ওএসআই মডেল

যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্ণনা করার জন্য ৭ স্তরবিশিষ্ট মডেল

ওএসআই মডেলের পূর্ণরুপ হচ্ছে- ওপেন সিস্টেম ইন্টারকানেকশন মডেল। কম্পিউটার এবং অন্যান্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইসের মধ্যে কিভাবে যোগাযোগ গড়ে উঠবে তা নির্দেশ করে ওএসআই মডেল। এটি একটি রেফারেন্স মডেল অর্থাৎ এটাকে শুধু রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়; বাস্তবিক কোনো ব্যবহার নেই।

কম্পিউটার বা মোবাইল তৈরির প্রথম দিকে এক মডেলের কম্পিউটার থেকে ডাটা অন্য মডেলের কম্পিউটারে পাঠানো যেত না। উদাহরণস্বরূপ অ্যাপলের কম্পিউটারে কোনো ভিডিও থাকলে সেটা লেনেভোর কম্পিউটার থেকে দেখা যাবেনা। পেনড্রাইভ দিয়ে নিলেও সেটি লেনেভোর কম্পিউটারে সাপোর্ট করবে না।

এই সমস্যা দূরকরণের জন্যই ওএসআই মডেলের তৈরি। যত রকমের ডিজিটাল ডিভাইস যাতে ডাটার আদান-প্রদান করা সম্ভব সবাই ওএসআই মডেল অনুসরণ করে ডাটা পাঠাবে। এতে করে যে যে ডিভাইসই ব্যবহার করুক না কেন সবাই ডাটাগুলো এক্সেস করতে পারবে।

ওএসআই মূলত ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগ করার একটি স্টান্ডার্ড। নেটওয়ার্কিং এর ভিত্তি হচ্ছে ওএসআই মডেল। ওএসআই মডেল অনুযায়ী সমস্ত টেলিযোগাযোগে প্রবাহিত ডাটা ৭টি লেয়ারে বিভক্ত।

লেয়ার সমূহসম্পাদনা

  1. ফিজিক্যাল লেয়ার
  2. ডাটা লিংক লেয়ার
  3. নেটওয়ার্ক লেয়ার
  4. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার
  5. সেশন লেয়ার
  6. প্রেজেন্টেশন লেয়ার
  7. অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৭০-এর দশকের শুরুর এবং মাঝামাঝি সময়ে, নেটওয়ার্কিং ছিল মূলত সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা (যুক্তরাজ্যে এনপিএল নেটওয়ার্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরপানেট, ফ্রান্সে সাইক্লেড) অথবা মালিকানাধীন মানসম্পন্ন, যেমন এইবিএম এর সিস্টেমস নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার এবং ডিজিটাল যন্ত্রপাতি কর্পোরেশনের ডিইসিনেট। পাবলিক ডেটা নেটওয়ার্কগুলি কেবলমাত্র আবির্ভূত হতে শুরু করেছিল এবং এগুলি ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে এক্স.২৫ স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করতে শুরু করে।[১][২]

ওএসআই একটি শিল্প প্রচেষ্টা ছিল, শিল্পের অংশগ্রহণকারীদের মাল্টি-ভেন্ডার ইন্টারঅপার্যাবিলিটি প্রদানের জন্য সাধারণ নেটওয়ার্ক মানদণ্ডে একমত হওয়ার চেষ্টা করা।[৩][৪] বড় নেটওয়ার্কগুলির জন্য একাধিক নেটওয়ার্ক প্রোটোকল স্যুট সমর্থন করা সাধারণ ছিল, অনেক ডিভাইস সাধারণ প্রোটোকলের অভাবের কারণে অন্যান্য ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ করতে অক্ষম ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে, প্রকৌশলী, সংস্থা এবং দেশগুলি কোন মান, ওএসআই মডেল বা ইন্টারনেট প্রোটোকল স্যুট, এর ফলে সবচেয়ে ভাল এবং সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার নেটওয়ার্কের বিষয়ে মেরুকরণে পরিণত হয়েছিল।[৫] ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে ওএসআই যখন উন্নত হয়েছিল এর নেটওয়ার্কিং মান,[৬][৭] টিসিপি/আইপি ইন্টারনেট ওয়ার্কিংয়ের জন্য মাল্টি-ভেন্ডার নেটওয়ার্কে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Davies, Howard; Bressan, Beatrice (২০১০-০৪-২৬)। A History of International Research Networking: The People who Made it Happen (ইংরেজি ভাষায়)। John Wiley & Sons। আইএসবিএন 978-3-527-32710-2। ২০২১-০৮-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০৯ 
  2. "The Evolution of Packet Switching" (PDF)। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১ 
  3. Shaw, Keith (২০২০-১০-১৪)। "The OSI model explained and how to easily remember its 7 layers"Network World (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০৮-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০৯ 
  4. Russell, Andrew L. (২০১৪-০৪-২৮)। Open Standards and the Digital Age: History, Ideology, and Networks (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন 978-1-139-91661-5। ২০২১-০৮-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০৯ 
  5. "Standards Wars" (PDF)। ২০০৬। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১ 
  6. Inc, IDG Network World (১৯৮৮-১০-১০)। Network World (ইংরেজি ভাষায়)। IDG Network World Inc। ২০২১-০৮-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০৯ 
  7. Inc, IDG Network World (১৯৮৮-০২-১৫)। Network World (ইংরেজি ভাষায়)। IDG Network World Inc। ২০২১-০৮-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-০৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা