ইভান ব্যারো

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার

ইভানহো মোর্ডেকাই ব্যারো (ইংরেজি: Ivan Barrow; জন্ম: ৬ জানুয়ারি, ১৯১১ - মৃত্যু: ২ এপ্রিল, ১৯৭৯) মোর‍্যান্ট বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ইভান ব্যারো
ইভান ব্যারো.jpg
১৯৩০-এর দশকের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ইভান ব্যারো
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামইভানহো মোর্ডেকাই ব্যারো
জন্ম(১৯১১-০১-০৬)৬ জানুয়ারি ১৯১১
মোর‍্যান্ট বে, জ্যামাইকা
মৃত্যু২ এপ্রিল ১৯৭৯(1979-04-02) (বয়স ৬৮)
কিংস্টন, জ্যামাইকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৬)
৩ এপ্রিল ১৯৩০ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৪ জুন ১৯৩৯ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯২৮–১৯৪৬জ্যামাইকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১১ ৬৮
রানের সংখ্যা ২৭৬ ২,৫৫১
ব্যাটিং গড় ১৬.২৩ ২৩.৮৪
১০০/৫০ ১/০ ৩/১০
সর্বোচ্চ রান ১০৫ ১৬৯
বল করেছে ৫৪
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ০/১৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৭/৫ ৭৩/২৭
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ মার্চ ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন ইভান ব্যারো

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

হিয়াম ও ম্যামি ব্যারো নাম্নী দুই সেফ্রাডিক ইহুদি দম্পতির সন্তান তিনি। ফ্রাঙ্ক নর্টন ব্যারো নামীয় অপর যমজ ভ্রাতা রয়েছে তার। উলমার্স স্কুলসে অধ্যয়ন করেছেন তিনি। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত ইভান ব্যারো’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। উইকেট-রক্ষক ও উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। জ্যামাইকায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য ইহুদি ছিলেন ইভান ব্যারো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে এগারোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ইভান ব্যারো। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লর্ডসে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৩০-এর দশকেই সবগুলো টেস্ট খেলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিলান্ড গমনসহ ১৯৩৯ সালে আবারও ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন তিনি। পাঁচটি টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। তন্মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সবকটিতেই অংশগ্রহণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সাত ইনিংসে উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে থেকে ১১টি ডিসমিসাল ঘটান। তন্মধ্যে, লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের বলে বিল পন্সফোর্ডকে স্ট্যাম্পিং করেছিলেন।

প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৩৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ১০৫ রান তুলেছিলেন তিনি।[১] জর্জ হ্যাডলি ৯৯ রানে থাকাবস্থায় তিনি শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তারা দু’জনে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২০০ রান তুলেন। হ্যাডলি ১৬৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ পর্যায়ে দলটি ম্যানি মার্টিনডেল ও লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনসমৃদ্ধ পেস আক্রমণে ইংরেজ ব্যাটসম্যানদের ভ্রুকুটি কুঞ্চিত করছিল। ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী একমাত্র ইহুদি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন।[২] এর এক বছর পূর্বে কিংস্টনে লর্ড টেনিসনের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ২৪৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ সংগ্রহটি অদ্যাবধি জ্যামাইকার পক্ষে রেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে। এ পর্যায়ে তিনি ১৬৯ রান সংগ্রহ করেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া গমনসম্পাদনা

১৯৩০ সালে অ্যাডিলেড টেস্টে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডন ব্র্যাডম্যান বোলিংয়ে নেমে তাকে আউট করেছিলেন। ১৯৩৩ সালে ওয়ালি হ্যামন্ডকে ব্র্যাডম্যান তার দ্বিতীয় উইকেট লাভ করেছিলেন।[৩] ঐ সময়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান উইকেট-রক্ষক ছিলেন। ধীরস্বভাব ও উপযুক্ত খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও ১৯৩৪ সালে সি. এম. ক্রিস্টিয়ানি’র কাছে স্থানচ্যুত হন।

মার্চ, ১৯৩৫ সালে কিংস্টনে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে আরও একটি দূর্লভ ঘটনার সাথে স্বীয় নামকে জড়িয়ে রাখেন। সিরিল ক্রিস্টিয়ানি’র সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এরফলে দুইজন উইকেট-রক্ষকের একযোগে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামার প্রথম ঘটনা ঘটে। পরিচ্ছন্ন কিন্তু দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উইকেট-রক্ষক ছিলেন।

১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে পুণরায় তাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ভেড়ানো হয়। ঐ পর্যায়ে পাঁচ বছরের ব্যবধান ছিল ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় তেমন তার অংশগ্রহণ ছিল না। প্রথম টেস্টটিতে অংশগ্রহণের পর দ্বিতীয় পছন্দের জে. ই. ডি. সিলিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তবে, পূর্বেকার সফরে ৪৫ ইনিংসে সহস্র রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ইভান ব্যারো সচরাচর তার মাঝারি নাম ‘মোর্ডরেড’ রাখতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন ইভান ব্যারো। তার কন্যা মার্চ, ২০০৫ সালে ক্রিকইনফোয় মন্তব্য করেন যে, তথ্যটি সঠিক নয়। এছাড়াও তিনি তার জন্মস্থান সংশোধনের অনুরোধ জানান।

২ এপ্রিল, ১৯৭৯ তারিখে ৬৮ বছর বয়সে জ্যামাইকার কিংস্টন এলাকায় ইভান ব্যারো’র দেহাবসান ঘটে। লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন তাকে উচ্চমার্গীয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. cricinfo.com। "Ivan Barrow Player Profile"। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০০৯ 
  2. Melvyn Barnett (2010). "A history of Jewish first-class cricketers" – Maccabi Australia. Retrieved 11 June 2015.
  3. "Sir Donald Bradman"। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০০৯ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা