প্রধান মেনু খুলুন

আলেকজান্ডার আলেখিন(৩১ শে অক্টবার ১৮৯২-২৪ শে মার্চ ১৯৪৬) একজন রাশিয়ান ও ফরাসি দাবাড়ু এবং চতুর্থ বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন । তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সেরা দাবা খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। ২২ বছর বয়সেই আলেখিন শক্তিশালী দাবাড়ুদের মধ্যে ছিলেন। ১৯২০ সালে তিনি যত গুলো টুনামেন্ট খেলেছেন তার মধ্যে সব চেয়ে বেশী গুলতে বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯২১ সালের দিকে আলেখিন সোভিয়েত রাশিয়া ছেড়ে ফ্রান্সে প্রবাসজীবন শুরু করেন, যেখানে তিনি ১৯২৫ সালের পরে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯২৭ সালে তিনি হোসে রাউল কাপাব্লাঙ্কাকে  হারিয়ে চতুর্থ বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৩০ সালের শুরুর দিকে আলেখিন টুনামেন্ট খেলায় প্রাধান্য বিস্তার শুরু করেন এবং দুটি বড় ধরণের টুনামেন্টে বড় ব্যাবধানে বিজয়ী হন। তিনি আরও পঞ্চম দাবা অলিম্পিকে ফ্রান্সের হয়ে প্রথম বোর্ডে খেলেন এবং প্রত্যেক টিতে পৃথক ভাবে পুরষ্কার জেতেন ( চারটি মেডেল এবং একটি ব্রিলিয়ান্সি পুরষ্কার)।

আলেখিন একই শর্ত দাবি করে কাপাব্লাঙ্কাকে একটি ফিরতি ম্যাচের প্রস্তাব দেন যে কাপাব্লাঙ্কা তার জন্য উপযুক্ত ছিল এবং কোন ধরণের উন্নতি ছারাই এই সমঝোতা বছর ব্যাপি বজায় রাখা হয়।  ইতিমদ্ধে আলেখিন ১৯২৯ এবং ১৯৩৪ সালে স্বস্তির সাথেই   ইফিম বোগোলজুবভের     বিরুদ্ধে তার টাইটেল রক্ষা করেছিলেন। ১৯৩৫ সালে ম্যাক্স ইউই তাঁকে পরাজিত করেন কিন্তু ১৯৩৭ সালেই একটি ফিরতি ম্যাচের মাধ্যমে তার মুকুট পুনরায় অর্জন করেন। তার টুনামেন্ট রিকরড যাই হোক,  অমসৃণ থাকে এবং উঠতি তরুন তারকা যেমন পউল কেরেস, রেউবেন ফাইন এবং মিখাইল বোতভিনিকের শিরোপা হুমকির মুখে পরে।  ১৯৩৯ সালে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের  আরম্ভের কারণে কেরেস অথবা বোতভিনিকের সাথে একটি শিরোপা ম্যাচের সন্ধি বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিল।  ১৯৪৬ সালে বোতভনিকের সাথে একটি বিশ্ব শিরোপা ম্যাচের সমঝোতা আগুয়ান ছিল যখন একটি অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে পর্তুগালে  আলেখিনের মৃত্যু ঘটে। আলেখিন শিরপায় অধিষ্ঠিত থাকা  অপস্থায় মৃত্যুবরণকারী একমাত্র বিশ্ব দাবা চ্যম্পিয়ন ।  আলেখিন তার ভয়ঙ্কর এবং বর্ণাঢ্য আক্রমানাত্তক শৈলীর জন্য পরিচিত। এক জন দাবা লেখক এবং তাত্ত্বিক হিসেবে তিনি অত্যন্ত গণ্য, দাবা ওপেনিঙে বিস্তৃত পরিসীমায় উদ্ভাবনার সৃষ্টটা রয়েছে তার এবং আলেখিন ডিফেন্সে তার নাম দেওয়া হয়েছে এবং কিছু অন্যান্য ওপেনিঙ্গের বৈচিত্র্যটায়।  তিনি কিছু ইন্ডগেমের গবেষণাও রচনা করেছিলেন।

জীবনীসম্পাদনা

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

আলেখিন ১৮৯২ সালের ৩১ শে অক্টোবর রাশিয়ার এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আলেকজান্ডার আইভানভিচ আলেখিন ছিলেন একজন ভূস্বামী এবং রক্ষণশীল আইনসভা চতুর্থ ডুমার বেসরকারি কাউন্সিলর । তার আম্মা, আনিসিয়া ইভানোভনা আলেখিন ছিলেন এক জন ধনী শিল্পপতির কন্যা। আলেখিন দাবার সাথে পরিচিত হন তার মা; একজন বড় ভাই, আলেক্সি, এবং একজন বড় বোন, ভারভারার দ্বারা।

প্রারম্ভিক দাবা ক্যারিয়ার (১৯০২-১৯১৪)সম্পাদনা

আলেখিনের প্রথম পরিচিত খেলা একটি করেস্পন্ড দাবা টুর্নামেন্ট থেকে যেটা ১৯০২ সালের ৩রা ডিসেম্বারে শুরু হয়, যখন তার বয়স ১০ বছর ছিল। তিনি কিছু  করেস্পন্ড টুনামেন্টে অংশগ্রহণ করেন, যেটা স্পন্সর করে চিস ম্যাগাজিন শাখমাত্নি ওবোজরেনি ( Shakhmatnoe Obozrenie) (‘’চিস রিভিও’’) ১৯০২-১৯১১ সালে। ১৯০৭ সালে আলেখিন তার প্রথম ওভার দ্যা বোর্ড টুনামেন্ট খেলেন; তার বড় ভাই, আলেক্সি,চতুর্থ- ষষ্ঠ স্থানের জন্য নিবদ্ধ হন। ১৯০৮ সালে, আলেকজান্ডার ১৫ বছর বয়সে ক্লাবের বসন্ত কালিন টুনামেন্টে জয় লাভ করেন। ১৯০৯ সালে, তিনি সেইন্ট পিটারসবারগে সমুদয় রাশিয়ান অপেশাদার টুনামেন্টে বিজয় লাভ করেন। পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য , তিনি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী টুনামেন্টে খেলেন, যেগুলোর মধ্যে কিছু সংখ্যক রাশিয়ার বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে তার কিছু মিশ্র ফলাফল ছিল, কিন্তু ১৬ বছর বয়সে তিনি তাঁকে রাশিয়ার একজন সরবচ্চ খেলোয়াড় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি প্রথম বোর্ড দুইটা বন্ধুত্বপূর্ণ টিম ম্যাচঃ সেইন্ট পিটারসবারগ চিস ক্লাব বনাম মস্কো চিস ক্লাব ১৯১১ সালে এবং মস্কো বনাম সেইন্ট পিটারসবারগ চিস ক্লাবে ১৯১২ সালে খেলেন( উভয়েই ইয়েভজেনি জোনোস্কো-বোরোভস্কি্র সাথে ড্র করেন)। ১৯১১ সালে শেষে আলেখিন সেইন্ট পিট্রসবারগে চলে আসেন, যেখানে তিনি ইমপেরিয়াল আইন স্কুলে উচ্চপদেস্থের জন্য প্রবেশ করেন। ১৯১২ সালে সেইন্ট পিটারসবারগ চিস সোসাইটিতে তিনি সবচেয়ে শক্তিশালী দাবাড়ু ছিলেন। ১৯১২ সালের মার্চে তিনি সেইন্ট পিটারসবারগ চিস ক্লাবের শীত কালিন টুনামেন্টে বিজয় লাভ করেন। ১৯১৪ সালের জানুয়ারিতে আলেখিন মুখ্য রাশিয়ান টুনামেন্ট জেতেন, যেখানে তিনি সেইন্ট পিটারসবারগে সমুদয় রাশিয়ান মাস্টার টুনামেন্টে অ্যারন নিমজইচের সাথে প্রথম স্থানে নিবদ্ধ হন। পরে তাঁরা একটি মিনি ম্যাচে প্রথম স্থানের জন্য ড্র করেন( প্রত্যেকেই খেলাটিতে জয় লাভ করেন)। এই সময়ে আলেখিন আরও কিছু ম্যাচ খেলেন এবং তার ফলাফল একই আদর্শে দেখা যায়ঃ প্রথম দিকে মিশ্র কিন্তু পরে ধারাবাহিক ভাবে ভালো।

শীর্ষ স্তরের গ্র্যান্ডমাস্টারসম্পাদনা

বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রাজত্ব (১৯২৭-১৯৩৫)সম্পাদনা

19২7 শিরোপা ম্যাচসম্পাদনা