ঋত্বিক সান্যাল

ভারতীয় গায়ক

পণ্ডিত ঋত্বিক সান্যাল (জন্ম ১৯শে এপ্রিল ১৯৩৩) হলেন বারাণসীর ভারতীয় হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং ধ্রুপদ সঙ্গীত পণ্ডিত।[১] তিনি কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশন শিল্পকলা অনুষদে শাস্ত্রীয় সংগীতের অধ্যাপক এবং প্রাক্তন ডিন। পণ্ডিত ঋত্বিক সান্যাল ২০১৩ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মাননীয় শ্রী প্রণব মুখার্জির কাছ থেকে ভারতে সংগীতের জন্য সর্বোচ্চ সম্মাননা সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ঋত্বিক সান্যাল
জন্ম (1953-04-12) ১২ এপ্রিল ১৯৫৩ (বয়স ৬৭)
উদ্ভববারাণসী
ধরনহিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত, ধ্রুপদ
পেশাশাস্ত্রীয় গায়ক
কার্যকাল১৯৭৫ - বর্তমান
লেবেলবিহান মিউজিক, মকর রেকর্ডস
ওয়েবসাইটwww.dhrupadindia.com

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

পণ্ডিত ঋত্বিক সান্যাল কাটিহারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ডাগর ঐতিহ্যের কন্ঠ সংগীতের ধ্রুপদ রীতিতে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। মনে করা হয় এটি স্বামী হরিদাস, যিনি পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাস করতেন এবং কিংবদন্তি তানসেনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, এটি তাঁর বংশজ। সান্যাল ধ্রুপদী গানও রচনা করেছেন।

১৯৬৩ থেকে ১৯৭৫-এর মধ্যে তিনি ভারতের মুম্বইয়ে জিয়া মহিউদ্দিন ডাগর এবং জিয়া ফরিদুদ্দিন ডাগরের অধীনে ধ্রুপদী সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে এম.এ. এবং কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীতে স্নাতকোত্তর করেছেন, স্বর্ণপদক নিয়ে। তিনি ১৯৮০ সালে, একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেম লতা শর্মার তত্ত্বাবধানে সংগীতশাস্ত্রে পিএইচডি করেন।

সঙ্গীত জীবনসম্পাদনা

সান্যাল বর্তমানে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশন শিল্পকলা অনুষদে শাস্ত্রীয় সংগীতের অধ্যাপক এবং প্রাক্তন প্রধান ও প্রাক্তন ডিন। বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রায় ৫০টি প্রকাশিত প্রবন্ধ রয়েছে এবং তিনি ধ্রুপদী সঙ্গীতও রচনা করেছেন। তিনি বারাণসীর অল ইন্ডিয়া রেডিও ও দূরদর্শনের "শীর্ষ" শ্রেণীর (ধ্রুপদ) শিল্পী।

তিনি ধ্রুপদের ডগরবানী ঐতিহ্যকে একীভূত করেছেন এবং ধ্রুপদ উপস্থাপনে তাঁর নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র রীতির বিকাশ করেছেন। তিনি আলাপ - জোড় - ঝালা , লয়কারী তে, ধ্বনি সংস্কৃতি এবং শিক্ষাগত উভয় বিভাগে ঐতিহ্যগত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উন্নত প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জন করেছেন।

তিনি ভারতে এবং যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ফ্রান্স, হল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ইসরায়েল, ক্রোয়েশিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস ও জাপানসহ বিদেশের নানা অঞ্চলে কন্ঠ সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। ভারতে তাঁর সঙ্গীত পরিবেশনাগুলির মধ্যে আকাশবাণী এবং দূরদর্শনের জাতীয় সঙ্গীতের অনুষ্ঠান, গোয়ালিয়র তানসেন সমারোহ,[২] বারাণসী ধ্রুপদ মেলা, জলন্ধর হরবল্লভ সংগীত সমারোহ, সপ্তক আহমেদাবাদ, দেশের সমস্ত ধ্রুপদ উৎসব এবং ভারতের অনেক মর্যাদাপূর্ণ সঙ্গীতানুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুরস্কার এবং সম্মানসম্পাদনা

১৪ই ডিসেম্বর ২০১৪ সালে সংগীত মিলন লখনউয়ের তরফ থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি আজীবন উৎসর্গীকৃত থাকা এবং প্রতিশ্রুতির জন্য উত্তর প্রদেশের মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী রাম নায়েকের দ্বারা সংবর্ধনা। ২০১৩ সালে সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার। ২০০৪ সালে সিটি বৈজয়ন্তী সম্মান সিটি মহোৎসব বারাণসী। ২০০২ সালে উত্তর প্রদেশ সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার ১৯৯৫ সালে, বেনারসের ধ্রুপদ উৎসবে বারাণসীর কাশীরাজ ট্রাস্ট এবং মহারাজা ত্রিবাঙ্কোর স্বাতী দ্বারা তিরুনাল পুরস্কার, ধ্রুপদে অসামান্য অবদানের জন্য। ১৯৯০ সালে ভারতীয় সামাজিক ও সংস্কৃতি প্রেমী সংস্থা (আইএসসিএলও)-বারাণসী / কলকাতা দ্বারা সম্মানিত।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Martin, Clayton M.; Clayton, Martin (২০০৮)। Time in Indian Music: Rhythm, Metre, and Form in North Indian Rāg Performance। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 97। আইএসবিএন 9780195339680। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৪ 
  2. Anant Maral Shastri#Saluting the Legends

বহিঃসংযোগসম্পাদনা