সোনাঝরা দিন

(আ গোল্ডেন এজ থেকে পুনর্নির্দেশিত)

সোনাঝরা দিন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত লেখিকা তাহমিমা আনামের প্রথম উপন্যাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ঘিরে এ উপন্যাসের আখ্যান গঠিত।[১] এটি একটি ত্রয়ী উপন্যাসমালার প্রথম পর্ব। ২০০৮ সালে “সেরা প্রথম বই” হিসেবে কমনওয়েলথ লেখক পুরস্কার লাভ করে এই উপন্যাসটি। এটি ২০০৭ সালের গার্ডিয়ান প্রথম বই পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিল। উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়টি ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রান্টা ম্যাগাজিনে রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সোনাঝরা দিন নামে বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়, অনুবাদ করেন মফিদুল হক।[২]

সোনাঝরা দিন
লেখকতাহমিমা আনাম
মূল শিরোনামA Golden Age
অনুবাদকমফিদুল হক
দেশযুক্তরাজ্য
ভাষাইংরেজি
ধরনঐতিহাসিক উপন্যাস, যুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
প্রকাশকজন মারে (যুক্তরাজ্য)
প্রকাশনার তারিখ
মার্চ ২০০৭ (যুক্তরাজ্য)
মিডিয়া ধরনপ্রিন্ট (হার্ডকাভার)
আইএসবিএন০-৭১৯৫-৬০১০-১
ওসিএলসি১৮১৯২৬৬৪০
পরবর্তী বইদ্য গুড মুসলিম 

কাহিনীসম্পাদনা

এই ঐতিহাসিক কল্পকাহিনীমূলক উপন্যাসটি রেহানা হকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রচিত, রেহানা হক একজন বিধবা মা যিনি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যান কারণ তার দুই সন্তানই যুদ্ধের সাথে ক্রমশ জড়িত হয়ে পড়ে। উপন্যাসের শুরু হয় রেহানার স্বামীর মৃত্যু এবং পরে তার সন্তানদের হেফাজত ফিরে পাওয়া মামলায় হেরে যাওয়া নিয়ে, এবং তারপর উপন্যাস দ্রুত এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধ থেকে শুরু হয় যেখানে রেহানা আবার তার সন্তানদের নিজের কাছে ধরে রাখার জন্য লড়াই করে। [৩] রেহানা তার সন্তানদের আবেগপূর্ণ জাতীয়তাবাদ বুঝতে পারেন না। উপন্যাসটির বর্ণনা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে গিয়ে শেষ হয়, যেদিন বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা লাভ করে।

চরিত্রসমূহসম্পাদনা

  • রেহানা হক: প্রধান চরিত্র; যিনি বিধবা ও একজন মা। তিনি কলকাতায় দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। ইকবাল হকের সাথে বিয়ের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান। তার মাতৃভাষা হল উর্দু। তিনি যুদ্ধে তার স্বামীকে হারান।
  • সোহেল: রেহানার ছেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, মুক্তি বাহিনীতে গেরিলা যোদ্ধা হিসাবে যোগ দেয়।
  • মায়া: রেহানার মেয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের খবর প্রচারের জন্য সাংবাদিক হওয়ার জন্য কলকাতায় চলে যায়।
  • জনাবা চৌধুরী: রেহানার বন্ধু ও প্রতিবেশী।
  • সিলভি: জনাবা চৌধুরীর মেয়ে যে সোহেলের প্রেমে পড়ে।
  • শারমিন: মায়ার বন্ধু যাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী করে রাখে এবং বারবার ধর্ষণ করে। তিনি এবং তার গর্ভস্থ সন্তান হাসপাতালে মারা যায়।
  • ইকবাল হক' : রেহানার মৃত স্বামী।
  • মেজর: গেরিলা কমান্ডার, যিনি এক গোপন অপারেশনে আহত হন এবং তার সেবার জন্য তাকে রেহানার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে যে রেহানার প্রেমে পড়ে।
  • সাবীর: সিলভি'র বাগদত্ত, পাকিস্তানের সৈনিক যে বাঙালি হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম করে।
  • জনাব ও জনাবা সেনগুপ্ত: রেহানার বাড়িতে থাকা হিন্দু ভাড়াটে।
  • জনাবা রহমান ও জনাবা আকরাম: রেহানার প্রতিবেশী এবং সেলাইয়ের সহকর্মী।
  • ফয়েজ হক : রেহানার শ্যালক, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করে।
  • পারভিন হক' : ফয়েজের স্ত্রী।

পুরস্কারসম্পাদনা

  • কোস্টা প্রথম উপন্যাস পুরস্কারের জন্য মনোনীত (২০০৭)
  • গার্ডিয়ান প্রথম বই পুরস্কারের জন্য মনোনীত (২০০৭)
  • “সেরা প্রথম বই” হিসেবে কমনওয়েলথ লেখক পুরস্কার (২০০৮)

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা