ওজন ও পরিমাপ বিষয়ক সাধারণ সম্মেলন


ওজন ও পরিমাপ বিষয়ক সাধারণ সম্মেলন (ফরাসী ভাষায়: Conférence Générale des Poids et Mesures, সংক্ষেপে সিজিপিএম এবং কখনও কখনও জিসিডব্লিউএম) হ'ল ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজার্স এর সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধীন এবং মিটার কনভেনশন এর শর্তে ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্ত-সরকারী সংস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলি পরিমাপ বিজ্ঞান এবং পরিমাপের মান সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে একসাথে কাজ করেন। সিজিপিএম গঠিত হয়েছে সদস্য দেশসমূহ এর সরকারের প্রতিনিধি এবং সিজিপিএমের সহযোগী সংগঠনের পর্যবেক্ষক সমন্বয়ে। কর্তৃপক্ষের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর ওয়েটস অ্যান্ড মেজার্স (আইসিডাব্লুএমএম) (ফরাসী ভাষায়: Comité international des poids et mesures (সিআইপিএম) বিআইপিএম-এর একচেটিয়া দিকনির্দেশ এবং তদারকি কার্যকর করে।

জেনারেল কনফারেন্স সিআইপিএম-এর কার্য সম্পাদনের প্রতিবেদন গ্রহণ করে; এটি আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (এসআই) এর প্রচার ও উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলি নিয়ে আলোচনা ও পরীক্ষা করে; এটি নতুন মৌলিক মেট্রোলজিকাল নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক রেজোলিউশনের ফলাফলকে অনুমোদন করে; এবং এটি বিআইপিএম-এর অনুদান সহ বিআইপিএমের সংস্থাপন এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত সমস্ত প্রধাণ প্রধাণ বিষয় স্থির করে।[১]

সাধারণত প্রতি চার বছরে একবার সিজিপিএমের সভা প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়। সিজিপিএমের ২৫ তম সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৮ থেকে ২০ নভেম্বর [২] এবং সিজিপিএমের ২৬ তম সভাটি ২০১৮ সালের ১৩ থেকে ১৬ নভেম্বর ভার্সাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[৩]

প্রথমদিকে মিটার কনভেনশন কেবলমাত্র কিলোগ্রাম এবং মিটার বিষয় দুটিই দেখভাল করত। কিন্তু ১৯২১ সালে সমস্ত ভৌত পরিমাপের জন্য সিদ্ধান্তের পরিধি বাড়িয়ে মেট্রিক পদ্ধতির সমস্ত দিকগুলি এখন দেখাশোনা করে। ১৯৬০ সালে ১১ তম সিজিপিএম আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি অনুমোদন করে যা সাধারণত "এসআই" নামে পরিচিত।

প্রতিষ্ঠাসম্পাদনা

২০ মে ১৮৭৫ এ কনভেনশন ডু ম্যাট্রে (মিটার কনভেনশন) নামে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি[৪] ১৭ টি দেশ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুসারে ওজন এবং পরিমাপের আন্তর্জাতিক ব্যুরো (বিআইপিএম) নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যার অন্তর্গত আছে:[৫]

  • কনফারেন্স জেনারেল দেস পয়েদস এট মেজারস (সিজিপিএম) - সদস্য দেশগুলির সরকারী প্রতিনিধিদের এবং সকল কাজের জন্য সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের আন্তঃসরকারী সম্মেলন;
  • কমিতি ইন্তারন্যাশনাল দেস পয়েদস এট মেজার্স (সিআইপিএম) - নির্বাচিত বিজ্ঞানী এবং মেট্রোলজিস্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যা সিজিপিএমের সিদ্ধান্তগুলি প্রস্তুত করে, কার্যকর করে এবং আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ ব্যুরোর তদারকির জন্য দায়বদ্ধ থাকে;
  • একটি স্থায়ী পরীক্ষাগার ও সচিবালয়ের কাজ - যার ক্রিয়াকলাপগুলির মধ্যে রয়েছে মূল ভৌত পরিমাণের বুনিয়াদি মান এবং স্কেল এবং আন্তর্জাতিক প্রোটোটাইপ মান রক্ষণাবেক্ষণ করা।

সিজিপিএম তার সদস্যদের সরকারের পক্ষে কাজ করে। এটি সিআইপিএম-এ সদস্যদের নিয়োগ দান করে, সিআইপিএমের কাছ থেকে রিপোর্ট গ্রহণ করে যা সদস্য দেশগুলির সরকার এবং জাতীয় পরীক্ষাগারগুলিতে পাঠানো হয় এবং এখানে আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতির পরিবর্তনের বিষয়ে সিআইপিএমের প্রস্তাবগুলি যথাযথ অনুমোদন করা হয় ( এসআই), বিআইপিএমের জন্য বাজেট অনুমোদন করা হয় (২০১৮ সালে €১৩ মিলিয়নেরও বেশি)। এটি বিআইপিএমের সংগঠন এবং বিকাশ সম্পর্কিত সমস্ত মুখ্য বিষয়গুলি স্থির করে।[৬][৭]

কাঠামোটি স্টক কর্পোরেশন এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাতে বিআইপিএম হ'ল সংস্থা, সিজিপিএম হ'ল শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভা, সিআইপিএম হ'ল সিজিপিএম দ্বারা নিযুক্ত পরিচালনা পর্ষদ এবং সেন্ট-ক্লাউড সাইটের কর্মীরা প্রতি দিনের কাজটি সম্পাদন করেন।

সদস্যপদ নির্ণায়কসম্পাদনা

সিজিপিএম দুটি শ্রেণীর সদস্যপদের স্বীকৃতি দেয় - বিআইপিএমের কার্যক্রমে অংশ নিতে ইচ্ছুক দেশগুলি পূর্ণ সদস্যপদ এবং সেসব দেশ বা অর্থনীতি কেবল সিআইপিএম এমআরএ-এর কার্যক্রমে অংশ নিতে চায় তারা পায় সহযোগী সদস্যপদ। সহযোগী সদস্যরা সিজিপিএমে-এর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। যেহেতু কনভেনশন সংস্থা এবং জাতীয় সরকারগুলির মধ্যে সমস্ত আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ সদস্য রাষ্ট্র ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত দ্বারা পরিচালিত হয় তাই সদস্য দেশগুলিরও অবশ্যই ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।[৮] যদিও উভয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধরত জাতিসমূহ সিজিপিএমের সদস্যপদ বজায় রেখেছিল।[৯] সিজিপিএম সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরাসী একাডেমি অফ সায়েন্সেস[১০]

১৯৭৫ সালে মিটার সম্মেলনে অংশ নেওয়া কুড়িটি দেশের মধ্যে সতেরো জন প্রতিনিধি ২০ মে ১৮৭৫-এর কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। ১৮৮৪ সালের এপ্রিল মাসে লন্ডনের ওয়ার্ডেন অফ স্ট্যান্ডার্ডস এর পক্ষে এইচ জে চ্যানি বেসরকারীভাবে বিআইপিএমের সাথে যোগাযোগ করে ইউনাইটেড কিংডমে নির্মিত কিছু মিটারের মান খতিয়ে দেখবে কিনা তার অনুসন্ধান করেন। বিআইপিএমের পরিচালক ব্রোশ জবাবে বলেছিলেন যে অ-সদস্য দেশগুলির জন্য এই জাতীয় কোনও কাজ সম্পাদনের জন্য অনুমোদন নেই। ১৮৮৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সরকার যুক্তরাজ্যের পক্ষে তখন এই সম্মেলনে স্বাক্ষর করে।[১১] এই সংখ্যা ১৯০০ সালে ২১, ১৯৫০ সালে ৩২ এবং ২০০১ সালে বেড়ে হয়েছে ৪৯। ১৪ নভেম্বর ২০১৮ (2018-11-14)-এর হিসাব অনুযায়ী সাধারণ সম্মেলনের ৫৯ সদস্য রাষ্ট্র এবং ৪২ সহযোগী রাষ্ট্র ও অর্থনীতি যুক্ত রয়েছে (প্রথম বন্ধনীতে যোগদানের সাল):[১২]

সদস্য রাষ্ট্রসম্পাদনা

আর্জেন্টিনা (১৮৭৭)
অস্ট্রেলিয়া (১৯৪৭)
অস্ট্রিয়া (১৮৭৫)[n1 ১]
বেলজিয়াম (১৮৭৫)
ব্রাজিল (১৯২১)
বুলগেরিয়া (১৯১১)
কানাডা (১৯০৭)
চিলি (১৯০৮)
চীন (১৯৭৭)
কলম্বিয়া (২০১২)
ক্রোয়েশিয়া (২০০৮)
চেক প্রজাতন্ত্র (১৯২২) [n1 ২]
ডেনমার্ক (১৮৭৫)
মিশর (১৯৬২)
ফিনল্যান্ড (১৯১৩)
ফ্রান্স (১৮৭৫)
জার্মানি (১৮৭৫)
গ্রীস (২০০১)
হাঙ্গেরি (১৯২৫) [n1 ১]
ভারত (১৯৫৭)
ইন্দোনেশিয়া (১৯৬০)
ইরান (১৯৭৫)
ইরাক (২০১৩)
আয়ারল্যান্ড (১৯২৫)
ইস্রায়েল (১৯৮৫)
ইতালি (১৮৭৫)
জাপান (১৮৮৫)
কাজাখস্তান (২০০৮)
কেনিয়া (২০১০)
লিথুয়ানিয়া (২০১৫)
মালয়েশিয়া (২০০১)
মেক্সিকো (১৮৯০)
মন্টিনিগ্রো (২০১৮)
নেদারল্যান্ডস (১৯২৯)
নিউজিল্যান্ড (১৯৯১)
নরওয়ে (১৮৭৫) [n1 ৩]
পাকিস্তান (১৯৭৩)
পোল্যান্ড (১৯২৫)
পর্তুগাল (১৮৭৬)
রোমানিয়া (১৮৮৪)
রাশিয়ান ফেডারেশন (১৮৭৫) [n1 ৪]
সৌদি আরব (২০১১)
সার্বিয়া (২০০১)
সিঙ্গাপুর (১৯৯৪)
স্লোভাকিয়া (১৯২২)[n1 ২]
স্লোভেনিয়া (২০১৬)
দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৬৪)
দক্ষিণ কোরিয়া (১৯৫৯)
স্পেন (১৮৭৫)
সুইডেন (১৮৭৫)[n1 ৩]
সুইজারল্যান্ড (১৮৭৫)
থাইল্যান্ড (১৯১২)
তিউনিসিয়া (২০১২)
তুরস্ক (১৮৭৫) [n1 ৫]
ইউক্রেন (২০১৮)
সংযুক্ত আরব এমিরেটস (২০১৫)
যুক্তরাজ্য (১৮৮৪)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (১৮৭৮)
উরুগুয়ে (১৯০৮)

মন্তব্যসম্পাদনা
  1. Joined originally as Austria-Hungary
  2. Joined originally as part of Czechoslovakia
  3. Joined originally as part of Sweden and Norway
  4. Joined originally as the Russian Empire
  5. Joined originally as the Ottoman Empire

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "BIPM - official reports"www.bipm.org। ২০২০-১২-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৪-২৬ 
  2. "BIPM - 25th meeting of the CGPM: 18-20 November 2014"www.bipm.org। ১১ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২০ 
  3. "BIPM - 26th CGPM (2018)"www.bipm.org 
  4. "Convention du mètre" (PDF) (French ভাষায়)। Bureau international des poids et mesures (BIPM)। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১১1875 text plus 1907 and 1921 amendments 
  5. "The metre convention"Bureau international des poids et mesures (BIPM)। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১১ 
  6. "General Conference on Weights and Measures"International Bureau of Weights and Measures (BIPM)। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১২ 
  7. "The BIPM headquarters"International Bureau of Weights and Measures (BIPM)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০১২ 
  8. "General Conference on Weights and Measures"। Bureau International des Poids et Mesures। ২০১১। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  9. "Members of the International Committee for Weights and Measures (CIPM)" (PDF)। Bureau International des Poids et Mesures। অক্টোবর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  10. "The Metre Convention"। La métrologie française। ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  11. Quinn, Terry (২০১২)। From Artefacts to Atoms: The Bipm and the Search for Ultimate Measurement StandardOxford University Press। পৃষ্ঠা 133–135। আইএসবিএন 978-0-19-530786-3 
  12. "Member States and Associates"। Bureau International des Poids et Mesures। ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৮