এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড (ইংরেজি: A H Wheeler & Co (P) Ltd) একটি ভারতীয় মালিকানাধীন কোম্পানি। এইটি একটি গ্রন্থ বিপণীর শৃঙ্খলা। ১৮৭৭ সালে এলাহাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে[১] এর শুরু করেছিলেন ফরাসি দেশীয় লেখক Émile Moreau, ভারতীয় ব্যবসায়ী টি. কে. ব্যানার্জি ইত্যাদি কয়েকজন ব্যক্তিত্ব।

এ এইচ হুইলার
ধরনগ্রন্থ বিপনী
প্রতিষ্ঠাকালএলাহাবাদ (১৮৭৭)
সদরদপ্তর
প্রধান ব্যক্তি
Émile Moreau, টি. কে. ব্যানার্জি
(সহ-প্রতিষ্ঠাপক)
ওয়েবসাইটwww.ahwheeler.com

এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানির গ্রন্থ বিপনী শৃঙ্খলা ভারতের, বিশেষত উত্তর-মধ্য ভারতের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনকে জুড়ে হয়েছিল। [২][৩] ১৯৫০ সালে ব্যানার্জি পরিবারে এর মালিকানাস্বত্বটি যায়। ২০০৪ সালে ২৫৮ টা রেলওয়ে স্টেশনে হুইলার শৃঙ্খলার গ্রন্থ বিপণী ছিল। গ্রন্থ বিক্রির মাধ্যমে ভারতীয় রেলের লাভ করা রাজস্বের ৮০ শতাংশ অবদান এই কোম্পানিটি দিয়েছিল।[২] এইসময়ে হুইলার কোম্পানি ছিল ভারতীয় রেলওয়ে স্টেশনসমূহের প্রায় একছত্র গ্রন্থ বিক্রেতা, যে একছত্রতা ২০০৪ সালে হয়। ভারতীয় রেলের প্ল্যাটফর্মের দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রন্থ বিক্রেতা ছিল মেসার্স হিগিনবোথান লিমিটেড; এই কোম্পানিটি দক্ষিণ রেলওয়ে এবং আংশিক ভাবে দক্ষিণ-মধ্য রেলওয়ের স্টেশনসমূহকে জুড়ে হয়েছিল।[৪] এর মুখ্য কার্যালয় এলাহাবাদে অবস্থিত এবং এলাহাবাদ থেকে সমগ্র বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।[১]

ইতিহাস

সম্পাদনা

প্রায় ১৫০ বছর আগে ঢাকা থেকে ব্যানার্জি উপাধির একটি পরিবার এলাহাবাদে প্রব্রজন করেছিল। এই পরিবারের যুবক টি.কে. ব্যানার্জি ছিলেন বই-ওয়ালা এবং বই সংগ্রাহক। একজন ফরাসি দেশীয় ব্যক্তি Emile Moreau’র সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। দুই বন্ধু গড়ে তুলেছিলেন ৪৫,০০০টিরও বেশি একটি বিশাল বইয়ের সংগ্রহ। স্বাভাবিকভাবে এই বিশাল সংগ্রহটি সম্ভারে রাখা দুজনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তখন দুই বন্ধু একটি উপায় বার করেন। ১৮৭০ সালের অগ্রভাগে তারা এলাহাবাদ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বইয়ের বিশাল স্তুপটি তুলে ধরেন এবং সেগুলি নূন্যতম মূল্যে বিক্রি করতে আরম্ভ করেন। বই বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্রয়কার্য চালিয়ে যান। এইভাবে তাদের মাথায় একটি নতুন ব্যবসায়ের ধারণা চলে আসে।[৫]

টি.কে.ব্যানার্জি, Emile Moreau এবং তিনজন অন্য ব্যক্তি (এর দু'জন ব্রিটিশ) একটি কোম্পানি গঠন করে ১৮৭৭ সালে এলাহাবাদ স্টেশনে একটি বিপণী উন্মুক্ত করেন। অচিরেই অন্যান্য স্টেশনেও তাদের বিপণী সম্প্রসারিত হয়। ১৯০৫ সালে হুইলার কোম্পানি হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনের বিপণীটি ব্রহ্মদেশীয় সেগুন কাঠে ইংলন্ড থেকে তৈরি করিয়ে এনেছিল। এই বিপণীটির একটি নমুনা বর্তমানে কোম্পানির কার্যালয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।[৬]একটিও কব্জা বা নাট-বল্টু ব্যবহার না করে, শুধুমাত্র স্লাইডিং প্যানেল দিয়ে তৈরি করা কাঠের স্টলটিকে ভারতীয় রেল ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে হেরিটেজ শিরোপা দেয়। [৭]

নামকরণ

সম্পাদনা

হুইলার কোম্পানি নামটি ধার করেছিলেন লন্ডনের বিখ্যাত এবং সফল গ্রন্থ বিপণী "আর্থার হেনরী হুইলার"-এর থেকে। কিন্তু এই বিপণীর সঙ্গে এ এইচ হুইলার কোম্পানির কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বা অন্য সম্পর্ক ছিল না।[৮]

একছত্রতা বিলোপ

সম্পাদনা

ব্রিটিশ সময় থেকে এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি রেলওয়ে স্টেশনের প্রায় একছত্র গ্রন্থ বিক্রেতা ছিল। দক্ষিণ রেলওয়ে এবং দক্ষিণ মধ্য রেলওয়ের কিছু অংশ বাদ দিয়ে অনেকগুলি জোনাল রেলওয়েতে এই কোম্পানিটি গ্রন্থ বিপনী চালিয়ে আসছিল। কিন্তু ২০০২ সালে প্রথমবারের জন্য হুইলার প্রত্যাহ্বানের মুখোমুখী হয়, যখন সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চা সরকার হুইলার কোম্পানির বই বিক্রীর চুক্তি নবীকরণ বন্ধ করেন।[৯] ২০০৪ সালে ভারতীয় রেল মন্ত্রালয় রেল স্টেশনসমূহের জন্য নতুন গ্রন্থ-নীতি গ্রহণ করে। রেল মন্ত্রালয়ের একটি সার্কুলারে বলা হয় যে, মেসার্স এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি একক বিক্রির অধিকার লাভ করবে না এবং তাদের লাভ করার অধিকার অন্যদের মতো হবে।[১০]

রুডইয়ার্ড কিপলিং এবং হুইলার কোম্পানি

সম্পাদনা

ইঙ্গ-ভারতীয় লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিঙের গ্রন্থের প্রথম প্রকাশক ছিল এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি। তার "প্লেইন টেলস ফ্রম দি হিলস্" এবং অন্য ৬টি গল্প-পুঁথি "ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরী সিরিজ" শিতানে হুইলার প্রকাশ করেছিল। এই গ্রন্থগুলি রেলওয়ে স্টেশনে থাকা হুইলারের নিজস্ব গ্রন্থ বিপনীর মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গ্রন্থগুলির দাম ছিল এক টাকা বা এক পাউন্ডের পনেরো ভাগের একভাগ। রিচার্ড জাফা কিপলিঙের এই গ্রন্থসমূহকে "শুরুর পর্যায়ের পেপারব্যাক" সংস্করণ বলে মন্তব্য করেছে।[১১][১২]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. Motihar, Jhilmil (২০১১-০৮-১৯)। "The original Wheeler dealers"। New Delhi: HT Media। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২ 
  2. Singh, Garima (২০০৪-০৭-০৭)। "Wheeler, Wheeler, more dealers"। Kolkata: The Telegraph। ২০১৪-১১-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২ 
  3. Derek O'Brien (১ জানুয়ারি ২০০৬)। The Penguin-CNBC-TV18 business yearbook 2006-07। New York। আইএসবিএন 978-0-14-310098-0। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২ 
  4. Chaterjee, Rimi B. (May, 2011)। "Five centuries of print"Kathmandu: The Southasia Trust। ৮ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ 9 April 2012  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. http://www.livemint.com/Leisure/r8EEDa8JaP5xEdxS5kN7wO/The-original-Wheeler-dealers.html
  6. http://www.livemint.com/Leisure/r8EEDa8JaP5xEdxS5kN7wO/The-original-Wheeler-Wheeler-dealers.html
  7. "কলকাতার কডচা - দাও ফিরে সে লাবণ্য"। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৬-১৮ 
  8. Sethi, Atul (২০১১-০৯-০৪)। "Train of thoughts"। Mumbai: Bennett, Coleman & Co. Ltd.। ২০১৩-০১-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২ 
  9. http://www.financialexpress.com/news/ah-wheelers-future-uncertain/110007/0
  10. Kant, Kamal (২০০৪-০৭-০৭)। "(COMMERCIAL CIRCULAR NO. 19 OF 2004) Sub: Bookstall Policy – 2004" (পিডিএফ)। New Delhi: GOVERNMENT OF INDIA, MINISTRY OF RAILWAYS, RAILWAY BOARD। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২ 
  11. J. W. Cunliffe (৩০ মে ২০০৫)। English Literature During the Last Half Century। Kessinger Publishing। পৃষ্ঠা 171–172। আইএসবিএন 978-1-4179-8898-3। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২ 
  12. Richard Jaffa (২ জুন ২০১১)। Man and Mason-Rudyard Kipling। AuthorHouse। পৃষ্ঠা 96–। আইএসবিএন 978-1-4567-8134-7। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০১২