আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ

বাঙালি লেখক

আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ(১৮১৯ - ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৫) ঊনবিংশ শতাব্দীর কলকাতা কেন্দ্রিক ব্রাহ্মসমাজ-এর একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্ম উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কোদালিয়ায় ১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে। পিতা গৌরহরি চূড়ামণি। পিতার চতুষ্পাঠীতে তাঁর সংস্কৃত শিক্ষার শুরু। তত্ত্ববোধিনী সভার আনুকূল্যে ১৮৪৪-৪৭ কাশীতে অথর্ববেদ ও বেদান্তচর্চা করেন।[১] নানা বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তাকে “পণ্ডিত আনন্দচন্দ্র” বলে সম্বোধন করা হতো। তিনি তত্ত্ববোধিনী সভা এবং ব্রাহ্মসমাজ নানা সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। প্রথমে তত্ত্ববোধিনী সভার সহ-সম্পাদক এবং পরে কলকাতা ব্রাহ্মসমাজের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে সভা উঠে গেলে কলকাতা ব্রাহ্মসমাজের সহ-সম্পাদক এবং আচার্যরূপে কাজ করতে থাকেন। তিনি অনুবাদ এবং সম্পাদকতার জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন। সোমদেব-এর দুই খণ্ড বৃহৎকথা তিনি বাংলা গদ্যে অনুবাদ বরেন। উল্লেখ্য যে এই অনুবাদকালে তিনি মূল কাহিনীর অশ্লীল ও অপ্রাকৃত ঘটনাবলী বর্জন করেন। তিনি শকুন্তলাও বাংলায় অনুবাদ করেছেন।তার গদ্য ছিল প্রাঞ্জল ওবং সহজবোধ্য। রাজা রামমোহন রায়ের দুর্লভ রচনাসমূহ তিনি সংগ্রহ করেন এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। [২] তাঁর ও রাজনারায়ণ বসুর সম্পাদনায় রাজা রামমোহন রায় প্রণীত ব্রহ্মসঙ্গীত সংকলন প্রকাশিত হয়।[৩]

রচনাবলীসম্পাদনা

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলি হল-

  • 'ব্রাহ্মবিবাহ ধর্মশাস্ত্রানুসারে সিদ্ধ কিনা?'
  • 'মহাভারতীয় শকুন্তলোপাখ্যান'
  • 'দশোপদেশ'
  • সানুবাদ সংস্কৃত গ্রন্থ 'বেদান্তসার'
  • 'বেদান্তদর্শন'
  • 'বেদান্তদর্শন-অধিকরণমালা'
  • সটীক সংস্কৃত গ্রন্থ 'ভগবদ্গীতা'ও
  • 'মহানির্বাণতন্ত্রম'(পূর্বকাণ্ড)

এছাড়া তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির 'বিবলিওথেকা ইন্ডিকা'র কয়েকখানি সংস্কৃত গ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলেন।

জীবনাবসানসম্পাদনা

আনন্দচন্দ্র বেদান্তবাগীশ ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ই সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৬ পৃষ্ঠা ৫৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অভিধান, সম্পাদক: বীতশোক ভট্টাচার্য, প্রকাশক: বাণী শিল্প, কলকাতা। প্রথম সংস্করণ ১৯৮৩, পৃষ্ঠা: ৭৩।
  3. শিশিরকুমার দাশ সংকলিত ও সম্পাদিত, সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট ২০১৯, পৃষ্ঠা ২৩ আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-০০৭-৯ ISBN বৈধ নয়

আরো দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা