আত্তাব ইবনে আসিদ (আরবি: عتاب بن أسيد; ৬১০–৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ) মুহাম্মাদের একজন প্রসিদ্ধ সাহাবা ছিলেন।[১] যিনি মুহাম্মাদের অবর্তমানে মদিনার গভর্নরের কাজ করার পাশাপাশি উমরের খিলাফতকালে গভর্নর নিযুক্ত ছিলেন।[২][৩]

নাম ও পরিচয়

সম্পাদনা

আত্তাব ইবনে আসিদ আনুমানিক ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। আততাব ইবনে আসিদ ইবনে আবিল ঈস ইবনে উমায়া ইবনে আবদে শামস ছিল তার বংশাক্রমানুক নাম এবং তিনি উমাইয়া বংশােদ্ভূত ব্যক্তি ছিলেন। তার উপনাম আবু মুহাম্মাদ বা আবু আবদুর রহমান। তার পিতার নাম ছিল আসিদ ইবনে আবিল ও তার মাতার নাম ছিল যায়নাব বিনতে আমর ইবনে উমায়া।[৪][৫][৬]

আত্তাব ব্যক্তিগত জীবন খুব অনাড়ম্বর ছিল। তাবারানীর বিবরণ অনুযায়ী ‘আততাব ২১ হিজরি ৬৪৩ সালেও দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমার কর্তৃক নিযুক্ত গভর্নর ছিলেন।[৭] তাবারীও তার তারীখে বইয়ে “উমর ইবনুল খাত্তাবের গভর্নরগণের তালিকায় 'আত্তাব ইবনে আসিদের নাম উল্লেখ করিয়াছেন।[৭] তিনি ব্যক্তিগত জীবনে আবু জেহেলের কন্যা জুওয়াইরিয়া বিনতে আমর ইবনে হিশামকে বিয়ে করেন। এই মেয়েকে আলীও বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আততাবের এই স্ত্রীর গর্ভে আবদুর রহমান ইবনে আত্তাব নামে একটি ছেলে জন্মগ্রহণ করেছিল।[৮][৯][১০]

ইসলাম গ্রহণ ও দায়িত্ব পালন

সম্পাদনা

আত্তাব ইবনে আসিদ মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। মুহাম্মাদ ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে তায়েফের দিকে হুনায়ন অভিযানে যাওয়ার সময় আত্তাবকে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করে যান। এক ইতিহাসবিদ বলেন, মুহাম্মাদ মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার সময় তাকে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন।[১১] আনাস ইবনে মালিক বলেন, তার এই গভর্নর নিযুক্তে কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিল, কেননা আততাব চারিত্রিক দিক থেকে প্রচণ্ড কঠোর ছিলেন।[১২][১৩]

তিনি ৮ম হিজরীতে মক্কায় হজ্জেরও ইমামের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। উক্ত পদে নিযুক্তিকালে আততাব ইবনে আসিদের বয়স ২০ বসরের কিছু অধিক ছিল।[১৪] তিনি এই পদে পরবর্তীকালেও বহাল ছিলেন।[১৫][১৬]

চরিত্রের দিক

সম্পাদনা

আততাব ইবনে আসিদের চরিত্রে খুব কঠোরতা ছিল, তিনি সন্দেহবাদীদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করিতেন পক্ষান্তরে প্রকৃত ঈমানদারের প্রতি অত্যন্ত কোমল ছিলেন।[১৭]

আততাব একজন কট্টর বেদুঈন ছিলেন, পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে, মুহাম্মাদকে সর্বদা ইসলামী দাওয়াতি কাজে সহয়তা করেছেন।

মুহাম্মাদ তার সম্পর্কে বলেছেন, “আমি আত্তাবের মধ্যে একজন স্বপ্নদ্রষ্টার অনুরূপ দেখিতে পাইতেছি, ‘আত্তাব জান্নাতের দ্বারে উপস্থিত হয়ে দরজায় কড়া নাড়িল আর তখনই ওটা উন্মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর আত্তাব জান্নাতে প্রবেশ করল।”

মৃত্যু

সম্পাদনা

ওয়াকিদীর বর্ণনামতে, যেইদিন প্রথম খলিফা আবু বকর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন সেই দিনই আত্তাব ইবনে আসিদও মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাবারানীর বিবরণ অনুযায়ী তিনি উমরের আমলে ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।[৭][১৮]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. ইসলামী বিশ্বকোষ (১ম খন্ড)। পৃষ্ঠা ২৭৬। 
  2. ইবনে সা'দ, তাবাকাত, বৈরূত ১৩৮৮/ ১৯৬৮, ২খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৪৫। 
  3. ইবনে সা'দ, তাবাকাত, বৈরূত ১৩৮৮/ ১৯৬৮, ৩খণ্ড। পৃষ্ঠা ১৮৭। 
  4. ইবনে সা'দ, তাবাকাত, বৈরূত ১৩৮৮/ ১৯৬৮, ৫খণ্ড- ৪৪৬ 
  5. ইবনুল-আছির, উসুদুল গাবা, তেহরান ১২৮৬ হি, ৩খণ্ড- ৩৫৮-৫৯ 
  6. ইবনে কুতায়বা, উয়ুনুল আখবার, ২খণ্ড-৫৫ 
  7. তাবারী, নির্ঘণ্ট 
  8. ইবনে হাজার, আল ইসাবা, বাগদাদ ১৩২৮ হি, ২খণ্ড- ৪৫১; সংখ্যা ৫৩৯১ 
  9. E.I2 -751 
  10. বালাযুরী, আনসাব, ৪খণ্ড- ১৫০ 
  11. (ইবন সা'দ, ২খণ্ড- ১৪৫) 
  12. মুসআব আয-যুবায়রী, নাসাব কুরায়শ, নির্ঘণ্ট 
  13. নাওয়াবী, তাহযীব- ৪০৫ 
  14. (আল ইসাবা, ২খণ্ড- ৪৫১) 
  15. ইবন কুতায়বা, মা'আরিফ, কায়রাে ১৩৫৩/১৯৩৪, পৃষ্ঠা- ১২৩ 
  16. মুহাম্মাদ ইবনে হাবিব, মুহাব্বার, নির্ঘন্ট 
  17. ইবনে কুতায়বা, উয়ুনুল আখবার, ১খণ্ড- ২৩০ 
  18. আল-মাসউদি, ১খণ্ড- ৫৪