আলকাপ হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, মালদহবীরভূম জেলা এবং বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে প্রচলিত একটি লোকনাট্য শৈলী।[১] পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী বিহার রাজ্যের পুর্ণিয়া জেলাঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকা জেলাতেও আলকাপ প্রলচিত।[২]

নামকরণসম্পাদনা

"আল" শব্দের অর্থ "কাব্যের অংশ" এবং "কাপ" শব্দের অর্থ "কাব্য"।[২] আবার, 'আল' শব্দের একাধিক অর্থের মধ্যে একটি হল 'তীক্ষ্ণ', 'তীব্র' বা 'ধারালো'। অপরদিকে, 'কাপ' শব্দের একাধিক অর্থের মধ্যে একটি হল ’সং’ — রঙ্গস্থলে বিকৃত আকারে বা অঙ্গভঙ্গিতে দর্শকের কৌতুককর হাস্যোদ্দীপক বিষয়ের বা সামাজিক কুৎসিত বিষয়ের প্রতিমূর্তি বা চিত্র।[৩] আলকাপে নাচ, গান এবং এই হাস্য-কৌতুকোদ্দীপক অভিনয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে।

বিবরণসম্পাদনা

এক-একটি আলকাপ দলে দশ থেকে বারো জন শিল্পী থাকেন। এঁদের নেতাকে বলে "সরদার" বা "গুরু"। দু বা তিন জন অল্পবয়সী শিল্পী থাকে, যাদের "ছোকরা" বলা হয়। এছাড়া এক বা দুই জন করে "গায়েন" (গায়ক), "দোহার", সম্মেলক গায়ক, বাজনাদার থাকে। আলকাপের পাঁচটি অংশ: "আসর বন্দনা", "ছড়া", "কাপ", "বৈঠকী গান" ও "খেমটা পালা"। অনুষ্ঠানগুলিতে গ্রাম্য সমাজ এবং সেই সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থা প্রতিফলিত হয়।[১][২]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেসম্পাদনা

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের মায়ামৃদঙ্গ উপন্যাসটি আলকাপ দলের কথা নিয়ে রচিত।

পাদটীকাসম্পাদনা

  1. Ahmed, Wakil। "Alkap Gan"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৩-২২ 
  2. "Sudkhor"The Telegraph, 18 July 2003। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৩-২২ 
  3. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ৬৯

বহিঃসংযোগসম্পাদনা