আলী শের বাঙ্গালী

শেখ আলী শের বাঙ্গালী ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর একজন বাঙ্গালী লেখক, ওস্তাদ এবং শত্তারী তরীকার সুফি পীর[১][২] তিনি মুহম্মদ গৌছ শত্তারীর তিনজন খলিফার একজন ছিলেন।


আলী শের বাঙ্গালী
ব্যক্তিগত
জন্ম
আলী শের

মৃত্যু২৩ সফর
সমাধিস্থলকোকরাব, পালদি, আহমেদাবাদ, গুজরাত, ভারত
ধর্মইসলাম
Flourished১৬শ শতাব্দী
আখ্যাসুন্নি
আত্মীয়নুরুল হুদা আবুল কেরামত (পূর্বপুরুষ)
ক্রমশত্তারী
মুসলিম নেতা
শিক্ষকমুহম্মদ গৌছ
ভিত্তিকআহমেদাবাদ

বংশসম্পাদনা

আলী শের শাহী বাঙ্গালার শ্রীহট্ট শহরে একটি সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী মুসলিম খান্দানে প​য়দা হয়েছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যীয় নূরুল হুদা আবুল করমাতের বংশধর ছিলেন, যিনি শাহ জালালের সাথে শ্রীহট্ট বিজয়ে ছিলেন এবং পরে আরসা-ই-শ্রীহট্টের দ্বিতীয় উজির হিসাবে নিযুক্ত হন।[৩]

জীবনসম্পাদনা

তার জওয়ানকালে, আলী শের ইসলামী তালিমের জন্য বর-ই-সগীর (ভারতীয় উপমহাদেশ) জুড়ে সফর শুরু করেন। যখন তিনি অবধে পৌঁছেন, বলা হয় যে তিনি মুহম্মদ গৌছ শত্তারীকে তার খোয়াবে দেখেন। এরপর আলী শের দিল্লীতে গমন করেন যেখানে তিনি শত্তারীর সাথে দেখা করেন এবং তার মুরীদ হয়ে যান।[৪] তিনি শত্তারী সাহেবের দুইজন বিশিষ্ট বাঙ্গালী শাগরেদদের একজন ছিলেন, অন্যজন ছিলেন লখনৌতির শাহ মনঝন। শেখ ইঊসুফ বাঙ্গালী আলী শের এর সমসাময়িক ওজীহুদ্দীন আলবীর শাগরেদ ছিলেন।[৫]

মুহম্মদ গৌছ শত্তারীর অধীনে কিছুকাল অধ্যয়ন ও খেদমৎ করার পর,[৬] আলী শেরকে তখন গুজরাটের আহমদাবাদে যাওয়ার এবং ইমাদ-উল-মুলুক রুমী মসজিদে শত্তারীর খলীফা হিসেবে একজন ওস্তাদ হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি সুর বংশীয় বাদশাহদের একজন সমালোচক ছিলেন যারা তখন এই অঞ্চল শাসন করছিলেন।[৭]

১৫৭১ খ্রীষ্টাব্দে আলী শের "শরহে নুজহতুল আরওয়াহ" নামে একটি কিতাব লিখেছিলেন,[৮] যার মুখবন্ধে শাহ জালালের প্রথম লিপিবদ্ধ লিখিত জীবনী রয়েছে।[৯]

ওফাৎসম্পাদনা

তার মাজারের খাদেমদের মতে, আলী শের ২৩ সফর ৯৭০ হিজরীতে (২২ অক্টোবর ১৫৬২) ওফাৎবরণ করেন। গুজরাটের আহমদাবাদের পালদি মহল্লার পার্শ্ববর্তী শাহী মসজিদের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়।[১০] তাঁর উরুস প্রতি বছর ভক্তদের দ্বারা ২৩ সফর পালিত হয়।[১১] যাইহোক, তার ওফাতের অনুমিত বছরটি আলী শের বাঙ্গালী যে তার বইটি লিখেছিলেন তার তারিখের বিরোধিতা করে, যেটি অবশ্যই ১৫৭১ সালে ছিল এবং সম্ভবত ওফাতের তারিখ সঠিক নয়।[১২]

