প্রধান মেনু খুলুন

আলী আমজদের ঘড়ি

সিলেট শহরের একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
(আলী আমজদের ঘড়িঘর থেকে পুনর্নির্দেশিত)

আলী আমজদের ঘড়ি (আলী আমজাদের ঘড়ি নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের সিলেট শহরে অবস্থিত ঊনবিংশ শতকের একটি স্থাপনা, যা মূলত একটি বিরাটাকায় ঘড়ি, একটি ঘরের চূড়ায় স্থাপিত।[১]

আলী আমজদের ঘড়ি
Ali Amzad's Watch, Sylhet, Bangladesh.jpg
সুরমা নদীর ডানপার্শে কীন ব্রিজের নিচে আলী আমজদের ঘড়ি।
অবস্থানসিলেট, বাংলাদেশ
নকশাকারকনওয়াব আলী আহমদ
ধরনটাওয়ার
উপাদানটিন
প্রস্থ৫.১ মি (১৬.৭ ফু)
উচ্চতা৭.৪ মি (২৪.৩ ফু)
খোলার তারিখ১৮৭৪
উৎসর্গীকৃতনওয়াব আলী আমজদ

সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে সিলেট সদর উপজেলায় অবস্থিত এই ঘড়ির ডায়ামিটার আড়াই ফুট এবং ঘড়ির কাঁটা দুই ফুট লম্বা। যখন ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, সেসময় অর্থাৎ ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট মহানগরীর প্রবেশদ্বার (উত্তর সুরমা) কীন ব্রিজের ডানপার্শ্বে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আহমদ খান, তার ছেলে আলী আমজদের নামকরণে। লোহার খুঁটির উপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির স্থাপত্যশৈলীর ঘড়িঘরটি তখন থেকেই আলী আমজদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হানাদার বাহিনীর গোলার আঘাতে এই প্রাচীন ঘড়িঘর বিধ্স্ত হয়। স্বাধীনতার পর সিলেট পৌরসভা ঘড়িটি মেরামতের মাধ্যমে সচল করলেও কিছুদিনের মধ্যেই ঘড়ির কাঁটা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে আলী আমজদের ঘড়ি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়। এসময় ঘড়িটি চালু করার পর ঢাকার একটি কোম্পানীর কারিগররা ঘড়িটি চালু রাখার জন্য রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করে দেয়। পৌর চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতো। কিন্তু দুই-চার বছর যেতে না যেতেই ঘড়ির কাঁটা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সিজান কোম্পানীর দ্বারা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ঘড়িটি পূনরায় চালু করা হয়। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ঘড়িটির কাঁটা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই ঘড়িটিকে পূণরায় মেরামত করলে তা আবার দৈনিক ২৪ ঘন্টাব্যাপী সচল রয়েছে।[২]

এই ঘড়িকে কেন্দ্র করে একটি স্থানীয় প্রবাদ চালু ছিল এরকম:[৩][৪]

চিত্রশালাসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. sylhet.gov.bd। "সিলেট রেল স্টেশন, ক্বীন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি এবং জিতু মিয়ার বাড়ি"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১৯ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১৯ 
  2. "এক বছর থেমে আছে আলী আমজদের ঘড়ির কাঁটা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-১৯ 
  3. Siddiquee, Iqbal (২০১১-০৮-২৭)। "Sylhet's 137-Year Old Icon"The Daily Star। Dhaka। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১৭ 
  4. "এক বছর থেমে আছে আলী আমজদের ঘড়ির কাঁটা"প্রথম আলো। ২০১৯-০৫-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৮-১৭ 
  • সিলেট পৌরসভার প্রকাশনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা