এম. এ. মুন’এম

ছিলেন একজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও রাজনীতিবিদ। তিনি এরশাদের মন্ত্রীস

মোহাম্মদ আবদুল মুন্এম যিনি এম. এ. মুন'এম নামে পরিচিত ছিলেন। (১৯৩৫-১৯৯৯) ছিলেন একজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও রাজনীতিবিদ। তিনি এরশাদের মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১][২]

মেজর জেনারেল (অবঃ)
এম. এ. মুন'এম
পিএসসি
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ – ৬ আগস্ট ১৯৮৮
কাজের মেয়াদ
২২ মার্চ ১৯৯০ – ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৯ জুলাই ১৯৮৬ – ২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭
কাজের মেয়াদ
২০ মার্চ ১৯৮৯ – ১৬ মার্চ ১৯৯০
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৩০ নভেম্বর ১৯৮৬ – ২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৬ আগস্ট ১৯৮৮ – ২৯ মার্চ ১৯৮৯
বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২২ মার্চ ১৯৯০ – ৪ আগস্ট ১৯৯০
বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৪ মার্চ ১৯৮৬ – ২৫ মে ১৯৮৬
বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২৪ মার্চ ১৯৮৬ – ২৫ মে ১৯৮৬
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মমোহাম্মদ আবদুল মুন্এম
১৯৩৫
কারখানা, বাউফল, পটুয়াখালী
মৃত্যু১৯৯৯
জাতীয়তাবাংলাদেশী
রাজনৈতিক দলজাতীয় পার্টি
প্রাক্তন শিক্ষার্থীলন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য বাংলাদেশ
শাখাবাংলাদেশ সেনাবাহিনী
পাকিস্তান সেনাবাহিনী
পদ মেজর জেনারেল

১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে তিনি মেজর জেনারেলের পদমর্যাদায় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।[৩]

প্রাথমিক জীবন

সম্পাদনা

এম. এ. মুন'এম ১৯৩৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির পটুয়াখালীর বাউফলের কারখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন।[৩]

কর্মজীবন

সম্পাদনা

পাকিস্তান সেনাবাহিনী

সম্পাদনা

এম এ মুন এম ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইলেকট্রিক্যাাল ও মেকানিক্যাল কোরে কমিশন প্রাপ্ত হন। তিনি ১৯৬৯ সালে কোয়েটার কম্যান্ড এন্ড ষ্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্সে উত্তীর্ণ হন। তিনি কোয়েটায় সেনাবাহিনীর ইএমই কলেজ ডাইরেক্টিং স্টাফ, বাংলাদেশ ইন্সপেকসন ও টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট কোর এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের পরিচালক ছিলেন।[৩]

স্বাধীন বাংলাদেশ

সম্পাদনা

এম. এ. মুন’এম ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত দেশের বৃহত্তম ট্রান্সফরমার উৎপাদনকারী সংস্থা চট্টগ্রামের জিইমে প্লান্টের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।

১৯৮৩ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশের বিশেষ দূত হিসেবে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

১৯৮৪ সালের নভেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত কলম্বো প্লান কনসালটেটিভ কমিটির ৩০তম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৮৫ সালের নভেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২৩তম অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

ইসলামিক সংস্থার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা (কেমসেক) বিষয়ে ১৯৮৬ সালের মার্চে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈঠকে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে যোগদান করেন।

রাজনৈতিক জীবন

সম্পাদনা

এম. এ. মুন’এম বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে ২৪ মার্চ ১৯৮৬ থেকে ২৫ মে ১৯৮৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।[৪]

২৪ মার্চ ১৯৮৬ থেকে ২৫ মে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ছিলেন।[৫]

বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি ৯ জুলাই ১৯৮৬ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত এবং ২০ মার্চ ১৯৮৯ থেকে ১৬ মার্চ ১৯৯০ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে ৩০ নভেম্বর ১৯৮৬ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ থেকে ৬ আগস্ট ১৯৮৮ পর্যন্ত এবং ১৬ মার্চ ১৯৯০ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ দায়িত্ব পালন করেন।[৬][৭][৮]

৬ আগস্ট ১৯৮৮ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে ২২ মার্চ ১৯৯০ থেকে ৪ আগস্ট ১৯৯০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যু

সম্পাদনা

এম. এ. মুন’এম ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।[৩]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. খালেদা হাবিব। বাংলাদেশঃ নির্বাচন, জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা ১৯৭০-৯১ 
  2. "বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়"। ১২ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৫ 
  3. রুসেলি রহমান চৌধুরী। বরিশালের প্রয়াত গুণীজন। ইউনিভার্সিটি বুক পাবলিশার্স, ঢাকা। ২০০৬।
  4. "মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপদেষ্টা মহোদয়গণের নাম ও দায়িত্বকাল"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৪ 
  5. "সাবেক মন্ত্রীদের নামের তালিকা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৪ 
  6. "Former Ministers/Advisors"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৪ 
  7. ঢাকা, শওকত হোসেন (১ জুন ২০২৩)। "৫২ বছরের বাজেট, কখন কে দিলেন, কত টাকার দিলেন"দৈনিক প্রথম আলো। ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৪ 
  8. ঢাকা, শওকত হোসেন (৯ জুন ২০২২)। "পাঁচ দশকের বাজেটের গল্প–২, অন্ধকারের এক দশক"দৈনিক প্রথম আলো। ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২৪