অনিমেষ রায় একজন বাঙালি সিস্টেমস জীববিজ্ঞানী। তিনি কেক গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটে গণনীয় জীববিদ্যা এবং আণবিক জীববিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক।[১]

অনিমেষ রায়

কর্মক্ষেত্রসিস্টেমস জীববিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠানরচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়

কেক গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো

হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়

সান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান ডিয়েগো

ক্লেরমন্ট গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি

ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি
প্রাক্তন ছাত্রপ্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়, (এম.এসসি)

মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়, (পিএইচ.ডি.)

ইউনিভার্সিটি অব অরেগন, ইউজিন, (পোস্টডক)

ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, (পোস্টডক)
শিক্ষায়তনিক উপদেষ্টাবৃন্দফ্রাঙ্কলিন ডাব্লিউ স্টাহল
ইথান সিগনার

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

অনিমেষ রায় কলকাতার এক শহরতলিতে জন্মগ্রহণ করেন, যা অতীতে ভারতের ফরাসি উপনিবেশ ছিল। তাঁর পিতা-মাতা উভয়ের পূর্বসূরির বাড়ি পূর্ব বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) অবস্থিত। তিনি একটি বাংলা মাধ্যম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতায় ভর্তি হন। স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্য প্রতিষ্ঠিত স্কুল অব লাইফ সায়েন্স হতে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবাণুর জিনতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচ.ডি. অর্জন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি একজন পোস্টডক্টোরাল গবেষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অরেগন, ইউজিনের ইনস্টিটিউট অব মলিকুলার বায়োলজির অধ্যাপক ফ্রাঙ্কলিন ডাব্লিউ স্টাহলের গবেষণাগারে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৯-১৯৯১ সালে ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক ইথান সিগনারের পরীক্ষাগারে পোস্টডক্টোরাল ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত একজন সহকারী অধ্যাপক এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত একজন সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তিনি রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ২০০১ সালে তিনি কেক গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোতে অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর ছিলেন এবং তৎকালে তিনি রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসরও ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজি এবং হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা করছেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি কেক গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের পিএইচডি প্রোগ্রাম এবং সেন্টার ফর নেটওয়ার্ক স্টাডিজ উভয়ের ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ২০০৯ সাল থেকে তিনি সেন্টার ফর কম্পিউটেশনাল সায়েন্সস, সান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান ডিয়েগো এবং ক্লেরমন্ট, ক্যালিফোর্নিয়াতে অবস্থিত ক্লেরমন্ট গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ ম্যাথমেটিকাল সায়েন্সেসের অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর হিসেবে পাঠ দান করছেন।[১] বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে একজন ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবেও কর্মরত আছেন।[২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

১৯৮৫ সাল থেকে অনিমেষ রায় ডিএনএ রিকম্বিনেশন পদ্ধতি অধ্যয়ন করছেন। ১৯৮৯ সালে অনিমেশ রায় স্যাকারোমাইসেস সেরেভিসিয়ার এইচআইএস৩ জিন ব্যবহার করে ডিএনএ ডাবল স্ট্র্যান্ড ব্রেক দ্বারা প্রবর্তিত হোমোলোগাস রিকম্বিনেশন পদ্ধতির ওপর নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তাঁর প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায় যে, ঈস্টের ক্রোমোজোমগুলো ডিএনএ রিকম্বিনেশনের সময় ডাবল চেইন ব্রেক তৈরি করে।[৩]

সম্মাননাসম্পাদনা

১৯৯৩ সাল থেকে অনিমেষ রায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। ২০০৯ সালে অনিমেষ রায় এবং আলি নাদিম ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে ১০০,০০০ মার্কিন ডলার গবেষণা অনুদান লাভ করেন।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "অনিমেষ রায়"। কেক গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. "অনিমেষ রায়"। লিংকড ইন। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২০ 
  3. অনিমেষ রায়; নেথান মেচিন; ফ্রাঙ্কলিন ডাব্লিউ স্টাহল (১৯৮৯)। "এ ডিএনএ ডাবল চেইন ব্রেক স্টিমুলেটস ট্রাইপ্যারেন্টাল রিকম্বিনেশন ইন স্যাকারোমাইসেস সেরভিসিয়া"প্রোসিডিংক্স অব দ্যা ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স। ৮৬ (১৬): ৬২২৫–৬২২৯। ডিওআই:10.1073/pnas.86.16.6225পিএমআইডি 2668958পিএমসি 297810  
  4. "কোষের ওপর গবেষণার জন্য কেজিআই অধ্যাপক অনিমেষ রায়ের এনএসএফ অনুদান লাভ"। কেক গ্রাজয়েট ইন্সটিটিউট। ১৭ আগস্ট ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৬ [অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা