প্রধান মেনু খুলুন

এরিক হোলিস

ইংরেজ ক্রিকেটার

উইলিয়াম এরিক হোলিস (ইংরেজি: Eric Hollies; জন্ম: ৫ জুন, ১৯১২ - মৃত্যু: ১৬ এপ্রিল, ১৯৮১) স্টাফোর্ডশায়ারের ওল্ডফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ১৯৩২ থেকে ১৯৫৭ সময়কালে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি লেগস্পিনার ছিলেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন এরিক হোলিস

এরিক হোলিস
এরিক হোলিস.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম এরিক হোলিস
জন্ম(১৯১২-০৬-০৫)৫ জুন ১৯১২
ওল্ড হিল, স্টাফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৬ এপ্রিল ১৯৮১(1981-04-16) (বয়স ৬৮)
চিনলে, ডার্বিশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ স্পিন
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৭৭)
৮ জানুয়ারি ১৯৩৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২৫ জুলাই ১৯৫০ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৩২–১৯৫৭ওয়ারউইকশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৩ ৫১৫
রানের সংখ্যা ৩৭ ১,৬৭৩
ব্যাটিং গড় ৫.২৮ ৫.০০
১০০/৫০ –/– –/–
সর্বোচ্চ রান ১৮* ৪৭
বল করেছে ৩,৫৫৪ ১৩০,৬২৫
উইকেট ৪৪ ২,৩২৩
বোলিং গড় ৩০.২৭ ২০.৯৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৮২
ম্যাচে ১০ উইকেট ৪০
সেরা বোলিং ৭/৫০ ১০/৪৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ১৭৯/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ জুন ২০১৭

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

১৯৩২ সালে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এজবাস্টনের সাধারণ ও সহজ বোলিং উপযোগী পিচে স্বীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর ১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে অভিষিক্ত হন। অধিকাংশ লেগ স্পিনারের ন্যায় হোলিস বলকে স্পিন করাতেন না। তবে নিখুঁতভাবে বোলিং করায় ফলাফল পেতেন। নিরবিচ্ছন্নভাবে কাউন্টির পক্ষে দীর্ঘসময় ধরে বোলিং করারও অভ্যাস ছিল তার। ১৯৪৯ সালে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এক ইনিংসে একাধারে ৭৩ ওভার বোলিং করেছেন। টপ স্পিন ও গুগলি সহযোগে লেগ ব্রেক বোলিংয়ে ভিন্নতা আনতেন যা ব্যাটসম্যানের পক্ষে সনাক্ত করা বেশ কঠিন ছিল। ফলশ্রুতিতে তিনি অনেকগুলো উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তন্মধ্যে ১৯৪৮ সালের অ্যাশেজ সিরিজে ব্র্যাডম্যানকে আউট করে বেশ সুনাম কুড়ান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসম্পাদনা

বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরিকরণে শ্রমিকের চাহিদা ও সামরিক বাহিনীর সেবা নিরসনকল্পে তিনদিনের ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ সময়ে তিনি বার্মিংহাম ও জেলা লীগে পশ্চিম ব্রোমিচ ডার্টমাউথ দলে খেলেন। তার অসম্ভব ক্রীড়াশৈলীতে দলটিকে অপরাজেয় করে তোলে। পেশাদারী পর্যায়ে ৪৯৯ উইকেট দখল করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সময়কালে পশ্চিম ব্রোমিচ ডার্টমাউথ প্রত্যেক বছরই লীগের শিরোপা জয় করে। যুদ্ধকালীন সময়ে দলটি কেবলমাত্র সাত খেলায় পরাজিত হয়েছিল।[২]

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) প্রতিনিধিত্ব করেছেন।[৩][৪] এ সময়ে তিনি এমসিসি দলের ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ১৯৫০-৫১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন।

শীর্ষে অবস্থানকালে তিনি ইংল্যান্ডের সেরা বোলারদের অন্যতম ছিলেন। এমসিসি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে অস্ট্রেলিয়া সফরে নেয়নি। ১৯৪৬ সালে ওয়ারউইকশায়ার দলকে টেনে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালান ও দেশের শীর্ষস্থানীয় উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। ঐ বছর তুলনামূলকভাবে অনুপযোগী পিচে কোন ফিল্ডারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়াই দশ উইকেটের সবগুলো লাভ করেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি সাতজনকে বোল্ড ও তিনজনকে এলবিডব্লিউ করেন।[১]

১৯৪৭ সালে তার খারাপ সময় কাটে। তবে ১৯৪৮ সালে স্বরূপ ধারন করেন। একমাত্র বোলার হিসেবে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে তাকে সম্ভাব্যরূপে গণ্য করা হতো। নিজস্ব দ্বিতীয় বলেই ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের খেলোয়াড়ী জীবনের চূড়ান্ত টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে বোল্ড করে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন তিনি। তখন ব্র্যাডম্যানের টেস্ট ব্যাটিং গড় ১০০.০০ হবার জন্য দরকার ছিল কেবলমাত্র চার রানের। পাশাপাশি ওভাল টেস্টে শক্তিশালী ব্যাটিং দলের বিপক্ষে ১০৭ রান দিয়ে ৮ উইকেট তুলে নেন।

১৯৪৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার-টেস্টে গড়া সিরিজের সবকটি টেস্টেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। তবে পীচে তার বোলিংয়ের কার্যকারিতা প্রকাশ পায়নি। ১৯৫১ সাল থেকে ইংরেজ বোলিং আক্রমণ কিছুটা দ্বিতীয়-বিশ্বযুদ্ধোত্তর পর্যায়ে চলে গেলেও তিনি আর টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্তরূপে বিবেচিত হননি। তাস্বত্ত্বেও ১৯৫১ সালে ওয়ারউইকশারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে প্রধান ভূমিকা অবলম্বন করেছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সবটুকু সময়ই ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ২১ রানেরও কম গড়ে ২৩২৩ উইকেট দখল করেন। শেষ খেলায় অংশগ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত বেশ ভালো বোলিং করেন। দশমবারের মতো ১০০ উইকেট পান।

১৯৫৭ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। এ সময়ও তিনি ওয়ারউইকশারের যে-কোন বোলারের তুলনায় অধিক উইকেট পেয়েছিলেন। কাউন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর ১৯৫৮ সালে স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন এবং ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত লীগ ক্রিকেটে বোলিংকর্ম চালিয়ে যান।

মূল্যায়ণসম্পাদনা

ঘরোয়া ক্রিকেটে অসম্ভব ক্রীড়াদক্ষতা প্রদর্শন করায় ১৯৫৫ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন তিনি।[৫] এজবাস্টন ক্রিকেটে গ্রাউন্ডের একটি স্ট্যান্ডের নাম রাখা হয়েছে ‘এরিক হলিস স্ট্যান্ড’। এপ্রিল, ১৯৮১ সালে ৬৮ বছর বয়সে ডার্বিশায়ারের চিনলে এলাকায় তার দেহাবসান ঘটে।

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান মন্তব্য করেন যে, ‘হোলিস ক্রিকেটের অন্যতম অসাধারণ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তেরো টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও এ খেলায় তেমন অবদান রাখতে পারেননি। দ্রুতগতিসম্পন্ন লেগ ব্রেক বোলিং করলেও খুব কম সময়ই তাঁকে গুগলি বোলিং করতে দেখা যায়।’ তবে বেটম্যান আরও যুক্ত করেন যে, ‘ব্ল্যাক কান্ট্রি থেকে আগত তীক্ষ্ণ ধারযুক্ত সীমের কারণে তিনি বেশ সম্মানীয় ও কঠোর পরিশ্রমী ক্রিকেটার ছিলেন।’[১]

ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি মোটেই সুবিধা করতে পারেননি। সর্বমোট রান করেছেন ১,৬৭৩ যা মোট উইকেটের চেয়েও ৬৫০টি কম ছিল। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে কোন ইনিংসেই ২০ রান তুলতে ব্যর্থ হন। এরফলে সর্বকালের প্রথম-শ্রেণীর রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। জুলাই, ১৯৪৮ থেকে আগস্ট, ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে একাত্তর ইনিংসের কোনটিতেই দুই অঙ্কের কোঠায় পৌঁছুননি। তার কাছাকাছি রয়েছেন নর্দাম্পটনশায়ারের নবি ক্লার্ক। ১৯২৫ থেকে ১৯২৭ সময়কালে তিনি পঁয়ষট্টি ইনিংসে এ অর্জন করেছিলেন।[৬]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 91। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Midwinter, Eric; The Lost Seasons: Cricket in Wartime 1939-45, p. 122 আইএসবিএন ০৪১৩১৪২৩০২
  3. ACS (১৯৮২)। A Guide to First-Class Cricket Matches Played in the British Isles। Nottingham: ACS। 
  4. "Marylebone Cricket Club Players"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৭ 
  5. "Wisden Cricketers of the Year"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০২-২১ 
  6. Webber, Roy; The Playfair Book of Cricket Records; p. 317. Published 1951 by Playfair Books.

আরও দেখুনসম্পাদনা

পাদটীকাসম্পাদনা

a Jem Shaw between 1865 and 1870 played his first seventy-one first-class innings before reaching double figures.

গ্রন্থপঞ্জীসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা