অনুকূল চরণ মুন্সী
অনুকূল চরণ মুন্সী (ইংরেজি: Anukul Charan Munshi)(১৮৭৫-১৯৬৪) ছিলেন এক প্রসিদ্ধ ভারতীয় ঝিনুক শিল্পী, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোগপতি যাকে ভারতীয় ঝিনুক শিল্পের (মাদার অফ পার্ল আর্টিস্ট্রির) জনকও বলা হয়।[১][২][৩][৪][৫] তিনি অগ্নিযুগের বিপ্লবী শহিদ হরেন্দ্রনাথ মুন্সী'র আত্মীয় ছিলেন। অনুকূল চরণ মুন্সী ভারতীয় মাদার অফ পার্ল আর্টিস্ট্রির আদিপুরুষ। ভারতীয় প্রবাদপ্রতিম শিল্পী অন্নদা মুন্সী ও প্রখ্যাত মাদার অফ পার্ল শিল্পী মনু মুন্সী তাঁর পুত্র এবং অন্যতম মাদার অফ পার্ল শিল্পী প্রতীপ মুন্সী ছিলেন তাঁর ভাইপো। মুন্সী অবিভক্ত বাংলা'র প্রথম সারির অন্যতম শিল্পী। তিনি ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন-এ অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ এমপায়ার প্রদর্শনীতে তাঁর মাদার অফ পার্ল শিল্পকলার জন্যে স্বর্ণ পদক জয় করেছিলেন এবং তখন থেকেই ভারতীয় মাদার অফ পার্ল আর্টিস্ট্রির জয়যাত্রা শুরু হয় আন্তর্জাতিক স্তরে।[১]
অনুকূল চরণ মুন্সী | |
---|---|
![]() অনুকূল চরণ মুন্সী | |
জন্ম | অবিভক্ত বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) |
মৃত্যু | |
আন্দোলন | মাদার অফ পার্ল আর্টিস্ট্রি |
দাম্পত্য সঙ্গী | কিরণবালা দেবী (প্রয়াত), প্রাণমোহিনী দেবী (প্রয়াত), নির্মলা দেবী(প্রয়াত) |
সন্তান | অন্নদা মুন্সী, মনু মুন্সী |
পিতা-মাতা | বনোয়ারী চরণ মুন্সী, ভুবন মোহিনী দেবী |
আত্মীয় | অমূল্য চরণ মুন্সী (জমিদার), শহিদ হরেন্দ্রনাথ মুন্সী (বিপ্লবী), প্রতীপ মুন্সী (বিখ্যাত মাদার অফ পার্ল শিল্পী) |
পরিবার | মুন্সী পরিবার |
পুরস্কার | ব্রিটিশ এমপায়ার প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক লাভ (১৯২৪)[৪] |
বাংলার ঝিনুক শিল্প
সম্পাদনামুন্সী ভারতে সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ঝিনুক শিল্পের প্রবর্তন করেছিলেন। তিনিই প্রথম সফল শিল্পী যিনি ঝিনুকের উপর খোদাই করে মানুষের আকৃতি দিয়েছেন। চৌগাছি জমিদার পরিবারে তাঁর প্রারম্ভিক দিনগুলিতে, তিনি 'মাদার অফ পার্ল ফ্যাক্টরি' নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে তিনি তাঁর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষানবিশ এবং কর্মচারীদের সাথে ঝিনুক শিল্পের অনুশীলন শুরু করেছিলেন।[১] এই ঐতিহাসিক কারখানায়, মুন্সী তাঁর ছেলে মনু মুন্সী এবং ভাগ্নে প্রতীপ মুন্সীকে ঝিনুক শিল্পের পাঠ দেন।[১][৪]
উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম
সম্পাদনাএই তালিকাটি অসম্পূর্ণ।
পৃষ্ঠপোষক
সম্পাদনাদেশভাগের পরে মুন্সীর ঝিনুক শিল্পের কারখানা কলকাতায় স্থানান্তরিত হলে মুন্সীর ঝিনুক শিল্পের কারখানার আর্থিক সংকট দেখা দেয়। ফলত, তিনি তাঁর কারখানার কর্মচারীদের বেতন ঠিক ভাবে দিতে পারছিলেন না। সেই সময়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁকে সাহায্য করেছিলেন।[১]
উত্তরাধিকার
সম্পাদনামুন্সীর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র উল্লেখযোগ্য ঝিনুক শিল্পী মনু মুন্সী ও ভাতিজা শিল্পী প্রতীপ মুন্সী নিজ নিজ ক্ষেত্রে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন।[৬] তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র অন্নদা মুন্সী ভারতীয় বিজ্ঞাপন শিল্পের জনক হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন।[১]
আন্তর্জাতিক সম্মাননা
সম্পাদনামুন্সী ১৯২৪ সালে তাঁর নবপ্রবর্তিত ঝিনুক শিল্প ভিত্তিক কর্মের জন্যে ঐতিহাসিক ব্রিটিশ এমপায়ার প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক জয় করেন এবং তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি লাভ করেন।[২] পরে, তৎকালীন ইতালি সরকার তাঁকে রোম নগরে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে আমন্ত্রণ জানায়।[১]
মৃত্যু
সম্পাদনা১৯৬৪ সালে কলকাতার পাইকপাড়ায় এই খ্যাতনামা শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তথ্যসূত্র
সম্পাদনা- ↑ ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ শান্তনু ঘোষ। "মুন্সিয়ানায় চল্লিশ পুরুষ" প্রকাশক: দে'স পাবলিশিং
- ↑ ক খ গ ঘ শান্তনু ঘোষ। "বিনোদনে পাইকপাড়া বেলগাছিয়া" প্রকাশক: দে'স পাবলিশিং
- ↑ Arthive। "Anukul Charan Munshi: Arthive
- ↑ ক খ গ ঘ "Anukul Charan Munshi, the Maverick of Indian Mother-of-Pearl Artistry"। Calcutta, India: Wixsite.com। ফেব্রুয়ারি ৫, ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টে ২২, ২০২২।
- ↑ "Anukul Charan Munshi"। Calcutta, India: Arthive। ফেব্রুয়ারি ৫, ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টে ২২, ২০২২।
- ↑ আনন্দবাজার পত্রিকা। "মুন্সিয়ানা" প্রকাশক: আনন্দবাজার পত্রিকা
এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |