আল-বুসিরি

মিশরীয় কবি

আল-বুসিরি বা ইমাম বুসিরি (১২১১-১২৯৪) (আরবি: البوصيري) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ বুজুর্গ, ফকিহ বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও বহু ভাষাবিদ ব্যক্তিত্ব; মুসলিম লেখক, শিক্ষক, গণিতবিদ এবং মিশরীয় একজন সুপ্রসিদ্ধ কবি। তিনি প্রচুর কবিতা রচনা করেছিলেন। সেই যুগে তার মতো স্বভাবসিদ্ধ কবি আর কেউই ছিলোনা। তৎকালীন জামানার আলেম সমাজ ও শাসকগোষ্ঠীর নিকট ইমাম আল-বুসিরি যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাকওয়া ও পরহেজগারীর জন্যও তিনি ছিলেন খ্যাতিমান। তিনি ছিলেন সানহাজি জাতিগোষ্ঠীর লোক।[১][২] শাজিলিয়া তরিকায় শেখ আবুল আব্বাস আল-মুরসির একজন সরাসরি শিষ্য ছিলেন তিনি।

ইমাম

শরফুদ্দিন আল-বুসিরি
১৯৬ × ২৬৩
জন্ম১২১১ খ্রি:
মৃত্যু১২৯৪ খ্রি:
সমাধিস্থলআলেকজান্দ্রিয়া, মিশর
পেশা
ভাষাআরবি
উল্লেখযোগ্য রচনাবলিকাসিদা-ই-বুরদা, আল-কাসিদাতুল হামজিয়্যাহ
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারকাসিদা-ই-বুরদা লেখার পর নবি মুহাম্মদ কর্তৃক স্বপ্নযোগে মূল্যবান চাদর প্রাপ্তি,যা জাগ্রত হওয়ার পরও বাস্তবে বিদ্যমান ছিল।

নাম ও নসবনামা

সম্পাদনা

তার পূর্ণ নাম ও নসব হল শরফুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন হাম্মাদ বিন মহসিন বিন আবদুল্লাহ আল-সানহাজি আল-বুসিরি (আরবি: ابو عبد الله محمد بن سعيد بن حماد الصنهاجي البوصيري, রোমানাইজড: Abū ʿAbdallāh Muhammad ibn Saʿīd al-Shanhājī al-Būṣīrī )। পরে তিনি মিশরেও বসবাস করেছিলেন, যেখানে তিনি উজিয়ার ইবনে হিন্নার তত্ত্বাবধানে কবিতা রচনা করেছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি বুসির-এ অতিবাহিত করায় তাকে আল-বুসিরি' বা ইমাম বুসিরি নামে ডাকা হয়।

তিনি শা ৬০৮ বা ৬১০ হিজরির ১লা শওয়াল মুতাবেক ইংরেজি ১২১৩ সালের ৭ই মার্চ দুলাস কসবার সানহাজিয়া কবিলায় জন্ম গ্রহণ করেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল-বুসিরি আলজেরিয়ার ডালাস (ডিলাস) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

পরিচিত হওয়ার কারণ

সম্পাদনা

আল-বুসিরি তার ব্যক্তি জীবনে সুপরিচিত হওয়ার বিশেষ কারণ ও একটি ঘটনা রয়েছে যা মুসলিম বিশ্ব তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি ইসলামের নবি মুহাম্মদের প্রশংসায় একটি কবিতা রচনা করেছিলেন এবং এটি একটি উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি রচনা করেছিলেন। আল-বুসিরি একজান রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন অসহনীয় সময় যাপন করছিলেন। একসময় তার মনে উদয় হল যে নবি মুহাম্মদ-এর প্রশংসায় তিনি গভীর হৃদ্যতা মিশিয়ে একটি কবিতা লিখবেন এবং বিনিময়ে মহান আল্লাহ যেন তাকে আরোগ্য দান করেন।

তাঁর বিখ্যাত রচনা, কাসিদা-ই-বুরদা মুসলিম বিশ্ব সাহিত্যে জনপ্রিয় এবং বিখ্যাত, নবি মুহাম্মাদ-এর প্রশংসায় লিখিত সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামি কবিতাগুলোর মধ্যে এটি একটি অন্যতম ও শ্রেষ্ঠ কবিতা হিসেবে এটি পরিগণিত হয়। বিশেষ করে এর জন্যই তিনি এখনও সুপরিচিত হয়ে আছেন। এটি তিনি আরবি ভাষায় রচনা করেন।


তার লিখিত বিখ্যাত কাসিদা আল-বুরদা-এ, তিনি দাবি করেছেন যে তার স্বীয় ধর্মের নবি মুহাম্মদ তাকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছেন এবং তার গায়ে একটি চাদর মুড়িয়ে দেন। যার দরুন প্যারালাইসিস থেকে সে নিরাময় লাভ করেছিলেন। মুসলিম বিশ্বে তার রচিত এই কবিতাটির একটি অনন্য ইতিহাস রয়েছে। (cf. I. Goldziher in Revue de l'histoire des religions, vol. xxxi. pp. 304 ff.) এমনকি কবির জীবদ্দশায়ও এটিকে পবিত্র বলে গণ্য করা হতো। বর্তমান সময় পর্যন্ত এর আয়াতগুলো তাবিজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এটা মৃতদের জন্য বিলাপ নিযুক্ত করা হয়। এটি প্রায়শই সম্পাদনা করা হয়েছে এবং অন্যান্য কবিতার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। আর মূলের প্রতিটি লাইনের পর চার-ছয় লাইন জুড়ে দিয়ে নতুন কবিতা তৈরি করা হয়েছে। এটি ফয়জুল্লাভাই (বম্বে, ১৮৯৩ ) কর্তৃক ইংরেজি অনুবাদ; রেনে বাসেট (প্যারিস ১৮৯৪) -এর ফরাসি অনুবাদ, সি. এ রাফস (ভিয়েনা, ১৮৬০) কর্তৃক জার্মান অনুবাদ সহ, এবং অন্য কোথাও অন্যান্য ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।[৩]

রচনাবলি

সম্পাদনা

মৃত্যু

সম্পাদনা
 
মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় ইমাম আল-বুসিরির সমাধি
 
আল-বুসিরির বিখ্যাত এবং অনেক প্রিয় কবিতা, আল-বুরদা, আলেকজান্দ্রিয়ায় আল-বুসিরির মাজারের দেওয়ালে একটি শ্লোক

ইমাম বুসিরীর মৃত্যুর বছর নিয়ে মতভেদ রয়েছে।তিনি ৬৯৪ হিজরি বা ৬৯৫ হিজরি বা ৬৯৬ হিজরি ১২৯৪ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. His family came from Sijilmasa before settling in Beni Hama then Egypt। "الإمام شرف الدين محمد بن سعيد بن حماد الصنهاجي البوصيري"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ 
  2. "al-Busiri | Arabian poet"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৭-২১ 
  3.   One or more of the preceding sentences একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনেচিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Būṣīrī"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ4 (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা 873। 

আরও পড়ুন

সম্পাদনা
  • For a long list of commentaries, etc., cf. C. Brockelmann's Gesch. der Arab. Litteratur (Weimar, 1898), vol. i. pp. 264–267
  • La Burda du désert, T. Ikbal, F. Tidjani, M. Vâlsan, Science sacrée, 2015