আতা ইবনে আবি রাবা (আরবি: عطاء بن أبي رباح) ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুসলিম আইনবিদ এবং হাদিস বর্ণনাকারী, তিনি সপ্তম এবং অষ্টম শতাব্দীতে মক্কার মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আতা ইবনে আবি রাবা
জন্মআনু. ২৫ হিজরি/৬৪৬ খ্রিস্টাব্দ, মুওয়াল্লাদি এল-জানাদ, ইয়েমেন, রাশিদুন খিলাফত
মৃত্যুআনু. ১১৫ হিজরি/৭৩৩ খ্রিস্টাব্দ
মক্কা, উমাইয়া খিলাফত
জাতিভুক্তনুবিয়ান
যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন
মক্কার মুফতি
উত্তরসূরীইবনে জুরাইজ

প্রথম জীবন

সম্পাদনা

আতা ইয়েমেনের মুওয়াল্লাদি এল-জানাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও প্রাথমিক জীবনী সূত্রে তার জন্মের সঠিক বছর সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে তবে এটি সাধারণত গৃহীত হয় যে তিনি উসমান ইবনে আফফানের রাজত্বের শুরুতে আনুমানিক ২৫ হিজরি বা ৬৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন একজন নুবিয়ান ঝুড়ি বয়নকারী এবং বাবা ছিলেন আসলাম নামে একজন কালো মানুষ; তাকে কালো চামড়ার এবং চ্যাপ্টা নাকযুক্ত হিসাবে বর্ণনা করা হয়। তিনি পঙ্গু ছিলেন এবং খুড়িয়ে চলতেন। যখন তিনি একটি সুস্থ চোখ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পরবর্তীতে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধত্ববরণ করেন।[১]

পণ্ডিত জীবন

সম্পাদনা

আতা মক্কায় কুরাইশ বংশের আবু খুথাইম আল-ফিহরির একজন মাওলা (আশ্রিত ব্যক্তি) হিসাবে বড় হন, সেখানে তিনি ফিকহ বিষয়ে তার দক্ষতার জন্য বিখ্যাত হওয়ার আগে কুরআন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন।[২] পরে উমাইয়ারা তাকে শহরের মুফতি নিযুক্ত করেন এবং গ্রেট মসজিদে শিক্ষা দান করেন, সেখানে তিনি তার জীবনের শেষ বছর পর্যন্ত বসবাস করেন। আতা মক্কায় অবস্থানকালে ইবনে আব্বাস, আবু হুরাইরাহ এবং জাবের ইবনে আবদুল্লাহ সহ মুহাম্মাদ (সা.) এর বেশ কয়েকজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাত করেন এবং হাদীস বর্ণনা করেন। তাঁর সবচেয়ে বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন ইবনে জুরাইজ এবং কায়েস ইবনে সাদ। ৯৩ হিজরি/৭১১ খ্রিস্টাব্দে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্দেশে তাকে মুরজিয়া সন্দেহে বন্দী করা হয়, তবে পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। জীবনী সূত্রকাররা মৃত্যু সাল সম্পর্কে একমত নন, তবে সম্ভবত তিনি ১১৫ হিজরি বা ৭৩৫ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।[১]

ব্যক্তিগত জীবন

সম্পাদনা

আতা ইবনে আবি রাবার ইয়াকুব নামে একটি সন্তান ছিল।[৩]

উত্তরাধিকার

সম্পাদনা

তাকওয়া

সম্পাদনা

জীবনীকারদের মতে আতা একজন ধার্মিক ও সৎ মানুষ ছিলেন। তিনি শুধুমাত্র সাধারণ পোশাক পরতেন, তিনি সত্তর বারের বেশি হজ্জ করেছেন এবং বার্ধক্যে উপনীত সত্ত্বেও নড়াচড়া না করে সালাতে আল-বাকারার ২০০টি আয়াত পাঠ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা যায়।[১]

ইয়াহিয়া ইবনে সাইদ আল-কাত্তানির মতো প্রারম্ভিক হাদিস বিশারদগণ আতার মুরসাল আকারে বর্ণনা করা হাদীসের সমালোচনা করেছিলেন, সন্দেহ করেছিলেন যে তিনি হয়তো তাদলিস এ জড়িত ছিলেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা তার জীবনের শেষ দিকে হ্রাস পেয়েছে। যাইহোক, তিনি সাধারণত একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হিসাবে বিবেচিত হন এবং পরবর্তীতে আহমদ ইবনে হাম্বলের মতো হাদীস সমালোচক তাকে তাদলিস থেকে অব্যাহতি দেন।[১] তার ছেলে ইয়াকুব এবং ইবনে জুরাইজ সহ আতার অনেক ছাত্র তার কাছ থেকে লিখিত আকারে হাদীস বর্ণনা করেছেন।[৪]

মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক

সম্পাদনা

আবদুর রাজ্জাকের মুসান্নাফে আতাকে প্রায়শই ইবনে জুরাইজের একজন কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হ্যারাল্ড মৎজকি এর নির্বাচিত ৩,৮১০টি বর্ণনার একটি নমুনাতে ইবনে জুরাইজের ৩৯% আতা থেকে সংযোজিত। আতা এইসব বর্ণনার মাত্র ২০% তে একটি রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন, বাকি ৮০% তার নিজ বুদ্ধিদীপ্ত। তার বর্ণনায় তিনি ১৫% মুহাম্মদ (সা.) এর সাহাবী, ১০% কুরআনের আয়াত এবং ৫% মুহাম্মদ (সা.) হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। মৎজকির মতে ইবনে জুরাইজ আতার বর্ণনা বিশ্বস্ততার সাথে পুনরুত্পাদন করার চেষ্টা করেছেন এবং সংকলনে বানোয়াট লক্ষণের অভাব ছিল।[৫]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. Motzki, Harald (২০০২)। The Origins of Islamic Jurisprudence: Meccan Fiqh Before the Classical Schools। Katz, Marion H. কর্তৃক অনূদিত। Brill। পৃষ্ঠা 246–262। 
  2. Motzki, Harald (২০০৯-০৬-০১)। "ʿAṭāʾ b. Abī Rabāḥ"Encyclopaedia of Islam, THREE (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৩ 
  3. "'Ata' bin Abi Rabah عطاء بن أبي رباح"muslimscholars.info। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-০৩ 
  4. al-Azami, Muhammad Mustafa (১৯৭৮)। Studies in Early Hadith Literature: with a critical edition of some early texts। Indiapolis, Indiana: American Trust Publications। পৃষ্ঠা 80। 
  5. Motzki, Harald (১৯৯১)। "The Muṣannaf of ʿAbd al-Razzāq al-Sanʿānī as a Source of Authentic Aḥādīth of the First Century A. H."Journal of Near Eastern Studies50 (1): 1–21। আইএসএসএন 0022-2968