ককবরক তিপ্রাসা বা বর্তমান ভারতের উত্তর পূর্বে অবস্থিত রাজ্য ত্রিপুরার প্রধান ভাষা। বিংশ শতাব্দীর সময়কালে অনেক রাজপরিবার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ককবরক ভাষার বিকাশে বিভিন্নভাবে অবদান রাখেন।

ঐতিহাসিক প্রমাণসম্পাদনা

ককবরক ভাষার প্রাচীনত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়া যায় " রাজমালা " -এ নিম্নলিখিত পংক্তিগুলোর মধ্যে,যা ত্রিপুরার রাজাদের উপাখ্যান এবং বর্তমানে বাংলায় রচিত । এটি ইঙ্গিত করে যে "রাজমালা" প্রথমে ককবরক ভাষায় রচিত হয়েছিল:

পূর্বে রাজমালা ছিলো ত্রিপুর ভাষাতে,
পয়ার গাঁথিল সব সকলে বুঝিতে,
সু-ভাষাতে ধর্মরাজে রাজমালা কইল,
রাজমালা বলিয়া লোকেতে হইল। "
- রাজমালা - ২য় খণ্ড, ধর্ম মানিক্য অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৬।

উদ্ধৃতিটির অর্থ হল - রাজমালা প্রথমে ত্রিপুর তথা ত্রিপুরার ভাষায় রচিত ছিল। রাজা ধর্ম মানিক্যের নির্দেশ অনুসারে উপাখ্যানটি খ্রিষ্টীয় ১৪শ শতাব্দীতে পুনরায় মার্জিত ভাষায় অর্থাৎ বাংলায় অনুবাদিত অথবা নতুনভাবে রচিত হয়েছিল।

লেখার সময়কালসম্পাদনা

যখন রাজমালা রচিত হয়েছিল তখন ককবরকে লেখনীর সংখ্যা সামান্যই ছিল এবং উনিশ শতকের শেষভাগেই প্রথম লিখিত আকারে ভাষাটি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই ককবরকে সাহিত্যকর্ম সৃষ্টির জন্য জোরালোভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং কার্যকলাপ চলছে। ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ১৯৭৯ সালে ককবরককে একটি রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞপ্তি বাংলার সাথে সাথে ককবরকেও প্রকাশিত হচ্ছে।

গত শতাব্দীর ককবরক সাহিত্যের বিকাশের ধারা নিম্নে উল্লেখিত সময়কালে বিভক্ত করা যেতে পারে:

পর্ব-১সম্পাদনা

ভাষাটিকে মুদ্রিত বইয়ের রূপ প্রদান এবং তাতে সাহিত্য সৃষ্টির প্রথম প্রয়াস

রাধামোহন ঠাকুর "কক-বরকমা" শিরোনামে ককবরক ভাষার ব্যাকরণ লিখেছিলেন যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। এর পাশাপাশি তিনি "ত্রৈপুর কথামালা" এবং "ত্রৈপুর ভাষাবিধান" নামে আরও দুটি বই রচনা করেছিলেন। ত্রৈপুর কথামালা হল ককবরক - বাংলা - ইংরেজি অভিধান যা ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় । "ত্রৈপুর ভাষাবিধান" প্রকাশিত হয়েছিল ১৯০৭ সালে ।

দৌলত আহমদ ছিলেন রাধামোহন ঠাকুরের সমসাময়িক একজন লেখক এবং মোহাম্মদ ওমরের সাথে যৌথভাবে ককবরক ব্যাকরণ রচনার পথিকৃৎ। কুমিল্লায় অবস্থিত অমর যন্ত্র থেকে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ককবরক ব্যাকরণ গ্রন্থ "ককবকমা" প্রকাশিত হয়েছিল। তৎকালীন খ্যাতনামা পত্রিকা "দ্য এডুকেশন গেজেট" বইটি সম্পর্কে প্রশংসনীয় পর্যালোচনা বের করেছিল।

পর্ব-২সম্পাদনা

ত্রিপুরা জনশিক্ষা সমিতি এবং কওতাল কথমা

রাধামোহন ঠাকুর এবং দৌলত আহমদ এর অবদানের পর, রত্নমণির শিষ্য খুশিখরশনা, যিনি ছিলেন ত্রিপুরা জনগণের নিকট একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব, ত্রিপুরা খ-খচংমা খুম্বের বই" শিরোনামে ৩৩ টি ককবরক আধ্যাত্মিক গানের সংকলন তৈরিতে অবদান রাখেন এবং ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তা প্রকাশ করেন।

১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর "ত্রিপুরা জনশিক্ষা সমিতি " প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি বহু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। সেই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সুধন্য দেব বার্মা ১৯৫৪ সালে প্রথম ককবরক পত্রিকা "কওতাল কথমা" সম্পাদনা এবং প্রকাশ করেছিলেন। এই পত্রিকায় বিভিন্ন লোকগীতি, লোকগাঁথা এবং নিবন্ধ প্রকাশিত হত। কিছু উল্লেখযোগ্য লেখনী এবং তাদের লেখক যারা উক্ত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে লেখা প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা হলেন:

ক) "চেথুয়াং", সুধন্য দেব বার্মার উপন্যাস

খ) "ফুনুকমুং", ককবরক ভাষার ধাঁধা সংগ্রহ।

গ) "গান্ধীজী ককলাম", দশরথ দেব বার্মা রচিত মহাত্মা গান্ধীর উপর একটি আলোচনা।

এসময় আরও কিছু ব্যক্তিবর্গ এবং কর্মী ছিলেন, যারা ককবরক ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বংশী ঠাকুর ( অমরেন্দ্র দেব বার্মা )ককবরকে তাঁর হোলির (রঙ উৎসব) গান রচনার জন্য আগরতলা শহর এবং গ্রামীণ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি ককবরকে বহু কবিতা লিখেছিলেন। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে "ককতাং কুলুই" নামক তাঁর একটি বিস্তারিত ককবরক ব্যাকরণ ও অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। সুধীর কৃষ্ণ দেব বার্মা ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক, কণ্ঠশিল্পী এবং ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি "ককতাং" এবং "সুরুংমা ইয়াখিলি" নামে দুটি বই লিখেছিলেন যেগুলো যথাক্রমে ১৯৫৪ এবং ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। অজিত বন্ধু দেব বার্মা ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এবং তিনি পত্রিকায় তাঁর অসংখ্য লেখালেখি এবং নিবন্ধের জন্য আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর "কক-সুরুংমা" (বাগসা ও বাগনুই) বইটি ১৯৬৩ সালে এবং ককবরক অভিধান "ককরবাম" ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। মহেন্দ্র দেব বর্মণ ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে শিশুদের জন্য তাঁর রচিত পাঠ্যপুস্তক " চেরাই সুরুংমা " প্রকাশ করেছিলেন। "ককবরক সাহিত্য সভা" প্রতিষ্ঠাতা অলিন্দ্রলাল ত্রিপুরা প্রচুর বই ও নাটক রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে "লামনি হোমচাং" ১৯২২ সালে মঞ্চায়িত হয়েছিল। সোনাচরণ দেববর্মণ ১৯৫০ এর দশকে কিছু গান রচনা করেছিলেন এবং "ফিরোগোই ফৈদি" শিরোনামে সেগুলি প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়াও রাজ্য শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক "ভারতনি পাঁচালী", "রামায়ণ কচারযাক" এবং " ইয়াপ্রি কওতাল" এর মত আরও অনেক বই প্রকাশিত হয়েছিল।

পর্ব-৩সম্পাদনা

ককবরক ভাষার বিকাশের জন্য আন্দোলন এবং ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশক-পরবর্তী সময়ে ককবরক সাহিত্য রচনা

শতাব্দীর এই সময়টি ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফেডারেশন এর নেতৃত্বে সংঘটিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছিল। এসময় দুটি সংগঠনের আবির্ভাব ঘটেছিল যা ককবরক সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের একটি হলো বীরচন্দ্র দেব বর্মণ এর অধীনে ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করা "ত্রিপুরা ককবরক উন্নয়ন পরিষদ"। এই সংস্থাটি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে " ত্রিপুরা ককবরক ভাষার লিখিত রূপে উত্তরণ" বইটি বাজারে প্রকাশ করে। অন্য সংস্থাটি হল "ত্রিপুরা ককবরক সাহিত্য সভা" যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শৈলেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এবং অলিন্দ্রলাল ত্রিপুরা। এই প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরি দর্শনের উপর ১৯৬৭ সালে "ত্রিপুরা সমহিতা" গ্রন্থটি প্রকাশ করে। এ বিষয়ে রচিত আরেকটি বই হলো "স্রুংসম" । উল্লেখ্য এটি ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে "ত্রিপুরা যাজক সাহিত্য সমিতি" কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

১৯৭০-এর দশকের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা হলো: বুদুরাই এর সতেরোটি ককবরক গানের সংকলন "খনি রুচাপমুং", দশরথ দেব বর্মণের রোমান হরফে রচিত "কক-বরক স্বরাং" (১৯৭৭) এবং মনোরঞ্জন দেব বার্মার "বুবর" (১৯৭৮)।

শাঁই কওতালসম্পাদনা

তবে গত শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ ককবরক সাহিত্যকর্মটি ছিল " শাঁই কওতাল ", ককবরক ভাষায় রচিত বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্ট, যা ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাইবেল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত হয়। "শাঁই কওতাল" আসন্ন বছরগুলিতে পূর্ববর্তী সকল কাজকে ছাড়িয়ে গেছে এবং দেখা গেছে ত্রিপুরী সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন ব্যবহার্য প্রথম জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম ছিল এটি। এটি অনেকবার পুনঃমুদ্রিত এবং পুনঃমার্জিত হয়েছে এবং এখনও বইটির ব্যাপক চাহিদা থাকায় মুদ্রিত বইয়ের ঘাটতি সবসময় লেগেই আছে।

পর্ব-৪সম্পাদনা

১৯৮০-র দশকে ককবরক সাহিত্যে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু

" ত্রিপুরা জনশিক্ষা সমিতি " এবং সাহিত্যে সংগঠনগুলোর জোরাজুরির ফলে অনেক শিক্ষিত ত্রিপুরী তাদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছিল। এর ফলশ্রুতিতে ককবরক সাহিত্য আন্দোলনে তা নতুন মাত্রা যোগ করে এবং তা ককবরককে একটি সমৃদ্ধ ভাষা এবং সাহিত্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পথকে সুগম করে দেয় । এই দশকে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার ককবরকের অর্জনগুলো হল :

উপন্যাসসম্পাদনা

সুধন্য দেব বর্মণ রচিত " হাচুক খুরিও " (পাহাড়ের কোলে) হলো প্রথম আধুনিক ককবরক উপন্যাস। এটি ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ককবরক সাহিত্য সভা এবং সংষ্কৃতি সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও শ্যামল দেব বার্মার " তংথাই নাইতুঙ্গনানি" (উপরের সন্ধানে) ধারাবাহিকভাবে লামা নামক একটি সাহিত্য পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল।

ছোট গল্পসম্পাদনা

দুনদুরুকম হলো ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত শ্যামলাল দেব বর্মণের ১২ টি ছোট গল্পের সংকলন। এছাড়াও তাঁর সম্পাদিত আদং (১৯৮৭) একই ধরনের বই। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত নাখওরাই বিনয় দেব বর্মণের চারটি গল্পের সংকলন। এলেমনি বিবি হরিপদ দেব বর্মণের আটটি গল্পের সংকলন যা ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।

কবিতাসম্পাদনা

১৯৮৩ সালে প্রকাশিত নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা এবং শ্যামলাল দেব বর্মা সম্পাদিত কক-বরক ককলব বাছাব (একটি কবিতা সংকলন); ১৯৮৪ সালে নন্দ কুমার দেব বার্মার রচিত চিমালং ছাকাও মোলংনি খুম (শ্মশানের পাথরে জন্মানো একটি ফুল); ১৯৮৩ সালে শান্তিময় চক্রবর্তী রচিত কগতাং-ককলব বওতাং (কবিতা ও ছড়ার সংকলন) এবং মুক্তি।১৯৮৪ সালে মহেন্দ্র দেব বর্মার লেখা লুকু সোচামা রওচাবমুং (আমজনতার গান)। সুধন্য ত্রিপুরাহরচিত া খচক (লাল মাটি) (১৯৮৩) ,এং হামজকমা রোয়া (১৯৮৮) ,এং বাই কওখরং তুইনি খোরাং (১৯৮৬) সালে এবং রুছপমুং। চন্দ্র কান্ত মুরসিংয়ের হাপিং গারিংগো চিবুকসা রিঙ্গো (১৯৮৬), কলমতি কিশি মওখং (১৯৮৬) ও বলং কখরং (১৯৮৭)। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বিনয় দেব বার্মার সনেট ককতাংরোগ । নরেন্দ্র দেব বার্মার কোকিলা নওং তোমনি আসক পাং (১৯৮৮), অলিন্দরালাল ত্রিপুরার হর্ণি বোরো বা সং ট্রাম পাঁচালী, নন্দ কুমার দেবের বর্মার বলংনি বওসাজকসং নওসাও (১৯৮৮) এবং শ্যামলাল দেব বর্মার কক-বরক গণ সঙ্গীত (১৯৮৮)।

অন্যান্যসম্পাদনা

১৯৮০ সালে প্রকাশিত শান্তিময় চক্রবর্তীর ত্রিপুরানি কেরেং কতমা। এছাড়াও বিভিন্ন ভাষা থেকে অনুদিত বইয়ের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য হল নন্দ কুমার দেব বর্মার কক-বরক গীতা (১৯৮৮),১৯৮৭ সালে প্রকাশিত শ্যামলাল দেব বর্মার নক আরিনি কতমা এবং কক-বরক বাই রবীন্দ্রনাথ। এছাড়াও রয়েছে ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত নরেন্দ্র চন্দ্র দেব বর্মার তাখুমসা বদল। এগুলো ছাড়াও অনেক সাহিত্য পত্রিকা, যেমন ত্রিপুরা উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের লামা ককবরক সাহিত্য-ও-সংস্কৃতি সংসদের ছাতি ও ত্রিপুরার রাজ্য ককবরক সাহিত্য সভার দাংডু প্রভৃতি সেই দশকে জনপ্রিয় ছিল।

পর্ব-৫সম্পাদনা

বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক - ককবরক সাহিত্যের কৈশোরকাল

এ দশকে প্রকাশিত ককবরক সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার উৎকর্ষ ও গুণমান বেশ ভাল ছিল এবং তা যথেষ্ট কদর ও প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রকাশিত সাহিত্যগুলো হল:

উপন্যাসসম্পাদনা

সুধন্য দেব বর্মার হাচুক খুরিও (পাহাড়ের কোলে), ২য় খণ্ড (১৯৯৪)। শ্যামলাল দেব বার্মার খং (১৯৯৬)

ছোট গল্পসম্পাদনা

নগেন্দ্র জমাতিয়ার বিলোনিয়া, ১৯৯২ , স্নেহময় রায়চৌধুরীর মোকল বওসকঙ্গো (১৯৯৪), বিয়াল (১৯৯৭) এবং চেতুয়াং তোলাও (২০০০), সুনীল দেব বর্মার বলংনি খুম (১৯৯৬) ও বুসু (২০০০) , বিজয় দেব বর্মা, নফুরায় জমাতিয়া এবং রবীন্দ্র কিশোর দেব বর্মার সকাল জকমা (১৯৯৮), বিশ্ব কুমার দেব বর্মার অস্থিরোগ (২০০০), হরিপদ দেব বর্মার জালাই তোকপুকু (২০০০) এবং নফুরায় জমাতিয়া এবং অশোক দেব বর্মার নৈথক।

কাব্যসম্পাদনা

নন্দ কুমার দেব বর্মার আনি গানাও আং এবং আনি রবচাবমুং (২০০০) ,ন্দ্রমণি দেব ববার্মারহিমালয়ানী বেদেক বুপ্রাও (১৯৯১) এবং লাভ--সম (১৯৯৫), খজুয়াল জমাতিয়ারদর্ম লাম বয় কক-বরক বাউল (১৯৯২),ককবরক তেই হুকুমু মিশনের খুম্পুই বাড়ুরুক (১৯৯৫), কুমুদ রঞ্জন দেব বর্মার ভখারাই (১৯৯৬), সুধন্য ত্রিপুরার নোনো রিখা খুম্পুই (১৯৯৭) এবং যাদুনি খোরাং (২০০০), বিকাশরয় দেব বার্মার বলং মুফুঞ্জাক ইয়াকবাই (১৯৯৮), বিজয় দেব বার্মার লংত্রৈনিন একলব্য (১৯৯৮) ,চন্দ্র কান্ত মুরাসিং এর লোক চেথুয়াং লোক (১৯৯৯) এবং পিন্ডি উতুয়াল পিন (১৯৯৯), কুঞ্জ বিহারি দেব বর্মার সিঞ্জাক কওরুই (২০০০) দ্বারা এবং শ্যামলাল দেব বর্মার ককথিয়ারোগ সঙ্গ বনবনিয়া (২০০০)।

অন্যান্যসম্পাদনা

কিছু অনুবাদ বই হলো নগেন্দ্র দেব বর্মার কমলা কান্তনি দপ্তর (১৯৯২) , অন্নপ্রসাদ জমাতিয়া মাংনি উয়ানশক্থানি গীতা (১৯৯৭) এবং ত্রিপুরা ব্যাপটিস্ট খৃস্টান ইউনিয়নের লবমুং বউচব (ধর্মীয় সঙ্গীত)। অন্যান্য বিশিষ্ট কিছু বই হলো কৃষ্ণধন জমাতিয়ার কৈরক কথমা (১৯৯৫), বিনয় দেব বর্মার অ্যাংলো-ককবরক অভিধান (১৯৯৬), ককবরক তেই হুকুমু মিশনের ফুক্মুং (১৯৯৪), বিনয় দেব বর্মার ককবরনি রংচাক-রিচাক (১৯৯৪),সুকান্ত দেব বর্মার মহাত্মা গান্ধী (১৯৯৫) ,নিতাই আচার্যির ককবরকনি ককরক কিসা (১৯৯৬), বিমল দেব বর্মার সচলাং জোরানি ইমাংনি কুম্পুই (১৯৯৭), রবীন্দ্র কিশোর দেব বার্মার ককবরক শিখুম (১৯৯৭) এবং নীলমণি দেব বার্মার বেমার তাই বিনি হাম্রিমুং (১৯৯৯) ।

একবিংশ শতাব্দীসম্পাদনা

ককবরক সাহিত্যের একটি নতুন যুগ

নতুন শতাব্দীতে ককবরক অভিধান এবং ত্রিপুরা রাজ্যের ঐতিহাসিক উপাখ্যান, ককবরক ভাষায় রাজমালা প্রভৃতির প্রকাশ হওয়া ভাষাটির সমৃদ্ধিতে নব উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।[কার মতে?]

অভিধানসম্পাদনা

একবিংশ শতাব্দীর সূচনা হয়েছিল ২০০২ খ্রিস্টাব্দে ককবরক তেই হুকুমু মিশন কর্তৃক প্রকাশিত এবং বিনয় দেব বার্মার সংকলিত অ্যাংলো-ককবরক-বাংলা অভিধানের মধ্য দিয়ে যা ককবরক সাহিত্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি ছিল ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত যুগান্তকারী অভিধানটির ২য় সংস্করণ। উল্লেখ্য এটি একটি ত্রৈভাষিক অভিধান।

২০০১ সালে ত্রিপুরার উপজাতি অঞ্চল স্বায়ত্তশাসিত জেলা কাউন্সিল, খুমুলুঙ এর শিক্ষা বিভাগের ভাষা শাখা থেকে আরো একটি সংক্ষিপ্ত ককবরক-ইংরেজি-বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল যার সংকলক ছিলেন বিনয় দেববর্মা।

