খাওয়ার স্যালাইন

পানিস্বল্পতা রোধে জীবন রক্ষাকারী উপাদান
(ওরস্যালাইন থেকে পুনর্নির্দেশিত)

খাওয়ার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন হচ্ছে ডায়রিয়া বা যে কোন পানিস্বল্পতা রোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী উপাদান। ওরস্যালাইন বা খাবার স্যালাইন হচ্ছে শরীরের পানিস্বল্পতা ও লবণঘাটতি পূরণ করার জন্য মুখে গ্রহনযোগ্য লবণ ও গ্লুকোজ মিশ্রিত পানি। ডায়রিয়া বা কলেরায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানা এবং অতি গরমে ঘামের কারণে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি মানবদেহেরর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়। পানিস্বল্পতা পূরণ বা রিহাইড্রেশন এসব ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি। এসমস্থ রোগে যে স্যালাইন মুখে খেতে হয় সেটিই ওরস্যালাইন বা খাবার স্যালাইন।[১] ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়।[১]

খাওয়ার স্যালাইন
Oral rehydration solution.xcf

ইতিহাস ও আবিষ্কারকসম্পাদনা

ওরস্যালাইনের আবিস্কারকের নাম ডা. রফিকুল ইসলাম। ১৯৩৬ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রফিকুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে  তৎকালীন আইসিডিডিআর-এ ১৯৬০ সালে যোগ দেন। তিনি  আইসিডিডিআরবিতে থাকাকালীন সময়ে বেশ কিছু  ওষুধ আবিষ্কার করেন। এর মধ্যে ওরস্যালাইন অন্যতম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বাংলাদেশি শরণার্থী কলেরা ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। সে সময়ে ওই রোগীদের বাঁচাতে ওরস্যালাইনের প্রয়োগ করেন ডা. রফিকুল ইসলাম। এবং এতে যথেষ্ট ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তার আবিষ্কার ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডা. রফিকুল ইসলামের ওরস্যালাইনকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে দেশি এনজিও  ব্র্যাক এই ওরস্যালাইনকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়।[২]

ওরস্যালাইন বানানোর পদ্ধতি[৩]সম্পাদনা

  • শুরুতে অবশ্যই দুই হাত, স্যালাইন বানানোর পাত্র এবং চামচ ভালোমতো পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • প্রথমে পাত্রে ২ পোয়া বা আধা লিটার বিশুদ্ধ পানি নিতে হবে।
  • তাতে প্যাকেটের পুরো মিশ্রণটিই ঢেলে দিতে হবে।
  • এরপর পরিষ্কার চামচের সাহায্যে মিশ্রণ ও পানি ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়রিয়া ভালো হওয়ার আগপর্যন্ত খাওয়াতে থাকতে হবে।

সতর্কতা[৩]সম্পাদনা

  • কোনোভাবেই পানির পরিমাণ কম বেশি করা যাবে না, এক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল তো পাওয়া যাবেই না, বরং শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিও হতে পারে।
  • কোনোভাবেই স্যালাইনে পানি ছাড়া অন্য কিছু যেমন দুধ, স্যুপ বা ফলের জ্যুস বা সফট ড্রিংকসেও মেশানো যাবে না। এমনকি চিনিও মেশানো যাবে না।
  • শিশুদের ক্ষেত্রে স্যালাইন কাপে করে খাওয়ানোই ভালো, কারণ ফিডিং বোতল পুরোপুরি পরিষ্কার করা ঝামেলা হয়ে যায় অনেকসময়।
  • গরম পানিতে স্যালাইন বানানো যাবে না। স্যালাইনের পানিও গরম করা যাবে না।
  • বানানোর পর ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্যালাইন ভালো থাকে। অর্থাৎ বানানোর ১২ ঘণ্টা পর আর স্যালাইন খাওয়া যাবে না, সেটি ফেলে দিতে হবে।

ঝুঁকিসম্পাদনা

খাওয়ার স্যালাইন সবসময় সঠিক নিয়মে বানাতে হবে। মুখের স্বাদ বাড়ানোর জন্য কোন উপকরণ বাড়তি প্রয়োগ করলে যে কোন সময় এটি মৃত্যুঝুঁকির কারন হতে পারে।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "খাওয়ার স্যালাইন - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-২৯ 
  2. "ওরস্যালাইনের আবিষ্কারক ডা. রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-২৯ 
  3. "বাংলাদেশ করোনা-১৯ তথ্য"corona.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-২৯ 
  4. "ওরস্যালাইনের ভুল ব্যবহার বাড়ায় শিশুর মৃত্যুঝুঁকি"www.dainikamadershomoy.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-২৯