আরও দেখুনসম্পাদনা

  • আলা বখশ, ষোড়শ শতাব্দীর আরেকজন বাঙ্গালী আলিমে দ্বীন

আরও পড়সম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. চট্টোপাধ্যায়, ভাস্কর (১৯৮৮)। Culture of Bengal Through the Ages: Some Aspects [যুগযুগ ধরে বাংলার সংস্কৃতি: কিছু দিক]। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা ২১১। 
  2. আলী, সৈইয়দ মুর্তাজা (১৯৬৫)। হজরত শাহ জালাল ও সিলেটের ইতিহাস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা ১৭–২২। 
  3. চৌধুরী, অচ্যুতচরণ। "১"। শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত – পূর্বাংশ, অংশ ২। মুস্তাফা সেলিম; সোর্স পাবলিকেশন্স, ২০০৪। 
  4. রিজভী, সৈয়দ মুহাম্মদ নির। صوفی یوگ گرو: شیخ محمد غوث گوالیاریؒ (উর্দু ভাষায়)। 
  5. কুদ্দুসী, মোহাম্মদ ইলিয়াস (২০০২)। Khandesh Under the Mughals, 1601-1724 A.D.: Mainly Based on Persian Sources [মুঘলদের অধীনে খানদেশ, ১৬০১-১৭২৪ : প্রধানত পারস্য উৎসের উপর ভিত্তি করে] (ইংরেজি ভাষায়)। নয়াদিল্লি: ইসলামিক ওয়ান্ডার্স ব্যুরো। পৃষ্ঠা ১২২–১৩৬। 
  6. রিজভী, সাইয়ীদ আথার আব্বাস] (১৯৭৮)। A History of Sufism in India: Early Sufism and its history in India to 1600 A.D [ভারতে সুফিবাদের ইতিহাস: ভারতে প্রথম দিকের সুফিবাদ এবং এর ইতিহাস ১৬০০ সাল পর্যন্ত]। মুন্সিরাম মনোহরলাল। পৃষ্ঠা ৩১৫। 
  7. আর্নস্ট, কার্ল (১৯৯৯)। "The persecution of Muhammad Ghawth"। Persecution and Circumspection in the Shattari Sufi Order [শতরী সুফি তরিকায় তাড়না ও পরিবেষ্টিততা]। ই.জে. ব্রিল। পৃষ্ঠা ৩। 
  8. আবদুল করিম (২০১২)। "শাহ জালাল (রঃ)"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  9. হানিফ, এন (২০০০)। "Jalal, Shaikh (d.1357 A.D.)"। Biographical Encyclopaedia of Sufis: South Asia [সুফিদের জীবনীমূলক বিশ্বকোষ: দক্ষিণ এশিয়া]। স্বরূপ অ্যান্ড সনস। পৃষ্ঠা ১৬৫–১৬৭। 
  10. পাণ্ডে, শ্যাম মনোহর (১৯৬৮)। সুফি কাব্য বিমর্ষ: দাউদা, কুতুবনা, জয়সী তথা মাঞ্জনা কি কৃত্তিয়োং কা অধ্যায়ন (হিন্দি ভাষায়)। বিনোদ পুস্তক মন্দির। পৃষ্ঠা ১৫৫। 
  11. রাজা, আসিফ (৫ অক্টোবর ২০১৯)। "माहे सफारुल मुज़फ्फर के महीने में किस बुज़रुग का उर्स किस तारीख को होता है"মুসলিম টিটিএস (হিন্দি ভাষায়)। 
  12. সিদ্দিকী, কেএম (১১ আগস্ট ২০১৭)। "হজরত শাহ জালাল (রহ.) সম্পর্কে তথ্য বিভ্রাট"দৈনিক ইনকিলাব