আতিফ আসলাম

পাকিস্তানী গায়ক
আলোচনা যোগ করুন

আতিফ আসলাম (উর্দু: عاطف اسلم‎‎; জন্ম: ১২ মার্চ ১৯৮৩) একজন পাকিস্তানি গায়ক, সুরকারচলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ভারতের বলিউডে। তিনি পাকিস্তানভারতে অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন।[১] তিনি মূলত তাঁর 'ভোকাল বেল্টিং' পদ্ধতির জন্য সুপরিচিত।[২] তিনি প্রধানত হিন্দি, উর্দুপাঞ্জাবি ভাষায় গান করেন, তবে তিনি বাংলাতেও গান গেয়েছেন। ২০০৮ সালে আতিফ আসলাম পাকিস্তানের চতুর্থ-সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান তমগা-এ-ইমতিয়াজ-এ ভূষিত হন।

আতিফ আসলাম
Atif Aslam at Badlapur (cropped).jpg
প্রাথমিক তথ্য
স্থানীয় নামعاطف اسلم
জন্ম নামমুহাম্মদ আতিফ আসলাম
জন্ম (1983-03-12) ১২ মার্চ ১৯৮৩ (বয়স ৩৯)
ওয়াজিরাবাদ, পাঞ্জাব, পাকিস্তান
উদ্ভবলাহোর, পাঞ্জাব, পাকিস্তান
ধরনরক, পপ, সুফি, ফিল্মি
পেশাগায়ক, অভিনেতা, গিটারবাদক
বাদ্যযন্ত্রসমূহকণ্ঠ, গিটার
কার্যকাল২০০৪–বর্তমান
ওয়েবসাইটaadeez.com

জন্ম ও শিক্ষা

আতিফ আসলাম ১২ মার্চ ১৯৮৩ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ওয়াজিরাবাদে একটি পাঞ্জাবি মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ আসলাম ও মার নাম রেহানা শাহীন। আতিফরা মোট চার ভাই ও এক বোন। তিনি লারকানার কিম্বারলে হল স্কুলে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা শুরু করেন। ১৯৯১ সালে তিনি রাওয়ালপিন্ডি চলে আসেন। সেখানকার স্যাটেলাইট টাউনের সেন্ট পলস কেমব্রিজ স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৯৫ সালে তিনি লাহোরে ফিরে আসেন। সেখানে ডিভিশনাল পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর লাহোর কলেজ পাঞ্জাব থেকে তিনি এফএসসি করেন। তারপর তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন।[৩][৪][৫][৬]

দাম্পত্য জীবন

আতিফ আসলাম ২০১৩ সালে তাঁর কলেজ জীবনের প্রেমিকা সারা ভারওয়ানার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সারা ভারওয়ানা পেশায় একজন শিক্ষিকা। তাঁদের ঘরে বর্তমানে দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। জেষ্ঠ্য পুত্রের নাম আহাদ আতিফ এবং কনিষ্ঠ পুত্রের নাম আরিয়ান আসলাম।

প্রথম জীবন

আতিফ আসলাম ছোট থেকে নুসরাত ফাতেহ আলী খানআবিদা পারভিনের অনুরাগী ছিলেন।[৭] কিন্তু তাঁর প্রথম স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়া। তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি ফাস্ট বোলার ছিলেন। তাঁকে অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলে মনোনীত করা হয়েছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য কিছুদিন তাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁকে অজানা কারণে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা তাঁর সঙ্গীত জগতে আসাকে আরো ত্বরান্বিত করে।

সঙ্গীত জীবন

২০০২ সালে আতিফ ও তাঁর বন্ধুরা মিলে গঠন করেন 'জাল' ব্যান্ড (Jal)। প্রথমদিকে তাঁরা স্থানীয়ভাবে কনসার্ট করতেন। ২০০৪ সালের ১৭ জুলাই 'জাল' ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম জল পরি (Jal pari) প্রকাশিত হয়।[৮] উক্ত অ্যালবামে আতিফের গাওয়া 'আদাত' (Adaat) গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।[৯] পাশাপাশি এই অ্যালবামের ভিগি ইয়াদিন, এহ্‌সাস, মাহি ভে, আখন সে এবং জাল পরি গানগুলিও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অনন্য গায়কী ভঙ্গীমা এবং শৈল্পিক দক্ষতার কারণে অ্যালবাম প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আতিফ তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। পাকিস্তানজুড়ে এই অ্যালবামটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। এমনকি আতিফের গাওয়া 'আদাত' গানটি পাকিস্তানের সীমানা পেরিয়ে ভারতেও তুমুুুল জনপ্রিয় হয়। ভারতে আতিফের গানের এই জনপ্রিয়তা দেখে বলিউডের নামকরা চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক মহেশ ভাট তাঁকে বলিউডে নিয়ে আসেন এবং তাঁঁকে নিজের 'জেহের' (Zeher) সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ করে দেন। ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জেহের’ (Zeher) সিনেমায় আতিফের গাওয়া ‘ও লামহে ও বাতে’ (Woh lambhe woh baatein) শিরোনামের গানটিই ছিল বলিউডে তাঁর গাওয়া প্রথম গান। এই একই বছর কালযুগ’ (Kalyug) সিনেমাতে তাঁর ‘আদাত’ (Adaat) গানটি পুনরায় রেকর্ড ও ব্যবহার করা হয় এবং এই দুই সিনেমাতেই তাঁর গান দুটি ব্যাপক হিট হয়। ফলে আতিফকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এরপর তিনি একে একে অনেক হিট গান উপহার দিয়েছেন। এরমাঝে উল্লেখযোগ্য হলো ‘তেরে বিন’ (Tere bin), ‘দুরি সাহি যায়ে না’ (Doorie sahi jaye na), ‘কুচ ইস তারা’(Kuch iss taara), ‘পেহলি নাজার মে’ (Pehli nagar mein), ‘মে রাঙ শারবাতো কা’ (Mein rang sharbato ka), ‘তু জানে না’ (Tu jaane na), ‘তেরা হনে লাগা হু’ (Tera hone laga hoon), ‘পিয়া ওরে পিয়া’ (Piya, o re piya), ‘জিনে লাগা হু’ (Jeene laga hoon), ‘তেরে সাঙ ইয়ারা’ (Tere sang yara), ‘তেরা হুয়া’(Tera hua), ‘পেহলি দাফা’ (Pehli dafa), ‘দেখতে দেখতে’ (Dekhte dekhte), ‘দিল দিয়া গাল্যা’ (Dil diya galyan), ‘পানিও সা’ (Paniyo sa), ‘তাজ দার-ই-হারাম’ (Taz dar-e-haram), ‘বারিশ’ (Baarish), ‘বে ইন্তেহা’ (Be intehaan), ‘তু চাহিয়ে’ (Tu chahiye), ‘দিল মেরি না সুনে’ (Dil meri na sune) ইত্যাদি। এছাড়া ২০০৬ সালে মুক্তি পায় তাঁর ‘দূরি’ (Doorie) অ্যালবাম, যা আতিফের জীবনের সবচেয়ে সফল মিউজিক অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘দূরি সাহি যায়ে না’ (Doorie sahi jaye na), ‘তেরে বিন’ (Tere bin), ‘কুচ ইস তারা’ (Kuch iss taara), ‘হাম কিস গালি যা রাহে হে’ (Hum kis galli jaa rahe hai) সহ প্রায় প্রতিটি গানই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আতিফ তাঁর ক্যারিয়ারে পাকিস্তানভারতে প্রচুর গান রেকর্ড করেছেন। বলিউড ছাড়াও তিনি ভারতের বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও গান গেয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর গাওয়া একটি গান হলিউডের ‘Man Push Cart’ সিনেমাতেও ব্যবহার করা হয়েছিল। ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও সারা বিশ্বে তাঁর অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী ছড়িয়ে রয়েছে। ভারত, পাকিস্থানবাংলাদেশ হলো আতিফ আসলামের ভক্তদের প্রধান ঘাঁটি, অর্থাৎ এই তিন দেশ হলো আতিফের মূল Fanbase। আতিফ তাঁর সকল ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্নেহের সঙ্গে ‘আদিজ’ (Aadeez) বলে সম্বোধন করেন।

আতিফের পরিবারে কখনো সঙ্গীতচর্চা ছিল না। এছাড়া আতিফ কখনো সঙ্গীতে দীক্ষা নেন নি। এমনকি ছোট থেকে তাঁর সঙ্গীতের সঙ্গে তেমন সম্পৃত্ততাও ছিল না। তার সহজাত প্রতিভা এবং শিল্পী হবার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই তাকে একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীতে পরিণত করে। আতিফ নিন্দুকদের কথায় কর্ণপাত না করে তার স্বপ্রতিভ গায়কী ভঙ্গিমায় সঙ্গীত চর্চা করতে থাকেন। প্রথম অ্যালবামের সাফল্যের পর তিনি কনসার্টে গান পরিবেশন করতে শুরু করেন এবং অতি অল্প সময়ে সেখানেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই জনপ্রিয়তা পাকিস্তান ছাড়িয়ে উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কনসার্টে সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনে তার সহজাত ক্ষমতার কারণে কনসার্টে শিল্পী হিসেবে তার চাহিদা বাড়তে থাকে। নিজের প্রেরণা হিসেবে আতিফ সবসময় নুসরাত ফতেহ আলি খানআবিদা পারভিনের প্রশংসা করেছেন।[১০]

সমালোচনা

আতিফ আসলাম তাঁর ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সাফল্য পেয়েছেন বলিউডে। কিন্তু এই বলিউডেও ছিল তাঁর অনেক নিন্দুক আর সমালোচক। এই তালিকায় রয়েছেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য, কৈলাশ খের, সুনীধি চৌহান, আশা ভোসলেসহ একাধিক ভারতীয় শিল্পী ও কলাকুশলী। একবার একটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলের একটি মিউজিক রিয়্যালিটি শো’তে একজন প্রতিযোগী শুধুমাত্র আতিফের ‘পেহলি নাজার মে’ গানটি গেয়েছিল বলে বিচারকের আসনে বসা ভারতীয় গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য সেই প্রতিযোগীকে শূন্য দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে আতিফ কোনো শিল্পী নয়। তিনি আরও বলেছিলেন যে আতিফের গানগুলো সফটওয়্যারের মাধ্যমে সুর করা এবং তিনি খালি গলায় গাইলে তাঁর গান কেউ শুনতে পারবে না। এছাড়া বিখ্যাত ভারতীয় শিল্পী কৈলাশ খের এবং সুনীধি চৌহানও বলেছিলেন যে আতিফ গান গাইতে পারেন না। অথচ সুনীধি চৌহানও পরবর্তীতে আতিফের সঙ্গে একটি লাইভ কনসার্টে একসঙ্গে গান গেয়েছিলেন। এভাবে অনেক ভারতীয় শিল্পীর কাছেই আতিফ ছিলেন ঘৃণার পাত্র। তবে আতিফের প্রতি কিছু ভারতীয় শিল্পী ও কলাকুশলীর এমন মনোভাবের কারণ ছিল স্পষ্ট।

প্রথমত, আতিফ ছিলেন একজন পাকিস্তানিদ্বিতীয়ত, আতিফ কোনো প্রশিক্ষিত গায়ক ছিলেন না এবং বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হতেও তাঁর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় নি। তৃতীয়ত, আতিফ একজন পাকিস্তানি এবং একজন অপ্রশিক্ষিত গায়ক হওয়া সত্ত্বেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে বলিউডে নিজের একটি আলাদা জায়গা করে নেন।

এসব কারণেই মূলত আতিফ কিছু ভারতীয় শিল্পীর চোখের কাঁটায় পরিণত হন। তবে সে সংখ্যা নেহাত হাতেগোনা। কারণ ভারতীয়রা তো বটেই, বলিউডেরও অধিকাংশ শিল্পী ও কলাকুশলী আতিফকে একজন কিংবদন্তী শিল্পী হিসেবে সম্মান করেন। কিন্তু আতিফ কখনোই তাঁর বিরুদ্ধে করা এসব বিরুপ মন্তব্যের কোনো জবাব দেননি। কারণ তিনি যদি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতেই ঐসব নামকরা ভারতীয় শিল্পীদের সঙ্গে বিবাদে জড়াতেন, তবে তাঁর হয়তো আর বলিউডে ক্যারিয়ার গড়া হতো না এবং তিনি এটা কখনোই চাননি। তাই তিনি চুপচাপ শুধু তাঁর নিজের কাজ করে গিয়েছেন এবং তাঁর সকল সমালোচনার জবাব দিয়েছেন নিজের কাজের মাধ্যমে। একারণে আতিফ আসলাম আজ শুধু বলিউডে নন, সারা বিশ্বের কাছে একটি সম্মানিত নাম।

নিষেধাজ্ঞা

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর ভারতপাকিস্তানের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে বলিউডেও। এই হামলার পর বলিউড থেকে সকল পাকিস্তানি শিল্পীকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, যে তালিকায় ছিলেন আতিফ আসলামও। ফলে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল বলিউড ছেড়ে। এমন এক সময় এই নিষেধাজ্ঞা আসে, যখন আতিফ তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছিলেন। নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আতিফ আসলাম অনেকগুলো হিট গান উপহার দেন। এমনকি ২০১৮-১৯ সালে তিনি প্রায় ২৫টি গান রেকর্ড করেছিলেন, যেগুলো মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু এরমাঝে অনেক গান অফিসিয়ালি আতিফের কণ্ঠে আর মুক্তি পায় নি। পাকিস্তানি শিল্পীদের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পরবর্তীতে গানগুলো অন্য শিল্পীদের দিয়ে গাওয়ানো হয়। এই তালিকায় রয়েছে পাচতাওগে (Pachtaoge), পাল পাল দিল কে পাস (Pal pal dil ke pas), তু মিলা (Tu mila), কিন্না সোনা (Kinna sona), মে তারে (Mein tare), নাই লাগদা (Nai lagda), চাশনি (Chashni), জী লেন দে (Jee len de) সহ বেশ কিছু গান। তবে এরমধ্যে কিছু গান আন-অফিসিয়ালি ইউটিউবে পাওয়া যায়। কারণ আতিফ ভক্তদের (আদিজ) তীব্র দাবির মুখে মিউজিক কোম্পানী ও প্রযোজকগণ গানগুলো আন-অফিসিয়ালি প্রকাশ করতে বাধ্য হন। ২০১৯ সালে আতিফের গাওয়া বারিশ (Baarish) গানটি বলিউডে তাঁর গাওয়া সর্বশেষ গান। ২০১৯ সালে বলিউড থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর আতিফ সংগীত জগতে পুরোপুরি অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিলেন। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালেও তাঁর কিছু সিঙ্গেল মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পায়। যেমনঃ রাফতা রাফতা (Rafta rafta), আজনাবি (Ajnabi), রাত (Raat) ইত্যাদি। এছাড়া এসময়টাতে তিনি কোক স্টুডিও (পাকিস্তান)-এর হয়ে বেশ কয়েকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এর ৭ম আসরের থিম সং-টিও ছিল আতিফ আসলামের কণ্ঠে গাওয়া, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আইমা বেগ ও আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। এভাবেই আতিফ আসলাম নিষেধাজ্ঞার মাঝেও নিজেকে সংগীতের সঙ্গে সম্পৃত্ত রেখেছিলেন। তবে সম্প্রতি ভারতের একটি পাঞ্জাবি সিনেমায় আতিফের গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে পুনরায় তাঁর বলিউডে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। আতিফের গাওয়া ‘রংরেজা’ (Rangreza) শিরোনামের গানটি পাঞ্জাবি ‘লাভার’ (Lover) সিনেমায় ব্যবহৃত হয়। আতিফ ছাড়াও এ সিনেমায় রাহাত ফতেহ আলী খানও গান গেয়েছেন। তবে এখনো বলিউড থেকে আতিফের কাছে এরকম কোনো প্রস্তাব আসে নি।

অভিনয় জীবন

আতিফ আসলাম প্রথম অভিনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন একটি পাকিস্তানি সিনেমার মাধ্যমে। ২০১১ সালে পাকিস্তানি বোল (Bol) সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন।[১১] এছাড়া তিনি তাঁর গাওয়া অনেক গানের মিউজিক ভিডিও এবং বলিউডের কয়েকটি ছবিতে ক্যামিও ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হয়েছেন। সম্প্রতি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি "Sang-E-Mah" নামক পাকিস্তানি ড্রামা সিরিজের মাধ্যমে ছোট পর্দায় তাঁর অভিনয় শুরু করেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

গানের তালিকা

[→ চিহ্নিত গানগুলো অফিসিয়ালি আতিফের কণ্ঠে প্রকাশ পায় নি]

