কমলা নেহেরু

জহরলাল নেহরুর পত্নী

কমলা নেহেরু (এই শব্দ সম্পর্কেpronunciation , (১লা আগস্ট ১৮৯৯ – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬) ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং জওহরলাল নেহেরুর (ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর নেতা এবং পরে প্রথম প্রধানমন্ত্রী ) স্ত্রী। পরবর্তীতে তাঁদের কন‍্যা ইন্দিরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।

কমলা নেহেরু
কমলা নেহরু
জন্ম
কমলা কাউল

(১৮৯৯-০৮-০১)১ আগস্ট ১৮৯৯
মৃত্যু২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬(1936-02-28) (বয়স ৩৬)
জাতীয়তাভারতীয়
দাম্পত্য সঙ্গীজহওর লাল নেহেরু (বি. ১৯১৬১৯৩৬)
সন্তানইন্দিরা গান্ধী

প্রথম জীবনসম্পাদনা

১৮৯৯সালের ১লা আগস্ট কমলা রাজপতি এবং জহর মাল অতল কাউল এর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তারা দিল্লি নিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের ছিলেন। [১] তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং তাঁর দুই ভাই চান্দ বাহাদুর কাউল এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানী কৈলাশ নাথ কাউল এবং একটি বোন স্বরূপ কাটজু। তিনি বাড়িতেই একজন পণ্ডিত এবং একটি মৌলভীর অধীনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বিবাহসম্পাদনা

 
জওহরলাল এবং কমলা নেহেরু তাদের বিয়ের দিন, ৮ইফেব্রুয়ারি, ১৯১৬

কমলা [১] ১৬ বছর বয়সে জওহরলাল নেহেরুকে বিয়ে করেছিলেন।[১] তার বিয়ের পরপরই তাঁর স্বামী হিমালয় ভ্রমণে গিয়েছিলেন। জওহরলাল নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে তাঁর স্ত্রীর কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, "আমি তাকে প্রায় উপেক্ষা করেছি।" [২] কমলা ১৯১৭ সালের নভেম্বরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী যিনি পরে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস দলের প্রধান হয়েছিলেন। কমলা ১৯২৪ সালের নভেম্বরে একটি ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন, তবে তিনি মাত্র এক সপ্তাহ বেঁচে ছিলেন।

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানসম্পাদনা

কমলা জহওর লাল নেহেরুর সঙ্গে জাতীয় আন্দোলনে জড়িত হন এবং কিছু সময়ের মধ্যে তিনি সামনের সারিতে চলে আসেন। ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি এলাহাবাদ এর নারীদের সংগঠিত করেন এবং দোকানে বিদেশী কাপড় ও বিদেশী পানীয় বিক্রয় এর বিরুদ্ধে পিকেটিং শুরু করেন। যখন তার স্বামী গ্রেফতার হন যাতে "রাষ্ট্রদ্রোহী" বক্তব্য না দিতে পারেন, তিনি চলে গেলেন তার স্বামীর জায়গায় সেটা পড়তে। ব্রিটিশরা শীঘ্রই উপলব্ধি করে যে কমলা নেহরু নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং পুরো দেশে মহিলাদের নিয়ে সংগঠন তৈরি করে ফেলছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য তিনি দু বার গ্রেফতার হন সরোজিনী নাইডু এবং অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে। এই সময়ে তিনি তাঁর বাাড়ি স্বরাজ ভবনে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলেন সেখানে আহত স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং তাদের পরিবার ও এলাহাবাদের অন্যান্য বাসিন্দাদের চিকিৎসা করা হতো। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মহাত্মা গান্ধী অন্যান্য কংগ্রেসের নেতাদের সহোযোগিতায় এটাকে একটি সম্পূর্ণ হাসপাতালে পরিণত করেন সেটি কমলা নেহরু মেমোরিয়াল হসপিটাল নামে পরিচিত। [৩][৪]

বন্ধুরাসম্পাদনা

কমলা নেহেরু কস্তুরবা গান্ধীর সাথে গান্ধীর আশ্রমে কিছুটা সময় কাটিয়েছিলেন যেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা জয়প্রকাশ নারায়ণের স্ত্রী প্রভবতী দেবীর সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন। [৫] তারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতীয় স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধাও ছিল।

মৃত্যুসম্পাদনা

কমলা ১৯৩৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের লসানায় যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মেয়ে এবং শ্বাশুড়ির পাশে মারা যান। তার গত কয়েক বছর ধরে, কমলা প্রায়শই অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিত্সার জন্য সুইজারল্যান্ডের একটি সেনেটিয়ামে নিয়ে যান, যদিও তিনি সুস্থ হয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন। ১৯৩৫ এর প্রথম দিকে, কমলার স্বাস্থ্যের আবার অবনতি হওয়ায় তাকে সুভাষ চন্দ্র বোস দ্বারা বদেনউইলারের (দক্ষিণ জার্মানি) নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিত্সার জন্য একটি স্যানেটরিয়ামে ভর্তি করা হয়। তাঁর স্বামী (পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু) তখন ভারতের কারাগারে ছিলেন। তার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় নেহেরু কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে জার্মানি চলে যান। কমলার স্বাস্থ্যের প্রাথমিক অবস্থার উন্নতি হলেও ১৯৩৬ সালে এটি আবার খারাপ হতে শুরু করে এবং ফেব্রুয়ারিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর আত্মজীবনীর প্রবন্ধে কমলার মৃত্যুর পরে যুক্ত একটি অধ্যায়ে নেহেরু বর্ণনা করেছেন যে তিনি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং কয়েক মাস খুব ভেঙে পড়েছিলেন। [৬]

উত্তরাধিকারসম্পাদনা

 
কমলা নেহরু ১৯৭৪ এ ভারতীয় স্ট‍্যাম্পে

ভারতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যেমন কমলা নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্র, কমলা নেহেরু প্রাণীসংগ্রহালয় ( ইন্দোর ), কমলা নেহেরু কলেজ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, কমলা নেহেরু ডিগ্রি সান্ধ্য কলেজ (ব্যাঙ্গালুরু), কমলা নেহেরু কলেজ ফর উইমেন, যোধপুর, কমলা নেহেরু পার্ক, কমলা নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (সুলতানপুর), কমলা নেহেরু কলেজ, কর্বা, কমলা নেহেরু মহিলা কলেজ (ভুবনেশ্বর), কমলা নেহেরু পলিটেকনিক (হায়দরাবাদ), শ্রী রামদেওবা কমলা নেহেরু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (নাগপুর), কমলা নেহেরু মেমোরিয়াল ভোকেশনাল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বটানাপ্প্লি (কেরল), এবং শশকিয়া কমলা নেহেরু বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ভোপাল) তার নামকরণ করা হয়েছে।

পাকিস্তানে করাচির কমলা নেহেরুর নামে একটি রাস্তা রয়েছে। [৭]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Jayakar, Pupul (১৯৯৫)। Indira Gandhi, a biography (Rev. সংস্করণ)। Penguin। পৃষ্ঠা 9–11। আইএসবিএন 978-0140114621 
  2. "From years 1916 to 1964...The man and the times"The Windsor Star। ২৭ মে ১৯৬৪। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. Nehru, Jawaharlal (২৬ জানুয়ারি ১৯৩৬)। An Autobiography। Bodley Head। 
  4. "Kamala Nehru Biography"। Iloveindia। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  5. Jayakar, Pupul (১৯৯৫)। Indira Gandhi, a biography (Rev. সংস্করণ)। Penguin। পৃষ্ঠা 90–92। আইএসবিএন 978-0140114621 
  6. Nehru, Jawaharlal (১৯৪০)। An Autobiography (2nd সংস্করণ)। Bodell Head। 
  7. "Blog: Finding Kamala Nehru in Pakistan, Jinnah in Guntur"NDTV.com। ২০ মে ২০১৫।