অবলা বসু (৮ই এপ্রিল, ১৮৬৪ - ২৬শে আগস্ট ১৯৫১) একজন ভারতীয় সমাজ সংস্কারিকা ছিলেন, যিনি নারী শিক্ষার প্রসার ও বিধবাদের জীবনযাপন উন্নত করার চেষ্টার জন্য পরিচিত।[১]

অবলা বসু
Lady Abala Bose.jpg
জন্ম৮ এপ্রিল ১৮৬৪
মৃত্যু২৬ আগস্ট ১৯৫১(1951-08-26) (বয়স ৮৭)
দাম্পত্য সঙ্গীজগদীশচন্দ্র বসু

প্রথম জীবনসম্পাদনা

অবলা বসু বিখ্যাত ব্রাহ্ম সমাজ সংস্কারক দুর্গামোহন দাশের কন্যা ছিলেন। তার ভ্রাতার নাম ছিল সতীশ রঞ্জন দাশ এবং ভগিনীর নাম ছিল সরলা রায়। অবলা বসু কলকাতা শহরে অবস্থিত বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় এবং বেথুন স্কুলের প্রথম ছাত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। নারী হওয়ার কারণে তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারেননি বলে তিনি ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে মাদ্রাজ শহরে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য যাত্রা করেন, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি শিক্ষা সম্পন্ন না করেই ফিরে আসেন। ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়।[১]

পরবর্তী জীবনসম্পাদনা

অবলা বসু নারী শিক্ষার প্রসার ও বিধবাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নারী শিক্ষা সমিতি নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সংগঠন মহিলাদের জন্য মুরলীধর মহাবিদ্যালয় এবং বিভিন্ন গ্রাম্য এলাকায় প্রায় দুইশতটি বিদ্যালয় স্থাপন করে।[২] এই সমস্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে তিনি বিদ্যাসাগর বাণী ভবন, মহিলা শিল্প ভবন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে বিধবাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের শিক্ষিত করা হতো। এছাড়া এই সংগঠনের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক রচনা এবং শিশু ও মাতার স্বাস্থ্যরক্ষা ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করা হত। স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি ভগিনী নিবেদিতার নারী শিক্ষার প্রকল্পে এক লক্ষ টাকা দান করেন। ১৯১০ থেকে ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ব্রাহ্ম বালিকা শিক্ষালয়ের সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেন। [১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, ১৯৭৬, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান প্রথম খণ্ড, আইএসবিএন ৮১-৮৫৬২৬-৬৫-০, প্ররীষ্ঠা ২৩
  2. Ray, Bharati, Women in Calcutta: the Years of Change, in Calcutta The Living City Vol II, edited by Sukanta Chaudhuri, Oxford University Press, first published 1990, paperback edition 2005, pp36-39, আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৩৬৯৭-X.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

সাউথ এশিয়ান আমেরিকান ডিজিটাল লাইব্রেরিতে অরলা বসু সম্পর্কিত তথ্য

টেমপ্লেট:দাস পরিবার