গানের নাম প্রকাশ সিনেমা/ মিউজিক কোম্পানি/ অ্যালবাম
'আদাত' (Adaat) ২০০৪ জল পরি (Jal pari)
‘ও লামহে ও বাতে’ (Woh lambhe woh baatein) ২০০৫ জেহের’ (Zeher)
‘তেরে বিন’ (Tere bin) ২০০৫ দূরি’ (Doorie)
দুরি সাহি যায়ে না’ (Doorie sahi jaye na) ২০০৫ দূরি’ (Doorie)
কুচ ইস তারা’(Kuch iss taara) ২০০৫ দূরি’ (Doorie)
হাম কিস গালি যা রাহে হে’ (Hum kis galli jaa rahe hai) ২০০৫ দূরি’ (Doorie)
পেহলি নাজার মে’ (Pehli nagar mein), ২০০৯ রেস (Race)
তু জানে না’ (Tu jaane na) ২০০৯ আজাব প্রেম কি গাজাব কাহানি (Ajab prem ki gajab kahani)
তেরা হনে লাগা হু’ (Tera hone laga hoon) ২০০৯ আজাব প্রেম কি গাজাব কাহানি (Ajab prem ki gajab kahani)
'তেরে লিয়ে' (Tere liye) ২০১০ প্রিন্স (Prince)
পিয়া ওরে পিয়া’ (Piya, o re piya) ২০১২ তেরে নাল লাভ হো গায়ি (Tere naal love ho gayi)
বে ইন্তেহা’ (Be intehaan) ২০১২, রেস ২ (Race 2)
মে রাঙ শারবাতো কা’ (Mein rang sharbato ka) ২০১৩ ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো (Fata poster nikla hero)
'জানাম জানাম' (Janam janam) ২০১৩ ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো (Fata poster nikla hero)
জিনে লাগা হু’ (Jeene laga hoon) ২০১৩ রামাইয়া ভাসতাভাইয়া (Ramaiya vastavaiya)
তাজ দার-ই-হারাম’ (Taz dar-e-haram), ২০১৫ কোক স্টুডিও (পাকিস্তান)
'তেরে সাঙ ইয়ারা’ (Tere sang yara) ২০১৬ রুস্তম (Rustom)
পানিও সা’ (Paniyo sa) ২০১৮ সাত্যামেভা জায়াতে (Satyameva jayate)
'খ্যার মাঙদা' (Khair mangda) ২০১৬ ফ্লায়িং জেট (Flying jatt)
টুটা জো কাভি তারা' (Tuta jo kavi tara) ২০১৬ ফ্লায়িং জেট (Flying jatt)
'দারাসাল" (Darasal) ২০১৭ রাবতা (Raabta)
তু চাহিয়ে’ (Tu chahiye), ২০১৭ বাজরাঙ্গি ভাইজান (Bajrangi Bhaijaan)
'মুসাফির' (Musafir) ২০১৭ সুইটি ওয়েডস এনআরআই (Sweetiee Weds NRI)
দিল দিয়া গাল্যা’ (Dil diya galyan) ২০১৭ টাইগার জিন্দা হ্যায় (Tiger zinda hay)
তেরা হুয়া’(Tera hua), ২০১৮ লাভইয়াত্রি (Loveyatri)
দেখতে দেখতে’ (Dekhte dekhte), ২০১৮ বাত্তি গুল মিটার চালু (Batti gool meter chalu)
‘দিল মেরি না সুনে’ (Dil meri na sune) ২০১৮ জিনিয়াস (Genius)
'ও সাথি' (O saathi) ২০১৮ ভাগি ২ (Bhaagi 2)
চাশনি (Chashni), ২০১৮ ভারত (Bharat)
পেহলি দাফা’ (Pehli dafa) ২০১৯ টি-সিরিজ (T-series)
পাল পাল দিল কে পাস (Pal pal dil ke paas) ২০১৯ পাল পাল দিল কে পাস (Pal pal dil ke paas)
তু মিলা (Tu mila), ২০১৯
মে তারে (Mein tare), ২০১৯
নাই লাগদা (Nai lagda) ২০১৯
জী লেন দে (Jee len de) ২০১৯
‘বারিশ’ (Baarish), ২০১৯ হাফ গার্লফ্রেন্ড (Half girlfriend)
কিন্না সোনা (Kinna sona) ২০২০ মারজাভা (Marjaavaan)
রাফতা রাফতা (Rafta rafta) ২০২০
আজনাবি (Ajnabi) ২০২১
রাত (Raat) ২০২১
পিএসএল ৭ম আসরের থিম সং (Agey dekh) ২০২২
রংরেজা (Rangreza) ২০২২ লাভার (Lover)

এছাড়াও আতিফ আসলাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছোট-বড় সিনেমা, কনসার্ট ও বিজ্ঞাপনেও অনেক গান গেয়েছেন। তাঁর বর্তমান গানের সংখ্যা ১৪৮ টিরও বেশি।

গ্যালারি

তথ্যসূত্র

  1. "Music knows no boundaries: Atif Aslam"। hindustantimes.com। ২০১২-০২-১২। ২০১০-১০-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-২৩ 
  2. "So you think you can act?"। tribune.com.pk। ২০১০-০৫-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-২৩ 
  3. "Atif Aslam Great Pakistani Pop Singer"। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৩ 
  4. "Atif Aslam Biography"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৩ 
  5. "Atif Aslam Biography"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৩ 
  6. "Atif Aslam"। ২০ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৩ 
  7. "One on one with Atif Aslam"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১১ 
  8. "Atif's magic"। ৩০ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১১ 
  9. "Atif Aslam: Music for my ears"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১১ 
  10. "One on one with Atif Aslam"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১১ 
  11. "Atif Aslam debut in Bol"mmail.com.my। ২২ অক্টোবর ২০১২। ১৬ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 

বহিঃসংযোগ