সাধারণসম্পাদনা

আর. কে. দেববার্মা অনুদিত তিপ্রানি লাইহবুমা (রাজমালা-ত্রিপুরার ইতিহাস) প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে যার প্রকাশক ছিল কে.ও.এইচ.এম. । চন্দ্র বালা দেববর্মার "ড. বি. আর. আমবেদকর" প্রকাশিত হয়েছিল ২০০১ সালে এবং এটির ও প্রকাশক ছিল কে.ও.এইচ.এম.। এছাড়াও রয়েছে থাংফ্লাইনি বিথিলং (ভেষজ ঔষধের বই) (২০০২), অতুল দেববর্মার বুবাগরতং (২০০৯), শ্যামলাল দেববর্মার মাও সে তুং (২০১৪), রবীন্দ্র কিশোর দেববর্মার বুগরাকোটর আলেকজান্ডার (২০১৪)।

উপন্যাসসম্পাদনা

নন্দ কুমার দেববর্মণ এর রুং (২০০১), কুঞ্জবিহারী দেববর্মণ এর মৌনাকি পহর (২০০২), সুনীল দেববর্মণ এর লংমনি রুকুঙ্গ (২০০৩),অতুল দেববর্মণ এর ১৯৮০ (২০০৬), শ্যামলাল দেববর্মণ এর তংথাই নাইটুগি (২০০৭),বিজয় দেববর্মণ এর দোলাই তুইমা নারো (২০০৮),শেফালি দেববর্মণ এর কে.ও.এইচ.এম এবং লখপতি (২০১০)

ছোট গল্পসম্পাদনা

হরিপদ দেববর্মণ এর জালাই টোকপুপু (২০০০), কুঞ্জবিহারি দেববর্মণের বসুলাম (২০০১) এবং মো সালনি পোহোরো (২০০৩), নরেন্দ্র দেববর্মণের ইমাংনি ইয়াখিলি (২০০১), বিনয় দেব বর্মণের ইয়ামরোকসা (২০০২), রেবতী দেববর্মণের হলং বেসারনি খুম (২০০২), রবীন্দ্র কিশোর দেববর্মণের হাচুকনি মুক্তি (২০০২) ), অতুল দেববর্মণের তোকসা তিয়ারি (২০০৪), তোকসা হাকায়া (২০০৬), গোপাল দেববর্মণের ফোলা কৈথামনি কথমা (২০০৭), কথমনি হায়ুং (২০১০), বিজয় দেববর্মণের নোখাইসা কেরাং কথমা (২০১১), সুনীল দেববর্মণের বুসু (২০০০), শেফালি দেববর্মণের খুম্পুই বারুরুরুক তুইউং তররুরুক (২০১৪) এবং হাটাল খামছুরু বাহাই (২০১৪)।

কাব্যসম্পাদনা

সোনা চরণ দেববর্মণ রচিত সানা মুচুংবো সাজাক্য কক্রক (২০০২‌) , মৃণাল কান্তি দেববর্মণ রচিত কছাম্বাই রছাপমুং ককব্লব(২০০৬), ডঃ সুধন্য দেববর্মার ননো রখা খুম্বুবার বারসা (২০০৬),  কল্বি দেববর্মার রওছাপমুং বরক জাদুনি (২০০৬), বিমল দেববর্মা সংকলিত নং রওছাবলাংমনি ককথাইরক (২০০৬), নরেন্দ্র দেববর্মার মুন দোদোরো মুন (২০১০), প্রসেনজিৎ দেববর্মার দুম্বারনি মুক্তি (২০১১) এবং নিনি রঙ থাইসা বুইনি রঙ খকবা (২০১২), বিনয় দেববর্মার চোখরেং (২০১২)।

খ্রীষ্টানসম্পাদনা

২০০৮ সালে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বইগুলোর একটি রিক ওয়ারেনের "Purpose Driven Life" এর অনুবাদ এই ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল । এটির অনুবাদ করেছিলেন এল.এন. সিয়ামা এবং নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া হার্ভেস্ট নেটওয়ার্ক,শিলং তা প্রকাশ করে।

বাইবেল কওথারসম্পাদনা

১৯৭৬ সালে ককবরকে নিউ টেস্টামেন্ট (যা শাঁই কওতাল নামে পরিচিত) প্রকাশিত হওয়ার পরে ২০১৩ সালে ককবরক ভাষায় প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ পবিত্র বাইবেল প্রকাশিত হয়েছিল এবং তা প্রকাশ করেছিল বাইবেল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া[১]

ত্রিপুরা ব্যাপটিস্ট খ্রিস্টান ইউনিয়ন (টিবিসিইউ) এর বাইবেল অনুবাদক দলটিতে যারা ছিলেন:

  1. রেভারেন্ড জং বাহাদুর দেববর্মা, সিবিএ (তিনি পূর্ববর্তী শাঁই কওতাল অনুবাদ দলেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)
  2. রেভারেন্ড অনিল দেববর্মা, সিবিএ
  3. রেভারেন্ড নীলমণি দেববর্মা, এসএনবিএ
  4. মিঃ মার্ক দেববর্মা, সিবিএ

বাইবেল কওথার বর্তমানে এই ভাষায় প্রকাশিত সর্ববৃহৎ লেখনী এবং 1,300 টিরও বেশি পৃষ্ঠাসংবলিত বৃহত্তম গ্রন্থ এবং এটি ককবরক প্রকাশনাসমূহকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অনুবাদসম্পাদনা

ত্রিপুরা উপজাতির স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) এর ভাষা বিষয়ক বিভাগ "খুমুলং" অন্যান্য ভাষার বইসমূহকে ককবরকে অনুবাদ করতে প্রধানভাবে সহায়তা করেছে। কয়েকটি প্রধান অনুবাদ হল জাসুদা রিয়াং এর "ভেনিসেনি বানিয়াসা" (২০০৭) যা মূলত উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের মার্চেন্ট অফ ভেনিসের অনুবাদ, লক্ষ্মীধন মুরাসিং রচিত "গুরা" (২০০৭) যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গোরা, শ্যামলাল দেববর্মণের শ্রীকান্ত-১ম খন্ড (২০০৯) (মূল রচনা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের), পূর্ণ চন্দ্র দেববর্মণ কর্তৃক ককবরক ভাষায় অনুদিত রবিনসন ক্রুসো (২০০৯), সন্তোষ দেববর্মণ এর বলতায়েরনি কান্দিদ (ভলতেয়ার এর ক্যান্ডিডের ককবরক ভাষায় অনুবাদ) (২০১৪), সুপ্রভা দেববর্মণ এর সমারসেট মমনি কথমারক (২০১৪) ইত্যাদি।

সংকলনসম্পাদনা

বর্তমান শতাব্দীতে এসে ককবরক লেখকদের কবিতা, নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ এবং লোকগাঁথা প্রভৃতি নানা ঘরানার বেশ কিছু সৃষ্টিশীল রচনা এককভাবে প্রকাশিত হতে দেখা যায়। যেমন:- বিনয় দেববর্মণ রচিত ককবরক কবিতার সংকলন (২০০৯), দীপঙ্কর চক্রবর্তীর রংবতং (২০১১) , সুরঞ্জন কুন্ডু চৌধুরীর সুরঙ্গ (২০১৪) এবং সুরী (২০১৫), নন্দ কুমার দেববর্মণের "থুঙ্গুক বউচাপ" (২০১৫)।

বর্তমানসম্পাদনা

ককবরক সাহিত্যকর্মের বর্তমান বিকাশধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ককবরক সাহিত্য বিভিন্ন সমৃদ্ধ ভাষার সমৃদ্ধ সাহিত্যের ছোঁয়ায় তার সাবলীলতা এবং স্বতন্ত্র মৌলিকত্বের সাথে ধীরে ধীরে কিন্তু অবিচলভাবে এগিয়ে চলেছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২০১৩-১১-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-৩০ 

গ্রন্থ-পঞ্জিসম্পাদনা

  • ককবরক সাহিত্য - এক শতাব্দীর বিকাশ, রচনায় এন.সি. দেব বর্মণ, "তুই " পত্রিকা, উপজাতীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট, আগরতলা।
  • ত্রিপুরা-এ ককবরক চর্চা, রচনায় রামপ্রসাদ দত্ত।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা