত্রাংশের জন্য মোট  খরচ ছিল ₹৩,৮০০ কোটি টাকা ($৫৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার),[২৮] কিন্তু নির্মাণ ব্যয় ২২৫% বৃদ্ধি পায় এবং ২০১১ সালের মধ্যে নির্মাণ খরচ ₹১১,৬৬২ কোটি টাকায় ($১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌছায়, ফলে প্রতিটি জাহাজের নির্মাণের জন্য ₹৩,৯০০ কোটি টাকা ($৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ কে এন্টনি নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন রাশিয়া থেকে যুদ্ধজাহাজ-নির্মাণের ইস্পাত সরবরাহে বিলম্ব, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের বেতন বৃদ্ধি, নির্মাণকালের সময় মুদ্রাস্ফীতি, ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে মজুরি পুনর্বিবেচনা এবং অস্ত্র ও সেন্সরের মূল্য নির্ধারণে বিলম্বের ঘটনাকে।[৩১][৩২] ২০১২ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রক এবং প্রধান নিরীক্ষকের থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিলম্বের জন্য নৌবাহিনীকে দোষারোপ করে, যেখানে বারাক নামের ভূমি থেকে বায়ুতে নিক্ষেপ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতিস্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া, সোনার ডোম অন্তর্ভুক্ত করা'সহ বন্দুকের মাউন্ট পরিবর্তন এবং এইচএল ধ্রুবকে জাহাজটির উপযোগী করতে হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারে পরিবর্তন করার সিধান্তের সমালচনা করা হয়।[১৯][৩৩]

নির্মাণসম্পাদনা

 
মাজাগাঁও ডকে নির্মিত হছে একটি কলকাতা-শ্রেনির ডেস্ট্রয়ার জাহজ।

২০০০ সালের মে মাসে ভারত সরকার থেকে কলকাতা-শ্রেনির তিনটি জাহাজ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ২০০৩ সালের মার্চ মাসে নেতৃত্বাধীন জাহাজের নির্মাণের জন্য ইস্পাত কাটা হয়। ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে নির্মাণ শুরু মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডকে, প্রাথমিকভাবে আশা করা হয় যে কলকাতা-শ্রেনির প্রথম জাহাজ ২০১০ সালের মধ্যে নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হবে। যাইহোক, তখন থেকে কলকাতা শ্রেনির নির্মাণ ক্রমাগত বিলম্ব, ধীর নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকে, যার ফলে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই শ্রেনির প্রথম জাহাজের নিযুক্তি করা হয় ভারতীয় নৌবাহিনীতে। নির্মাণ কর্মসূচিতে বিলম্বের কারণ হিসাবে নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা ও সেন্সরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী দ্বারা নিয়মিত নকশা পরিবর্তন, জাহাজের প্রপেলার এবং শ্যাফ্ট সরবরাহে ইউক্রেনীয় শিপইয়ার্ডের ব্যর্থতা ও পরবর্তীতে রাশিয়ার সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হয়ার জন্য বিলম্ব[৩৪] এবং বারাক-৮ এন্টি-এয়ার মিসাইল সরবরাহের বিলম্বকে উল্লেখ করা হয়।[৩৫]

কলকাতা-শ্রেনি হচ্ছে মাজাগাঁও ডকে নির্মিত সর্ববৃহৎ ডেস্ট্রয়ার জাহাজ।[৩৬] নেতৃত্বাধীন জাহাজ আইএনএস কলকাতার সমুদ্র পরীক্ষার সময় প্রযুক্তিগত সমস্যা পাওয়া যায়, যা প্রকল্পকে ২০১৪ সালের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য বিলম্বিত করে।[১২]

শ্রেনির জাহাজগুলিসম্পাদনা

 
আইএনএস কলকাতার পরিষেবাতে নিযুক্তিকরণের অনুষ্ঠান
নাম ধ্বজা ইয়ার্ড নং নির্মাতা নির্মাণ শুরু উদ্বোধন অনুমোদন লাভ/পরিষেবাতে নিযুক্তিকরণ হোমপোর্ট অবস্থা
আইএনএস কলকাতা ডি৬৩
৭০১[৩৭]: মাজাগাঁও ডক লিমিটেড
২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৩[৩৮] ৩০ মার্চ ২০০৬[৩৯][৪০] ১৬ অগাস্ট ২০১৪[৪১] মুম্বই সক্রিয়
আইএনএস কোচি ডি৬৪ ৭০২[৩৭] ২৫ অক্টোবর ২০০৫[৪২] ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫[৪৩] সক্রিয়
আইএনএস চেন্নাই ডি৬৫
৭০৩[৪৪] ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৬[৪৫] ১ এপ্রিল ২০১০[৩৬] ২১ নভেম্বর ২০১৬[১৩] সক্রিয়

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "INS Kolkata"indiannavy.nic.in (ইংরেজি ভাষায়)। Indian Navy। ১৬ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ এপ্রিল ২০১৫ 
  2. Siddiqui, Huma (৫ অক্টোবর ২০১৫)। "INS Kochi turbocharged"The Financial Express (ইংরেজি ভাষায়)। 
  3. Bedi, Rahul (১৮ আগস্ট ২০১৪)। "India commissions first-of-class destroyer Kolkata"IHS Jane's Navy International (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  4. http://indiannavy.nic.in/content/ins-kochi-commissioned-mumbai
  5. "INS Kochi commissioned at Mumbai | Indian Navy"indiannavy.nic.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৬ 
  6. "Country's most potent indigenous warship joins service this month" (ইংরেজি ভাষায়)। SP's Naval Forces। ৮ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০১৪ 
  7. "Bharat Electronics Ltd. awards LW08 contract to Thales" (ইংরেজি ভাষায়)। Thalesgroup.com। ২ জুলাই ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  8. Som, Vishnu (২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "Inside India's New and Deadliest Warship"NDTV (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  9. Som, Vishnu (১৬ আগস্ট ২০১৪)। "On INS Kolkata, PM is Only Partially Correct" (ইংরেজি ভাষায়)। NDTV। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০১৫At the moment, she is designed to carry only 32 Barak surface-to-air missiles... 
  10. Bedi, Rahul (২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "India commissions second Kolkata-class destroyer"IHS Jane's Defence Weekly (ইংরেজি ভাষায়)। ২ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  11. Kolkata-class destroyer GlobalSecurity.org
  12. "Navy's ongoing hunt for heavy torpedoes leads to delay in modernisation process"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ জুন ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৩ 
  13. "Guided Missile Destroyer INS Chennai Joins the Indian Navy" (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি) (ইংরেজি ভাষায়)। Indian Navy। ২১ নভেম্বর ২০১৬। ২১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৬ 
  14. Toshi Yoshihara; James Holmes। James R. Holmes, সম্পাদক। Strategy in the second nuclear age : power, ambition, and the ultimate weapon (ইংরেজি ভাষায়)। Washington, DC: Georgetown University Press। পৃষ্ঠা 143। আইএসবিএন 1589019288 
  15. http://pib.nic.in/PressReleseDetail.aspx?PRID=1572157&RegID=3&LID=1
  16. https://defense-update.com/20190517_indian-navy-demonstrates-mrsam-cooperative-engagement-capability.html
  17. https://www.navalnews.com/naval-news/2019/05/indian-navy-completes-mrsam-first-cooperative-engagement-firing-test/
  18. https://www.janes.com/article/88673/indian-navy-demonstrates-co-operative-engagement-firing-capability
  19. Shukla, Ajai (২০ আগস্ট ২০১২)। "Dangerous consequences of warships built in India" (ইংরেজি ভাষায়)। Rediff News। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৪ 
  20. "Navy gets its largest destroyer" (ইংরেজি ভাষায়)। The Hindu। ১৩ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৪ 
  21. "INS Chennai adds to Naval might"Zee News (ইংরেজি ভাষায়)। ১ এপ্রিল ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৩ 
  22. "Project 15-A destroyer, INS Kochi To be launched on 18 Sep 2009" (ইংরেজি ভাষায়)। PIB। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৩ 
  23. "First test of BrahMos land-attack variant from the sea"India today (ইংরেজি ভাষায়)। India today। ৫ মার্চ ২০০৮। ৫ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৩ 
  24. "BrahMos missile test-fired from warship INS Kolkata" (ইংরেজি ভাষায়)। The Times of India। ৯ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১৪ 
  25. "Project 15-A Improved Delhi / VIshakhapattanam / DDGHM Kolkata" (ইংরেজি ভাষায়)। Global Security। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৩ 
  26. "INS Kochi is proof India good at integrating different systems on one platform" (ইংরেজি ভাষায়)। sunday guardian। ৯ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১৫ 
  27. "INS Kochi commissioned at Mumbai | Indian Navy"indiannavy.nic.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৫-০৫ 
  28. Shukla, Ajai (১৫ এপ্রিল ২০০৮)। "World-class warships at Indian prices"Business Standard (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  29. Bhatt, Arunkumar (২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "Mazagon Dock lays keel of destroyer" (ইংরেজি ভাষায়)। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  30. "Mazagon Dock Annual Report" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Mdlindia.com। ১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  31. "Indian warships' costs escalate over 225%"StratPost (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৩ 
  32. "Delay in Indigenous Warship Projects of Navy"Press Information Bureau (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৩ 
  33. "Report No. 32 of 2010 - Performance Audit of Indigenous Construction of Indian Naval Warships" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। Comptroller and Auditor General of India। পৃষ্ঠা 41। 
  34. Shukla, Ajai (১ এপ্রিল ২০০৯)। "Russia steps in to bail out sinking Project 15-A" (ইংরেজি ভাষায়)। Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  35. Shukla, Ajai (২০ আগস্ট ২০১২)। "Navy's wavering delaying warships by years" (ইংরেজি ভাষায়)। Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১২ 
  36. "India's 3rd indigenous naval destroyer launched"CNN-News18 (ইংরেজি ভাষায়)। ১ এপ্রিল ২০১০। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৩ 
  37. "MDL Annual Report" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  38. Saunders, Stephen, সম্পাদক (২০০৮)। "India"। Jane's Fighting Ships 2008–2009 (ইংরেজি ভাষায়) (111th সংস্করণ)। Coulsdon: Jane's Information Group। পৃষ্ঠা 326। আইএসবিএন 978-0710628459 
  39. Rasquinha, Reagan Gavin (১ এপ্রিল ২০০৬)। "Queen of the high seas"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  40. Bhatt, Arunkumar (১ এপ্রিল ২০০৬)। "A lethal combination of stealth and strength"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১০ 
  41. Pandit, Rajat (১৬ আগস্ট ২০১৪)। "PM Modi inducts India's largest indigenously built warship INS Kolkata"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। 
  42. Ved, Mahendra (৮ অক্টোবর ২০১৫)। "Make in India at Indian Navy"The Hans India (ইংরেজি ভাষায়)। 
  43. "INS Kochi, largest India-made warship, commissioned"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। TNN। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা 
  44. "Annual Report 2016–2017" (PDF)mazagondock.in (ইংরেজি ভাষায়)। Mazagon Dock Shipbuilders Limited। পৃষ্ঠা 14। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৯ 
  45. Commodore Stephen Saunders, সম্পাদক (২০১৬)। "India"। Jane's Fighting Ships 2016–2017 (ইংরেজি ভাষায়) (119th সংস্করণ)। Coulsdon: Jane's Information Group। পৃষ্ঠা 346। আইএসবিএন 978-0710631855 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

ভিডিও লিঙ্ক