আবদুল লতিফ (রেস্তোরাঁ মালিক)

আবদুল লতিফ, এফআরএসএ (১৫ ডিসেম্বর ১৯৫৪ - ২০ জানুয়ারি ২০০৮) ছিলেন একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রেস্তোরাঁর মালিক এবং নিউক্যাসল আপন-ট্যাইনের তরকারি শেফ যিনি ভিজ ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।[১] তিনি ১৯৮৭ সালে প্রবর্তিত তাঁর "কারি হেল" ডিশের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।[২] এটি একটি নামকরা তরকারি যা খুবই ঝাল স্বাদের (লতিফের মতে এটি "বিশ্বের সবচেয়ে ঝাল")।[৩] এটি তার নিউক্যাসল রেস্তোরাঁতে বিনা টাকায় পরিবেশন করা হত যারা পুরো খাবার শেষ করতে পারতেন।[৪] খাবারটিতে একটি সাধারণ মানের ভিন্দালুর চেয়ে চারগুণ বেশি পরিমাণের মরিচ রয়েছে।[৫]

আবদুল লতিফ
জন্ম(১৯৫৪-১২-১৫)১৫ ডিসেম্বর ১৯৫৪
মৃত্যু২০ জানুয়ারি ২০০৮(2008-01-20) (বয়স ৫৩)
দাম্পত্য সঙ্গীনেওয়ার লতিফ
রন্ধন পেশা
Cooking styleবাংলাদেশী/ভারতীয় রন্ধনশৈলী
Current restaurant(s)
  • রূপালী
Previous restaurant(s)
  • কারি ক্যাপিটাল (আগের রূপালী)
ওয়েবসাইটwww.therupali.co.uk

প্রথম জীবনসম্পাদনা

লতিফের জন্ম সিলেট জেলা, পূর্ব বাংলা, পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেট শহরের নিকটে।[৬] ১৯৬৯ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে এসে ম্যানচেস্টারে স্থায়ী হন; এক রাতের এক বর্ণবাদী ঘটনা লতিফকে উত্তরাঞ্চল থেকে নিউক্যাসল আসতে বাধ্য করে। তিনি নেওয়ারুনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, একসাথে তাদের চার কন্যা এবং দুই পুত্র রয়েছে।[৫]

কর্মজীবনসম্পাদনা

হুইটলি বে-র এক আত্মীয়ের মালিকানাধীন একটি রেস্তোঁরায় ওয়েটার হিসাবে টাইনসাইডে লতিফের প্রথম কাজ শুরু।[৫] ১৯৭৭ সালে, লতিফ নিউক্যাসল আপন টাইন শহরের কেন্দ্রস্থলে রুপালী নামে একটি রেস্তোঁরা প্রতিষ্ঠা করেন। রেস্তোঁরাটিকে পরে কারি ক্যাপিটাল নামে নামকরণ করা হয়।[৭]

লতিফ সব ধরনের চাকুরীজীবী পুরুষ এবং মহিলাদের পাঁচ বছরের জন্য বিনামূল্যে কারি প্রদান করতেন যারা ইরাক যুদ্ধে নিয়োজিত ছিল,[৮] এবং রাগবি তারকা জনি উইলকিনসন এবং ফুটবল ম্যানেজার গ্রায়েম সাউনিসকে সারা জীবনের জন্য বিনামূল্যে কারি সেবা দেন।[৯]

২০০৪ সালে, তাঁর রেস্তোঁরাটি বিশ্বের দীর্ঘতম দূরত্বে কারি পাঠানোর জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তালিকাভুক্ত হয় – যখন তিনি নিউক্যাসল থেকে অস্ট্রেলিয়ার, সিডনিতে হিমায়িত উদ্ভিজ্জ বিরিয়ানি এবং পেশোয়ারী নান রুটি সরবরাহ করেন।[৭] পাঠানোর কাজটি মোটরসাইকেলের কুরিয়ার এবং বিমানের মাধ্যমে হয়েছিল এবং চার দিন সময় নিয়েছিল।[২] তিনি নিয়মিতভাবে ক্রিট অ্যাডাল্ট কমিক ভিজে ম্যাগাজিনে প্রদর্শিত হওয়া সত্ত্বেও কর্মীদের বিনামূল্যে তরকারী সরবরাহ করে স্বাদ গ্রহণ করতে দিতেন যেখানে তাকে "কারি মানসিকবাদী" হিসাবে ডাকা হত।

লতিফ ১৯৯৪ সালে ৫০০০ পাউন্ডের বিনিময়ে লর্ড অফ হারপোল সম্মানী উপাধি ডিডটি কিনেছিলেন এবং গর্বের সাথে নিজেকে ব্রিটেনের প্রথম বাংলাদেশী লর্ড অফ ম্যানর হিসাবে প্রকাশ করেন।[৭] তিনি দ্য নিউ লর্ড নামে একটি ওয়েবসাইট খুলেন, যেখানে তিনি তার ভক্তদের জন্য স্মৃতিস্মারক পণ্যদ্রব্য, সমসাময়িক বার্তা, প্রচার পরিষেবা এবং একটি অনুপ্রেরণামূলক ডিভিডি সরবরাহ করতেন।[১০] সমাজে আমূল পরিবর্তন আনার জন্য তার প্রচেষ্টা মাধ্যমে ২০০৩ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটি অফ আর্টসের ফেলো নির্বাচিত হন।[৫]

মৃত্যুসম্পাদনা

২০শে জানুয়ারী ২০০৮, লতিফ নিউক্যাসলের গোসফর্থ এলাকায় তার নিজ বাড়িতে হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা যান।[১১]

লিবারেল ডেমোক্র্যাট সাংসদ টিম ফারন সংসদের আর্লি ডে মোশনে তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এবং "নিউক্যাসল সিটি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস এবং ভিজ ম্যাগাজিনে তার অসামান্য অবদানের জন্য ২৪শে জানুয়ারী ২০০৮ সালে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।[১২]

২ মার্চ ২০০৮, নিউক্যাসল সিভিক সেন্টারে তার স্মরণে বিপুল লোকের উপস্থিতিতে একটি স্মৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।[১১]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Contributor, A. J. (২০০৭-১০-০১)। "Currying favour"The Architects’ Journal (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৬ 
  2. Stephens, Tony (৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "Owner's hot method of currying favour led to restaurant's renown"The Sydney Morning Herald। Sydney। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৪ 
  3. "Heated row over hottest curry"Metro (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৮-০৭-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৬ 
  4. Tobbell, Kayleigh (৩১ জুলাই ২০০৪)। "Lord of Harpole"Evening Chronicle। ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ 
  5. "Obituaries: Abdul Latif"দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ। ২৪ জানুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০০৯ 
  6. "Abdul Latif" (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0140-0460। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৬ 
  7. "From curry hell to model citizen"BBC News। ২১ জানুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ 
  8. "Hot offer tempts the troops"বিবিসি নিউজ। ১৭ এপ্রিল ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ 
  9. Douglas, Andrew (২০ জানুয়ারি ২০০৮)। "Restauranteur dies from heart attack"The Northern Echo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ 
  10. "The New Lord"। ২৭ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০০৮ 
  11. "'Curry Hell' restaurant boss dies"বিবিসি নিউজ। ২১ জানুয়ারি ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০০৮ 
  12. "ABDUL LATIF - Early Day Motions - UK Parliament"edm.parliament.uk (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা