প্রধান মেনু খুলুন

অ্যাজটেক কারা এবং তারা বাস করত কোথায়?

অ্যাজটেক সভ্যতা হল মেসোআমেরিকার সভ্যতা। এখন মেসোআমেরিকার মানে ব্যাখ্যা করি। মেসোআমেরিকার মানে কলম্বাসপূর্ব সময়ের মধ্যআমেরিকার অংশ -যেখানে মায়া অ্যাজটেক প্রভৃতি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এ কারণেই মেক্সিকোর অ্যাজটেক সভ্যতা মেসোআমেরিকার অর্ন্তগত।


মেক্সিকো অঞ্চল ছিল অ্যাজটেক জাতিদের বসবাস।তারা প্রথমদিকে যাযাবর জাতি ছিল।১৩৪৫ সালে তারা নতুন বসতি স্থাপন করে লেক টেক্সকোকোর এক ছোট্ট দ্বীপে।এখানে ক্রমে তারা যে নগর গড়ে তোলে তার নাম টেকনোটিটলান।

সমাজ ও অর্থনীতিঃ

অ্যাজটেক সাম্রাজ্যে বেশ কয়েকটি সমৃদ্ধ নগর গড়ে ওঠেছিল।এখানে ভূমির মালিকানা ছিল বিভিন্ন গোত্রের হাতে।স্থানীয় গোত্রগুলিকে বলা হত কাপুলি।কর হিসেবে গোত্রগুলি সম্রাটকে দিত কৃষিজ জমি।জমিতে সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান এসব ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা দেখাতে পেরেছিল তারা।সবজি টমেটো, বিন, লাউ প্রভৃতি কৃষকেরা উৎপাদন করতে পারত।

কারিগরি শিল্পঃ

অ্যাজটেক বেশ কয়েক ধরণের কারিগরি শিল্পের বিকাশ ঘটিয়েছিল।তারা উন্নত বস্ত্র তৈরি করতে পারত।তারা চমৎকার মৃৎপাত্র তৈরি করতে পারত।তাতে দেওয়া হত বিচিত্র রঙ।তামা এবং ব্রোঞ্জ দিয়ে তারা অনেক দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করতে পারত।মেক্সিকোর রত্নশিল্পীগণ সোনা, রোপা ও অন্যান্য ধাতু দিয়ে চমৎকার অলংকার বানাতে পারত।

চিত্রকলা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যঃ

অ্যাজটেকরা বিচিত্র বর্ণে মৃৎ পাত্রের বুকে ছবি আঁকত। এসব ছবিতে তারা ফুল, লতাপাতা, পশুর ছবি তুলে ধরত।

অ্যাজটেকরা বিশেষ ধরণের পিরামিড তৈরি করতো।টেনোকটিটলান নগরীতে এ ধরণের ঐশ্বর্যশালী পিরামিড ও ধর্মমন্দিরের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।এর বেশিরভাগই ছিল সর্পমূর্তি।

ধর্মবিশ্বাসঃ

অ্যাজটেকরা বহু দেবতাতে বিশ্বাস করতো।সূর্য ছিল প্রধান দেবতা।তাকে যুদ্ধের দেবতাও ভাবা হতো।কৃষকদের কাছে সবচেয়ে বেশি সম্মান পেতেন বৃষ্টির দেবতা টিললিক।চিত্রকলা ও কারিগরি শিল্পের নিয়ন্ত্রক ছিলেন দেবতা কোয়েটজালকুয়েটল।ধর্মীয় কাজের অংশ হিসেবে প্রতি মাসের শেষে তারা সঙ্গীত, নৃত্য ও শোভাযাত্রার আয়োজন করতো।এ সময়ে তারা বন্দিদের দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলিদান করতো।খ্রিষ্ট ধর্মের প্রভাবে স্প্যানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে এসব প্রথা বন্ধ হয়।