প্রধান মেনু খুলুন

অপারেশন বাওয়ারিয়া ছিলো ১৯৯৬-২০০৫ সালে দক্ষিণ ভারতের জাতীয় রাজপথের কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় সংগঠিত ডাকাতি, হত্যা ও লুটপাটের বিরুদ্ধে অভিযান।বাওয়ারিয়া গ্যাং একাধিক রাজ্যে অপরাধে জড়িত ছিল। তারা লরি গ্যাং নামেও পরিচিত ছিল।

অপারেশন বাওয়ারিয়া ডাকাতি মামলা
তারিখ৯ জানুয়ারি ২০০৫
অবস্থানতামিল নাডু, অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি, কর্নাটক, পাঞ্জাব, হারিয়ানা
মৃত্যু১৮ ( গুম্মিদিপুন্দি এমএলএ সুদর্শন,কংগ্রেস নেতা ঠালামুথু নাতারাজান, ডিএমকে নেতা গাজেন্দ্রান সহ)
আহত৬৪
দোষী সাব্যস্তউমা বাওয়ারিয়া(মৃত্যুদণ্ড)

কে লক্ষণ উরফে আশোক বাওয়ারিয়া (মৃত্যুদণ্ড)
বসুরা বাওয়ারিয়া(এনকাউন্টার)
বিজয় বাওয়ারিয়া(এনকাউন্টার)

[১]
রায়দোষী
দোষী প্রমাণিতখুন, লুটপাট, ডাকাতি, হামলা

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাসসম্পাদনা

গুম্মিদিপুদ্দি এমএলএর হত্যাকান্ডের পর তামিল নাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটকের মহাসড়কের আশেপাশে আবাসিক এলাকায় ডাকাতি করা ডাকাতদের ধরতে এই অভিযান চালু করা হয়।

কংগ্রেস নেতা ঠালামুথু নাতারাজান, ডিএমকে নেতা গাজেন্দ্রান সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের হত্যার এবং ডাকাতির প্রধান সন্দেহভাজন ছিল।দলটি ট্রাকে করে উত্তর থেকে দক্ষিণে মালামাল স্থানান্তরের সময় ধনী ব্যাক্তিদের বাড়িতে হামলা করতো। শ্রীরামুম্বুদুরে, তারা একজন স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে এবং ডাকাতির সময় তার বাবা-মাকে আহত করে। প্রায় ২০০ টি ডাকাতি মামলায় জড়িত থাকার জন্য নয়টি রাজ্যের পুলিশ তাঁকে খুজছিলো।তার সাম্প্রতিক ডাকাতি মধ্যে একটিতে এআইএডিএমকেএর এমএলএ সুদর্শনসনাকে গুলি করে হত্যা এবং তার বাড়ি লুট করা হয়েছিল।[২]

তদন্তসম্পাদনা

২০০৪ সালের জানুয়ারিতে গামিদিপুন্ডি থেকে এআইএডএমকে বিধানসভা কেন্দ্রীয় নেতা সুদর্শনসনা হত্যার পর বাওয়ারিয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।[২] তামিলনাড়ু, কর্ণাটকঅন্ধ্রপ্রদেশের জাতীয় সড়কের কাছাকাছি ধনী বাড়িতে যখন সশস্ত্র ডাকাতরা হামলা দিচ্ছিল, তখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়রাম অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পুলিশের মহাপরিচালক এস আর জঙ্গীদ ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় অরোরা তদন্তের জন্য একটি দলকে নেতৃত্ব দেন। তদন্ত শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরে দলটি মোডাস অপারেন্ডির সাথে গ্যাংয়ের আঙুলের ছাপ মেলান।তারা ধারণা করেছিল যে ভারতের বিভিন্ন অংশে খুনগুলো একই গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। দলটি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিলো।

গ্রেফতারসম্পাদনা

নির্দিষ্ট তথ্য অনুসরণ করে, দলটি প্রাথমিক পর্যায়ে কনৌজে একটি বাড়িতে আক্রমণ করে। ইউ.পি. বিশেষ টাস্ক ফোর্সের সহযোগিতায় তারা বাওয়ারিয়া ও তার স্ত্রী বেনা দেবীকে আটক করেছিল,তখন তারা কাছাকাছি একটি বড় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।তারা পাল্টা হামলা করলেও পুলিশ দম্পতিকে আটক করে এবং তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে যায়।পুলিশ সূত্র জানায়, দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জানুয়ারী ২০০৫ থেকে শুরু করে, দলটি তাদের ব্যবহৃত চার ট্রাকসহ দেশের বিভিন্ন অংশে দশ বাওয়ারিয়ার গ্যাং সদস্যকে আটক করে। গ্রেফতারের পর উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলিতে কোন ডাকাতি মামলা হয়নি।

পরবর্তী আট বছরে দলটি অপরাধীদের খুজে এবং অবশেষে তারা রাজস্থানে অবশিষ্ট গ্যাং সদস্যকে খুঁজে পায়।

চলচ্চিত্রেসম্পাদনা

২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, এইচ. বিনোথ পরিচালিত তামিল থিরান অধিগারাম অন্ধ্রু চলচ্চিত্রটি এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিলো।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা